১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই: তারেক রহমান

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য ‘আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার’।

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই: তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 08:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

বিএনপি সরকার ‘জবাবদিহিমূলক’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার এক বাণীতে তিনি বলেছেন, এই দিনটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য ‘আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার’।

তারেক রহমান বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।”

তিনি বলেন, “সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।”

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।” 

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন তারেক রহমানের বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

সেই পটভূমি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

“নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।”

জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, আমি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।”

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।”

তারেক রহমান বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

“বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।”