১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এই সংসদে কোনো ভিন্নমত তোলা যায় বলে মনে হয়নি: রুমিন

স্বতন্ত্র এ সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রতি সম্মান দেখাতে বলেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 07:44 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

জাতীয় সংসদে ভিন্নমত প্রকাশ করতে গিয়ে ‘অকথ্য ভাষায় গালাগালির’ শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেন, আগের দিনের অভিজ্ঞতার পর তার মনে হয়েছে, এই সংসদে ‘ডিসেন্ট ভয়েস’ বা ভিন্নমত তোলা যায় না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলের আলোচনায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

এর আগের দিন ব্যাংক রেজুল্যশন (সংশোধন) বিলের আলোচনায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সংসদে হইচই হয়।

সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকাল আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ‘ডিসেন্ট ভয়েস রেইজ’ করা যায় বলে আমার মনে হয়নি।”

এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, “আমি কথা বলার পরে সংসদে যে ধরনের আচরণ আমি লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না।”

তার কথার পাল্টা জবাব থাকলে অন্য সদস্যরা দাঁড়িয়ে তা বলতে পারতেন, বলেন তিনি।

এরপর সংসদে গালাগালির অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, “শুধু তাই নয়, মাননীয় স্পিকার, এই মহান সংসদে আমারই আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।”

এ সময় সংসদে হইচই হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের থামার ইঙ্গিত দেন।

রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংসদে বাকস্বাধীনতার পক্ষে তিনি। 

“সরকারি দল বা বিরোধী দলের কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া উচিত নয়।”

স্পিকার বলেন, আগের দিন যা হয়েছে, তা পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। রুমিনের বক্তব্যের প্রতি সম্মান দেখানোর কথাও বলেন স্পিকার।

এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এই সদস্য বলেন, “একটা সংসদে সরকারি দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, সংসদে স্বতন্ত্র নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও থাকবে। একেকজনের একেক রকম মত থাকতে পারে। সেটা প্রকাশ করার স্বাধীনতা প্রত্যেকের থাকা উচিত।”

২০১৮ সালের সংসদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন আওয়ামী লীগের সংসদে একা দাঁড়িয়ে বিএনপির পক্ষে কথা বলেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “এরপরে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে ভোটের মাধ্যমে সরকার আনলাম, সেখানে ন্যূনতম পরিবর্তন না হলে এ সংসদে বিরোধী দল সেজে ‘না’তে ভোট দেওয়ার জন্য থাকবার কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না।”

এরপর র‍্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যেও র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল।

র‍্যাবের জায়গায় নতুন বাহিনী গঠন শুধু নাম বা পোশাক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, “নতুন যে সংস্থা আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি যেন কেবলমাত্র পোশাক পরিবর্তনের মতো নাম পরিবর্তনে সবকিছু পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা না হয়।”

এ সময় স্পিকার তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) বিল ইতোমধ্যে পাস হয়েছে এবং তখন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিগত দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, “নানানভাবে মানুষকে হেনস্তা হতে দেখেছি, মানুষকে নির্যাতিত হতে দেখেছি, ভীত হতে দেখেছি। ভবিষ্যতে আমরা এরকম আর কোনো সংস্থার আচরণ চাই না।”

রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে দলীয় ও অন্য প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

“বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। আমি আশা করব, অন্তত এই সংসদে যারা উপস্থিত আছেন, যেই দলগুলো উপস্থিত আছে, তারা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে,” বলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “বাহিনীগুলোকে সেটা পুলিশ বাহিনী হোক, র‍্যাব হোক কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী হোক, তারা যাতে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে, দলীয়করণমুক্ত হয়ে, প্রভাবমুক্ত হয়ে যার যার মতো কাজ পরিচালনা করতে পারেন, সেই ব্যাপারটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে, সরকার দেখবে, আমি আশা করব।”

রুমিনের বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের জবাব দিতে তিনি রাজি নন।

তিনি বলেন, “আমিও মাননীয় কোনো সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের কোনো প্রাসঙ্গিক জবাব দিতে রাজি না।”

আগের দিনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর একটি বিল নিয়ে আলোচনায় বিলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন বিষয় উঠে এসেছিল। সে কারণেই সংসদে প্রশ্ন উঠেছিল।