Published : 04 Sep 2026, 03:41 PM
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে শনিবার যে ‘লং মার্চ’ হতে যাচ্ছে, তাতে ‘প্রশাসনিক সহযোগিতা’ চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্য।
শুক্রবার এক ব্রিফ্রিংয়ে এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারে গঠনের পর বিরোধীদল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধীদল এখনো নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।
“সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে।”
ব্রিফিংয়ের আগে শনিবারের ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লং মার্চ’ নিয়ে বৈঠক করেন জামায়াত জোটের লিঁয়াজো কমিটির নেতারা।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে লং মার্চের সবশেষ প্রস্তুতি, উদ্বোধনী সমাবেশসহ নানা বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করেন নেতারা।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, এ বি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন।
মগবাজারের জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে কর্মসূচি নিয়ে জোটের অবস্থান তুলে ধরেন লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “যদি সরকারের কোনো দল বা কেউ লং মার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাচ্ছেন, আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখোমুখি হবে।”
গোলাম পরওয়ার বলেন, “এরকম কোনো অপরিণামদর্শী পথে সরকার ও সরকারি দলের কেউ পা বাড়াবে না।”
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ‘লং মার্চ’ করবে জামায়াত জোট।
এ কর্মসূচির সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লং মার্চের বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে তারা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছেন।
যদিও বৃহস্পতিবার শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, “লং মার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি নেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি সংকট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে সেই সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে।”
শুক্রবার দুপুরে করা ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে হবে পথসভা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা শেষে লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে প্রমাণিত হোক বিরোধীদল ও সরকারি দলের পরমত সহিষ্ণুতা রয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা যে ছিল, সেই নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছি।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছি না। নিরাপদ শান্তিপূর্ণ লং মার্চে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো কারণ নেই।”
গত ৬ অগাস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের শীর্ষ নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লং মার্চ শেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।