Published : 09 Aug 2026, 07:42 PM
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া চাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “আজকে মূল যে কারণে আমার এখানে আসা, যেটা সংসদ সদস্যও বলেছেন, প্রথমত আমি যে ওয়াদাটা করেছিলাম হুজুরের কাছে, সেই ওয়াদাটা আমি আজকে রক্ষা করলাম, হুজুরকে সালাম দিলাম এবং যাওয়ার সময় আমি দোয়া নিয়ে যেতে চাই যাতে যে কথাগুলো আমরা দেশের মানুষকে বলেছি, যে প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা দেশের মানুষকে দিয়েছি—তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, আল্লাহ যাতে আমাদেরকে রহমত করেন, সেই প্রতিশ্রুতি যাতে আমরা রক্ষা করতে পারি।
“আমরা যদি একজন মুসলমান হিসেবে বিবেচনা করি নিজেকে, তাহলে সেটা যে-ই হোক, যখন আমরা একটা জবান দিই কাউকে, সেই জবানটা আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে, তাই না? জবান যদি রক্ষা করতে না পারি, তাহলে তো আর কাজটা ঠিক হলো না।”
রোববার বিকালে ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সরকারপ্রধান।
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চেয়েছি এবং একই সাথে আমি হুজুরের কাছে দোয়া চেয়েছি যাতে আল্লাহ আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, এই দায়িত্ব যাতে আমি ঈমানের সাথে পালন করতে পারি, আমার শেষ দিন পর্যন্ত।”
দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা ’৯১ সালে দেখেছি, আমরা ’৯৬ সালে দেখেছি, এমনকি বিগত নির্বাচনের সময়ে আপনারা দেখেছেন যে- যাদের বিরুদ্ধে বা যারা দেশটাকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, আমরা এবং আপনারা একসাথে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে আমরা নির্বাচনে কাজ করেছিলাম। খেয়াল করে দেখবেন গত কয়েকদিন ধরে এরা আবার কতগুলো কথা, বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে তারা।
“সেজন্য বলছি যে- আমরা যে একসাথে কাজ করছি, দেশটাকে সঠিক রাখার চেষ্টা করছি; এখানে আমরা দুই বছর আগে যেমন একসাথে কাজ করেছি, হুজুরের (হেফাজত আমির) দোয়া নিয়ে আমি বলতে চাই, অনুরোধ জানাতে চাই যে—আগামী দিনগুলোতেও আমাদেরকে একসাথে থাকতে হবে।”
কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি জানি এখানে কিছু দাবি স্থাপন করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাহেব, উনি কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমরা পর্যায়ক্রমে চেষ্টা করব। আমাদেরকে বুঝতে হবে...
“এদেশে তো আরও অনেক মানুষ বাস করে। আমরা চাই এমন একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের সন্তানেরা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকতে পারবে এবং বিভিন্ন বিভিন্ন মানুষ একসাথে শান্তিতে থাকব।”
সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা আমাদের ধর্ম পালন করব, তারা তাদের ধর্ম পালন করবে। কিন্তু একই সাথে এখানে অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের, এখানে ইসলাম ধর্ম হিসেবে এখানে ইসলামকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব, দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশাল্লাহ।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমাদেরকে দেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে হবে, মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে, শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ আমাদেরকে ঠিক করতে হবে, বিভিন্ন জায়গায় ব্রিজ-কালভার্ট ঠিক করতে হবে।
“দেশে যদি বিশৃঙ্খলা থাকে বা বিরাজ করে, তাহলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী যারা বিনিয়োগ করতে চায়, তারা বিনিয়োগ করতে আসবে না। আর বিশৃঙ্খলা যদি না থাকে, বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করবে।
“তাহলে আমাদের সন্তানরা, আমাদের পরিবারের সমস্যারা চাকরির সুযোগ পাবে। দেশের মানুষের ব্যবস্থা করলে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবেন; এটা আমাদের দায়িত্ব যে দেশের মানুষের ভালো থাকার ব্যবস্থা করা।”
শেষে মোনাজাতে হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “ইয়া আল্লাহ, যারা দুশমনি করেন, ইয়া আল্লাহ তৌফিক দেন উনারা নিজেরা যাতে হেদায়েত পান। আর হেদায়েত না পাইলে যারা দুশমনি করে, হিংসা করে ইয়া আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত...ইয়া আল্লাহ আমাদের হেফাজত করো। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ইয়া আল্লাহ হেফাজত করো।”
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।