Published : 12 Dec 2023, 08:50 AM
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরে শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় সাত গুণ। পাশাপাশি বেড়েছে ঋণের দায়।
বছরে তিনি প্রায় ৩৭ লাখ টাকা আয় করেন কৃষি থেকে, যদিও তিনি নিজে ৪ লাখ টাকার কৃষি জমির মালিক।
নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে নওফেলের আয়, সম্পদ ও দেনার এসব তথ্য মিলেছে।
২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচন করে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে নওফেল। প্রধানমন্ত্রী তাকে দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব।
এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে প্রার্থী করেছে নওফেলকে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় নওফেল তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৯২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৬ টাকা, যার মধ্যে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণই ৯ কোটি ৯২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৬ টাকা।
পাশাপাশি স্ত্রীর নামে ১ কোটি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৯ টাকার সম্পদ তিনি দেখিয়েছেন, যার মধ্যে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪১৯ টাকা।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওফেল ১ কোটি ৬১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩১ টাকার সম্পদ দেখিয়েছিলেন হলফনামায়। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ছিল তখন ৫৯ লাখ টাকা। যেখানে স্বামী-স্ত্রী কারো নামেই কোনো স্থাবর সম্পদ ছিল না।
এবার নিজের নামে ৪ লাখ টাকার কৃষি জমি এবং ১ কোটি টাকার দালান; স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ টাকার দালানের তথ্য দিয়েছেন হলফনামায়।
পেশায় আইনজীবী নওফেল ২০১৮ সালে তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৫০ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা। আর ব্যবসা থেকে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয় দেখিয়েছিলেন সাত লাখ টাকা।
এছাড়া শেয়ার বাবদ ৩৭ লাখ, পেশা থেকে ৭ লাখ ২ হাজার ৬৩৯ এবং অন্যান্য খাত থেকে ৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৬১ টাকা আয়ের তথ্য তিনি সে সময় হলফনামায় দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালে নওফেলের নিজের বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে ৭৯ লাখ ২৮ হাজার ৭২৮ টাকা। তবে তার ওপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তির আয় হলফনামায় উল্লেখ করেননি এবার।
শিক্ষা উপমন্ত্রী ২০১৮ সালে তার নির্বাচনী হলফনামায় কোনো কৃষি জমি বা এ খাতের কোনো আয় তথ্য দেননি। এবার তিনি ৪ লাখ টাকার কৃষি জমির মালিকানার কথা বলেছেন। আর কৃষি থেকে আয় দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ টাকা, যা তার সর্বোচ্চ আয়ের উৎস।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নওফেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার বাবার আমল থেকেই আমাদের ‘শেখ ফরিদ চশমা ডেইরি খামার’ আছে। সেটা এখনো আছে। বাবার মৃত্যুর পর আমার ছোট ভাই সেটা দেখাশোনা করে। সারা বছর সেখান থেকে দুধ বিক্রি হয়। তাছাড়া প্রতি বছর কোরবানিতে সেখান থেকে গরুও বিক্রি করা হয়। পরিবারের একজন হিসেবে আমিও এর অংশীদার”
আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করলে নওফেল বলেন, “আমি বিদেশে থাকাকালে ল’ ফার্মে কাজ করেছি। সেই টাকা পরে পেয়েছি । এছাড়া জাইকাসহ বিভিন্ন সংস্থায় আগে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেছি। সেই অর্থও এসেছে। গত ৫ বছর এসব কাজ করতে পারিনি। আগামীতে আয় কমবে।
“বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পদ বণ্টন হয়েছে। সেখান থেকে আমি কিছু সম্পত্তি পেয়েছি। আমার ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ আছে। ওই ঋণের টাকায় ফ্ল্যাটের দাম পরিশোধ করেছি ও রেজিস্ট্রেশন করেছি। আমার সকল আয় ও সম্পদ প্রদর্শিত।”
নওফেল নিজের পেশা থেকে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ১০৮ টাকা, চাকরি থেকে ১০ লাখ ৩৮ হাজার এবং অন্যান্য খাত থেকে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ১৭০ টাকা আয় দেখিয়েছেন এবার।
২০১৮ সালে দেয়া হলফনামায় নওফেল নিজের কাছে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ৩০ লাখ টাকা, আর স্ত্রীর কাছে ছিল ১৫ লাখ টাকা।
এবার তার হাতে ৩২ লাখ ৫০ হাজার ৯৪ টাকা ও বিদেশীনী স্ত্রীর হাতে ২৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫০৯ টাকার, পাশাপাশি ৮ হাজার ডলার আছে।
২০১৪ সালে ব্যাংক নওফেলের নামে জমা ছিল ৭৭ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮২ টাকা, আর স্ত্রীর নামে ছিল ১৪ লাখ টাকা। এবার হলফনার ওই ঘর তিনি ফাঁকা রেখেছেন।
২০১৮ সালে বন্ড, শেয়ার খাতে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং পোস্টাল সেভিংস এবং সঞ্চয়পত্রে ৩৭ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য দিয়েছিলেন নওফেল।
এবার সেই পরিমাণ বেড়ে শেয়ার ও বন্ডে ১০ লাখ টাকা এবং পোস্টাল ও সঞ্চয়পত্রে ৬ কোটি ২ লাখ ১৭ হাজার ৪১২ টাকা হয়েছে।
পাশাপাশি স্ত্রীর নামে বন্ড ও শেয়ার খাতে ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৯১০ টাকার তথ্য দিয়েছেন উপমন্ত্রী। এর বাইরেও ৪২ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন তিনি।
গত নির্বাচনের আগে নওফেলের নামে ব্যাংক ঋণ ছিল ৩২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৫ টাকার। এবারের হলফনামায় তিনি ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭২ টাকা ঋণ থাকার কথা বলেছেন।