১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাফিকের জরিমানায় ‘খুশি’ মন্ত্রী মিল্লাত

“(এ) জরিমানার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে যে এই সরকার–তারেক রহমানের গঠিত যে সরকার–সুশাসনে বিশ্বাস করে এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 12:54 AM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

সকালে উল্টোপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে ট্রাফিক পুলিশের জরিমানা ও মামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও এমন শাস্তিতে ‘খুশি’ হওয়ার কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ এলাকায় সাংবাদিকদের সামনে ট্রাফিক আইন ভাঙা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

দুই সপ্তাহ আগে মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মিল্লাত বলেন, “স্পষ্টতই আমি মনে করি যে এটা ট্রাফিক আইনের লঙ্ঘন এবং সুস্পষ্টভাবে সে লঙ্ঘন করেছে। এজন্য যে মামলা হয়েছে, জরিমানা হয়েছে, এজন্য আমি খুশি।”

হঠাৎ করে সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ধন্যবাদ জানাই ট্রাফিক পুলিশকেও যে, আজকের সকালবেলার ঘটনাটি-জাস্ট আপনার আমাদের প্রধান বিচারপতির বাসার বিপরীতে যে রাস্তাটা, সেই রাস্তায় আমাকে বহন করা যে গাড়িটি যে চালক চালাচ্ছিল, সে বামদিকে প্রচন্ড ভিড় থাকা অবস্থায়- ওখানে দেখবেন আপনারা যে ১০০ গজের একটা ডিভাইডার আছে। এই ডিভাইডার অতিক্রম করলে তখন এ রাস্তা ফাঁকা ছিল। ডিভাইডার অতিক্রম করে ওই রাস্তাটায় সে উঠতে চেয়েছিল।”

এদিন সকালে ঢাকার সার্কিট হাউজ রোডে উল্টোপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে ট্রাফিক পুলিশ।

এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটা নজিরবিহীন।

“অতীতেও মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত যাওয়ার জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টো পথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে আসলেও মামলার ঘটনা এটিই প্রথম।”

রাতে এ ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিমানমন্ত্রী পথ সামান্য হলেও এটিকে ট্রাফিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে তুলে ধরেন। বলেন, “এজন্য যে মামলা হয়েছে, জরিমানা হয়েছে, এজন্য আমি খুশি।

“(এ) জরিমানার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে যে এই সরকার–তারেক রহমানের গঠিত যে সরকার–সুশাসনে বিশ্বাস করে এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করে।”

তিনি বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে যে কেউ নয়, এটাই প্রমাণ করে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। একজন মন্ত্রীর গাড়ি এবং গাড়ির চালক মন্ত্রীকে নিয়ে অন্যদিকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করবে, সেটা কোনোভাবেই এই সরকার বরদাস্ত করবে না। এবং আমি এইজন্য, যেহেতু আমার নিজের গাড়ি, এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি যে এই ধরনের ঘটনা যাতে কেউ না ঘটায়।

“কারণ কেউ ঘটালে কেউ পার পাবে না। এটি বুঝতেই পারেন যে, এটা তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোরভাবে আইনকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং আইনের ঊর্ধ্বে কাউকেই তিনি রাখতে চান না।”

যে পুলিশ কর্মকর্তা জরিমানা করেছেন, তার উপর মন্ত্রীর কোনো বিরূপ মনোভাব তৈরি হবে কি না- এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেখেন, ফ্যাসিস্ট আমলের আর এই আমল¬–এটা তো একেবারে বিপরীত।”

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমলে যা হয়েছে তার উল্টা কাজটি তারেক রহমান করছেন। এবং ফ্যাসিস্ট আমলে তখন তো কোনো তোয়াক্কা ছিল না কারো যে, এমনে ইচ্ছে একটা নেতা হলেও সে আইন লঙ্ঘন করত, ভঙ্গ করত। সেই আইনটি আমরাও কোনো ভঙ্গ করতে পারি না।”

মন্ত্রী মিল্লাতের গাড়ি উল্টোপথেমামলা