Published : 17 Jul 2025, 10:25 PM
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘিরে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ‘নির্লিপ্ত’ ভূমিকাকে দায়ী করেছে বালাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি।
বৃহস্পতিবার সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
তাদের এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।”
এনসিপির সমাবেশস্থল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউএনওর গাড়িতে হামলাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এই হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এনসিপি গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে এলেও গোপালগঞ্জে পদযাত্রার পরিবর্তে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
“যার ফলে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল, এখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। সে মোতাবেক সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ না করে নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করে।
“জনগণ প্রত্যক্ষ করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এনসিপি এই কর্মসূচি পালন করে। যার ফলে হামলার ঘটনা ঘটে। তাই এ হামলার দায় সরকার এড়াতে পারে না।”
নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে এ ধরনের হত্যা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সরকার এই নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয়েছে। উপরন্তু, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে কয়েকজন মানুষ নিহত হয়েছেন।
“চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের হামলা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং চব্বিশের আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
“গোপালগঞ্জে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার দায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে। সরকারের দায়িত্বহীনতা গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের নবযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে।”
এনসিপির এই কর্মসূচির পেছনের উদ্দেশ্য উন্মোচন, হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের প্রতি সিপিবির নেতারা দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে দিনভর হামলা, অগ্নিসংযোগ, বোমা বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিহত হয় চারজন। রাতে কারফিউ জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।