০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিশেষ দায়িত্বের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত এমপিদের রিট মামলা

“বর্তমান প্রজ্ঞাপনে আগের রিটের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও আদালতের রায়ের মূল বক্তব্যের বিপরীতভাবেই এবার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে,” বলছেন শিশির মনির।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 04:16 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:28 PM

সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের যে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট মামলা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর ১১ সংসদ সদস্য।

রোববার হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির পাশাপাশি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।

গত ২৭ অগাস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলার সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং উন্নয়ন কার্যক্রম দেখভালের কথা বলা হয়েছে। 

১৯৯৬ সালের রুলস অব বিজনেসের বিভিন্ন বিধি এবং ২০০৩ সালের হাই কোর্টের একটি রায়ের আলোকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

রিটকারীদের দাবি, রুলস অব বিজনেস কিংবা ওই রায়—কোনোটিই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এভাবে জেলার দায়িত্ব দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা দেয় না। 

মামলায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা হুইপদের জেলা পর্যায়ের সরকারি কার্যক্রমে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত তদারকি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এতে জাতীয় প্রশাসন ও স্থানীয় স্বশাসনের মধ্যে সংবিধানে করা পার্থক্য ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনে ‘ডায়ার্কি’ বা দ্বৈত শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালেও একই ধরনের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল। ওই দায়িত্ব বণ্টনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তৎকালীন সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রিট মামলাটি করেছিলেন। মামলায় হাই কোর্ট মন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট জেলার দায়িত্ব দেওয়ার অনুরূপ প্রজ্ঞাপনকে বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেছিলেন।

শিশির মনির বলেন, বর্তমান প্রজ্ঞাপনে আগের রিটের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও আদালতের রায়ের মূল বক্তব্যের বিপরীতভাবেই এবার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। 

রিট আবেদনকারীরা হলেন—পাবনা ১ আসনের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, ঢাকা ১৪ আসনের মীর আহমাদ বিন কাসেম, রংপুর ৫ আসনের গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসনের নূরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের মাসুদ পারভেজ, যশোর ১ আসনের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান, বাগেরহাট ২ আসনের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, পটুয়াখালী ২ আসনের শফিকুল ইসলাম, শেরপুর ১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, গাজীপুর ৪ আসনের সালাহ উদ্দিন ও চট্টগ্রাম ১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

বিশেষ দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, কে কোন জেলায়?