১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিউ ইয়র্কের পথে ইউনূস, সঙ্গী ৫ রাজনীতিক

প্রতিনিধি দলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির ছয় নেতাকে যুক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নিউ ইয়র্কের পথে ইউনূস, সঙ্গী ৫ রাজনীতিক
ফ্লাইট ছাড়ার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কুশল বিনিময়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Sep 2025, 02:11 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:20 PM

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে রওনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার রাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। আরেক ফ্লাইটে দুবাই থেকে তিনি নিউ ইয়র্কের পথে ধরবেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এ প্রতিনিধি দলে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয় নেতাকে যুক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান। 

তাদের মধ্যে ঢাকা থেকে নিউ ইয়র্কের পথে ইউনূসের সঙ্গী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের রোববার জানান, সরকারি প্রতিনিধিদলে আরও যুক্ত হবেন জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নকিবুর রহমান তারেক। তিনি আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

প্রধান দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারপ্রধানের জাতিসংঘ অধিবেশনে যাওয়ার এমন উদ্যোগ বাংলাদেশে নজিরবিহীন।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। 

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। 

এ বছর ৮০ বছর পূর্ণ করছে জাতিসংঘ। এবারের সাধারণ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য: ‘বেটার টুগেদার: এইট্টি ইয়ারস অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।’

প্রধান উপদেষ্টার নিউ ইয়র্ক সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, এ বছরের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য ‘বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ’, কারণ এবার ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা হবে।

“রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এমন একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভার আয়োজন এবারই প্রথম।”

বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস: ছবি: পিআইডি

বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস:

বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী রাজনীতিবিদরা: ছবি: পিআইডি

বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী রাজনীতিবিদরা:

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের অপেক্ষা। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের অপেক্ষা

এছাড়া এ বছর বিশ্ব যুব কর্মসূচির ৩০ বছর পূর্তি এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ঐতিহাসিক রেজ্যুলেশনের ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে।

বিশ্ব যুব কর্মসূচির ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এবারের অধিবেশনে ২৫ সেপ্টেম্বর একটি উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান উপদেষ্টা অংশগ্রহণ নেবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য দেবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তিনি তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত এক বছরে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সংস্কার ও আগামী দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

“পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ অবস্থান, বিশ্বব্যাপী সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিকূলতা, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে সম্পদ পাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের মৌলিক পরিষেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, জেনারেটিভ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তির টেকসই হস্তান্তর, এবং সর্বোপরি ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের যুদ্ধ বিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের বিষয়গুলো তার বক্তব্যে উঠে আসবে।”

অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও একটি বৈঠকে অংশ নেবেন ইউনূস।

সফর শেষে ২ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।