১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকসু নির্বাচনে ‘বহুমুখী’ বাধা আসছে: উপাচার্য

“অনেকে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ এসেছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের অবান্তর, হালকা কথাবার্তা বললে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হয়।”

ডাকসু নির্বাচনে ‘বহুমুখী’ বাধা আসছে: উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে সোমবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2025, 11:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:13 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ‘বহুমুখী বাধা-বিপত্তি আসছে ও আসবে’ বলে মন্তব্য করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

তবে কোনো ক্ষেত্রে যতটুকু শঙ্কা ছিল, তারচেয়ে ‘ভালো অবস্থানে’ থাকার কথাও বলছেন তিনি। 

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, “আমরা ডাকসু প্রসঙ্গে দুটি আদালতের নোটিশ ও রিট পেয়েছি। আমরা এ আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলার চেষ্টা করেছি।”

তিনি বলেন, “একজন প্রার্থী আরেকজনের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট আবেদন করেছে। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আজ উচ্চ আদালত ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করে।

“পরে আমাদের আইনজীবী চেম্বার জজ আদালতে আপিল করলে হাই কোর্টের রায় স্থগিত হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “আমাদের সিডিউল অনুযায়ী ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন হতে কোনো বাধা নেই। সে বিষয়ে আমাদের আইনজীবীসহ সবাই কাজ করছেন।”

ছাত্রশিবির প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রোববার হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম।

৫ অগাস্টের আগে এস এম ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ ছিলেন, এর পরও তিনি কীভাবে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী হলেন, এমন প্রশ্ন তুলে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিট আবেদনে।

সোমবার তার রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করে এবং আদেশের ১৫ দিনের মধ্যে জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেয়। 

ওই আদেশের পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করায় নির্বাচনের ‘বাধা’ কেটে যায়।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ শিশির মনির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরের সম্পৃক্ততা নিয়ে সমালোচনা এসেছে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে। 

এ সমালোচনার মধ্যে উপাচার্য বলেন, “আমাদের ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল নির্বাচিত করা হয়েছে। এ প্যানেল প্রয়োজনের ভিত্তিতে কাজ করছে।

“আমাদের আজকে যিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, শিশির মনির, তিনিও এ প্যানেলের সদস্য। আমরা মামলার ন্যাচার ও অন্যান্য ডাইনামিকস বিবেচনা করে তাদের নির্বাচিত করি।”

ডাকসু নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “ডাকসু নির্বাচন একটা চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে আমাদের রাগ-ডাক নেই। এটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। 

“এখানে বহুমুখী বাধা-বিপত্তি আসছে এবং আসবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা পরিস্থিতি নিয়ে যতটুকু শঙ্কায় ছিলাম, তারচেয়ে অবস্থা ভালো আছে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছি।”

তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ এসেছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের অবান্তর, হালকা কথাবার্তা বললে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হয়। আমাদের এ মুহূর্তে ঐক্য ধরে রাখা দরকার।”