Published : 01 Sep 2025, 10:27 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ‘৯ সেপ্টেম্বরেই হতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
তিনি বলেছেন, “ডাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার সাধ্য কারো নাই। এত রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এ প্রশাসন যদি ডাকসু নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়, সেটা আমরা কখনো মেনে নেব না।”
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে মিছিল শেষে এ কথা বলেন তিনি।
আবিদ বলেন, “আমরা দেখেছি ছাত্রশিবিরের প্যানেল জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ ৫ অগাস্টের আগে ও পরে ছাত্রলীগের পদধারী ছিলেন। এমনকি ৫ অগাস্টের পরও তিনি পদত্যাগ করেননি। এক বাম প্যানেলের নেত্রী তার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছেন।
“সেখানে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনারা এমন একটা নির্বাচন করতে গিয়ে সেখানে নানা ফাঁকফোকর রেখেছেন কেন?”
তিনি বলেন, “আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন হতেই হবে। আমরা এ প্রশাসনকে সাবধান করে দিচ্ছি, আপনারা এত মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।”
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবিদ বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কি আইনজীবী নাই? শিশির মনিরকে কেন এখানে রাখা হয়েছে? এটাই কি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা? আপনাদেরকে সাবধান করে দিচ্ছি।
“আপনারা আর তামাশা করবেন না, সাবধান হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, তোমাকে তো দলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বসানো হয়নি।”
ছাত্রশিবির প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রোববার হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন ‘অপরাজেয় ৭১, অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম।
৫ অগাস্টের আগে এস এম ফরহাদ ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে’ ছিলেন, এর পরও তিনি কীভাবে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী হলেন, এমন প্রশ্ন তুলে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করা হয় রিট আবেদনে।
সোমবার তার রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন স্থগিত করে এবং আদেশের ১৫ দিনের মধ্যে জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালকে।
ওই আদেশের পর শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করায় নির্বাচনের ‘বাধা’ কেটে যায়।