১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ভোগান্তির শঙ্কা’ নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করছে জামায়াত জোট

চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম দিনের লং মার্চ সেদিনই লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে, বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল পরওয়ার।

‘ভোগান্তির শঙ্কা’ নিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করছে জামায়াত জোট
রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ ব্রিফিংয়ে লং মার্চ কর্মসূচি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 04:53 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

‘ভোগান্তির শঙ্কা’ নিয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চার বিভাগীয় শহর অভিমুখে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করছে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

সেদিন রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে এ কর্মসূচি শুরু করবে জোট।

সকাল ৭টায় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা করবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কম বিঘ্ন ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কের একটি অংশ দিয়ে লং মার্চের বহর চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অন্য অংশ দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল অব্যাহত রাখা যায়।

“তবে এত বড় কর্মসূচির কারণে কোথাও সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা দেশবাসীর নিকট অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে লং মার্চ কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াত জোট।

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে লং মার্চ একই দিন চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করবেন জোটের নেতারা।

গত ৬ অগাস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গণে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের শীর্ষনেতা শফিকুর রহমান।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার মধ্য দিয়ে লং মার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন,  ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া লং মার্চে হাজারের বেশি যানবাহন নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারেন।

তিনি আশা করেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

লং মার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সোমবার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় লং মার্চের সংশ্লিষ্ট পথ, পথসভা ও কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

লং মার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করবেন বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

দলটি বলেছে, লং মার্চ সফল করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাস্তবায়ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। অভ্যর্থনা, চিকিৎসা, পরিবহন, প্রচার ও প্রকাশনা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবক, সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিভাগীয় দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, মো. সেলিম উদ্দিন।