Published : 10 Sep 2026, 10:09 PM
‘গালাগালি সংস্কৃতির’ বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন, “ফ্যাসিবাদ শাসনকালে জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাকস্বাধীনতা। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাকস্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।”
তারেক রহমান বলেন, “আমরা যেরকম চাই না, দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক, যেকোনো বিবেকবান মানুষ, যেকোনো দেশপ্রেমিক রাজনীতিক অবশ্যই আমরা চাই না, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত হয়।
“এজন্যই আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে, আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পারিবারিক পরিবেশে আমরা যেসব কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, কেন আমরা জনপরিষদে সেসব শব্দ ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না মাননীয় স্পিকার? আপনার মাধ্যমে আমি এটি সব সদস্যের কাছে, দেশের সব বিবেকবান নাগরিকের কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।
“আমরা যদি সত্যিকারভাবে সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, আসুন আমরা তাহলে গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি।”
এ সময়ে সংসদ অধিবেশনের কক্ষে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সমর্থন জানান।
এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন সমাপনীসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ সংসদে পড়ে শোনান।
সমাপনীতে সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী ৭টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় গত ২৭ অগাস্ট।
‘বিরোধ-বিভেদ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুরুজ্জীবিত করবে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকারি দলই বলি, বিরোধী দলই বলি, আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সে কারণে মাননীয় স্পিকার, সবসময় আমি বলার চেষ্টা করি, আমি বলে থাকি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
“জনগণের কাছে আমার আহ্বান, আসুন গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ, বিরোধ কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকেই পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, সেই পথকেই হয়তো সুগম করতে পারে…। এটি যেন আমরা ভুলে না যাই।”
সরকারপ্রধান বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই, শহীদদের প্রতি কর্তব্যের অংশ হিসেবে অবশ্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা— আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে। সারা পৃথিবীতেই সেটি থাকে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে। এটিও ডেমোক্রেটিক প্র্যাকটিস।
“কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, মাননীয় স্পিকার, সে ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
‘সংসদ সব কর্মের কেন্দ্রবিন্দু’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সংসদকে আমরা সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের কারোরই সদিচ্ছার অভাব ছিল না, সেটি নিশ্চয়ই প্রমাণিত হয়েছে। আমরা উভয়পক্ষ দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে কাজ করছি, দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে আলোচনা করেছি ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি, সে ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
“এই জাতীয় সংসদকে কার্যকর এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য আমি আজ উপস্থিত সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা এই জাতীয় সংসদের কাছে। এই জাতীয় সংসদে আলোচনা করে জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে; এই সংসদ তাদের জন্য শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা।”
‘গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের কারণে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। এ সমস্যা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেশীয় সোর্স থেকে গ্যাস তোলার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ডানে এবং বামে যে প্রতিবেশী দেশগুলো আছে, তারা সমুদ্র থেকে গ্যাস তুলছে। কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় মাঝখানে বাংলাদেশ, মাঝখানে বঙ্গোপসাগর, সেই বঙ্গোপসাগর থেকে বিগত এক যুগের বেশি সময় ফ্যাসিবাদের আমলে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি।
“অনেকে বলে, বিশেষ কোনো দেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, কিংবা তারা যেন গ্যাস নিয়ে যেতে পারে, সেজন্যই বাংলাদেশ অংশে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উৎপাদন করা হয়নি। অপরদিকে পশ্চিম এশিয়া ছিল আমাদের গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবেই দেশকে জ্বালানি-নির্ভর করে ফেলা হয়েছিল।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ইরানের চলমান যুদ্ধের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “সরকার গঠন করার ১০-১২ দিন পরেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় যুদ্ধ পরিস্থিতি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে তেল এবং গ্যাস আমদানি করা হতো, সে ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হলো। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই পরিস্থিতির ভেতরেই আমাদের যে দুটি এফএসআরইউ আছে, তার একটিতে ইলেকট্রিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে এবং সম্পূর্ণভাবে সেই এফএসআরইউতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে এটি বিকল হয়ে যায়। এ কারণেই বর্তমানে গ্যাস এবং বিদ্যুতের জন্য সমগ্র দেশের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
‘বিরোধী দলের লংমার্চ’
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ৬ দাবিতে গত শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
তাদের সেই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমস্যা সমাধানে আমরা আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। অথচ আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়িবহরের লং মার্চ আয়োজন করা হয়েছিল।
“বিভিন্ন মানুষ বাইরে একটি কথা বলে, জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা? গাড়ির লং মার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।”
তিনি বলেন, “একটি কথা সবারই মনে আছে, তাও এটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাশিয়া ও ইউক্রেইন যুদ্ধ যখন শুরু হলো, সেই ২০২২ সালে যুদ্ধের অজুহাতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করার জন্য, তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে এক দিনের জায়গায় বাড়িয়ে দুই দিন ছুটি করা হয়েছিল। ব্যাংকের লেনদেনের কর্মসূচিও পরিবর্তন করা হয়েছিল।
“আমরা আগেই বলেছি, কোনো অজুহাত তুলে আমরা জনগণের দুর্ভোগ বা সমস্যার সমাধানকে এড়িয়ে যেতে চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, যারা ২০০৯ সাল থেকে একটানা বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, মানুষের কথা বলার অধিকারকে কেড়ে নিয়ে, ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে, তাদেরও, মাননীয় স্পিকার, বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বা করেছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত রাখার জন্য ‘সো-কল্ড নিশ্চিত’ কুইক রেন্টাল বসানো হয়েছিল। এই কুইক রেন্টালের নামে কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়ে এই রাষ্ট্রকে ফতুর করে দেওয়া হয়েছিল, ঋণগ্রস্ত করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও তারা বিদ্যুৎ সমস্যা বা জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করে আনতে পারেনি।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রেক্ষাপটের বিষয়ে তিনি বলেন, “অথচ বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের ভেতরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই ইউক্রেইন যুদ্ধকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ তখন তারা নিয়েছিল, সেই ইউক্রেইন যুদ্ধ এখনো চলমান। এর মধ্যে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি।
“এর পাশাপাশি দুটি এফএসআরইউ, দুটি এলএনজি টার্মিনাল— একটি গেল নষ্ট হয়ে। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। এসব সমস্যা বর্তমান সরকার এবং যেহেতু আমি বলেছি বিরোধী দল সরকারের একটি অংশ, আমরা সকলেই এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছি।”
তারেক রহমান বলেন, জনগণের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের যেমন রয়েছে, যেহেতু জনগণ আমাদের সকলকেই ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে, তাই আমি মনে করি, এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য, তিনি বিরোধী দলের হোন কিংবা সরকারি দলের হোন— আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সঠিক চিত্র বা বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে এটি যদি করার সুযোগ না হয়, তাহলে পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে। তাহলে এতগুলো আত্মদানের কী মূল্য থাকবে?”
সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তা চলতি সংসদে তুলে ধরার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি আপনার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ইতোমধ্যেই আমরা যথাসম্ভব অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যে সমস্যা যাচ্ছে, যেটি গ্যাস বা বিদ্যুতের, সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হব।
“দেশ এবং জাতিকে অবশ্যই আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এ সমস্যা থেকে ইনশাআল্লাহ বের করে আনতে সক্ষম হব।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার যে ব্যবস্থা বা যে উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা যদি আমরা ইনশাআল্লাহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমরা শুধু গ্রাহক নয়, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব ইনশাআল্লাহ।
“সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কারণ আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে আমাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে বিএনপির গৌরবময় অতীত ইতিহাস। বিএনপি— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— যতবারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, প্রত্যেকটি বার, মাননীয় স্পিকার, দেশকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশ এবং জনগণের প্রতিটি সংকটে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি দেশের হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে।”
‘অর্থনীতি প্রসঙ্গে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০১ সালে জনগণের রায়ে প্রত্যাখ্যাত অপশক্তি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে, যে কথাটি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা একইভাবে বলেছেন, ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে। তারা জনগণের অধিকারকে কেড়ে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর আগে পর্যন্ত তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে। এই ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে পড়েছে।
“এরা পালিয়ে গিয়েছে, কিন্তু এই ঋণ রেখে গিয়েছে এই দেশের কাঁধে, এই দেশের জনগণের কাঁধে। যারা পালিয়ে গিয়েছে, তারা শুধু ঋণখেলাপিই করেনি, বরং ঋণখেলাপির পরিমাপের যে হিসাব-নিকাশ, সেটির মধ্যেও তারা জালিয়াতি করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ঋণখেলাপির অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। বিগত নির্বাচনের পরে যেখানে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেখানে এটি নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট চক্রের অনাচার, লুটপাট, দুর্নীতি— এসব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে বিএনপি যেভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিল, একই চক্রের কারণে ২০২৪ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণখেলাপির যে কলঙ্ক, এর থেকেও বিএনপি বাংলাদেশকে ইনশাআল্লাহ মুক্ত করে নিয়ে আসবে।
“বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি। যারা বাংলাদেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছে, তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে; কিন্তু বাংলাদেশকে এখনো সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল এবং সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখি ডলার পরিশোধ করেছে। যদিও ফ্যাসিবাদের লুটতরাজ, টাকা পাচারের কারণে এখনো দেশের কাঁধে, জনগণের কাঁধে হাজারো কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ বাকি রয়ে গেছে।”