২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিএনপির ‘মহাসমাবেশ’: সতর্ক পাহারায় সড়কে সোচ্চার থাকবে আওয়ামী লীগও

সেদিন নয়া পল্টনে মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে অদূরে বায়তুল মোকররমের দক্ষিণ গেইটে।

কাজী মোবারক হোসেন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Oct 2023, 11:08 AM

Updated : 26 Oct 2023, 10:57 PM

নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপের আঁচ আর আলোচনার মধ্যে আওয়ামী লীগও তাদের অবস্থান জানান দিতে চায়; সতর্ক পাহারায় নিজেদের আয়ত্তেই রাখতে চায় রাজপথ।

সরকার হটানোর এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপির ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের দিনে পাল্টা সমাবেশে নিজেদের কথাও জানাতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে দেশজুড়ে পাড়া-মহল্লা আর অলিগলিসহ রাজধানী ঢাকার মোড়ে মোড়ে সতর্ক পাহারার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

ওই দিন ঢাকার রাজপথ দখলে রাখতে আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে কঠোর অবস্থানে, বলছেন নেতারা। এছাড়া যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

বিএনপি সেদিন নয়া পল্টনে মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বায়তুল মোকররমের দক্ষিণ গেইটে শান্তি সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। ওই দিন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবেন বিভিন্ন স্পটে।

রাজনৈতিক এসব কর্মসূচি ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য বুধবার এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, “আক্রমণ করব না, এই পর্যন্ত করি নাই। এইবার আমরা সর্তক পাহারায় আছি, আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণ হবে। কেন ছাড়ব? কাদের ছাড়ব?

“এরা (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ গিলে খাবে। এরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গিলে খাবে। এরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা গিলে খাবে। তাদের অপশক্তিকে এক সাথে রুখতে হবে।”

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেদিন তারা প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। এজন্য কেন্দ্রীয় নেতারা নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি ইউনিটে নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে কর্মপরিকল্পনাও গুছিয়ে নিয়েছেন। এর বাইরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হবে সতর্ক পাহারা। প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্যান্ডেল টাঙিয়ে সকাল থেকে অবস্থান নেবেন দলের ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পাশাপাশি দলীয় সংসদ-সদস্য ও কাউন্সিলররাও তাদের অনুসারীদের নিয়ে মাঠে থাকবেন। রাজধানীজুড়ে এমন অবস্থানের মধ্যে বিএনপির মহাসমাবেশের দিন নিজেদের বড় উপস্থিতিও জনগণের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

ওবায়দুল কাদের বুধবারের ওই সভায় বলেছেন, “অনুমতি না দিলে তারা না কি অলিগলি দখল করবে। তাহলে না কি সব দরজা খুলে যাবে স্বাগত জানাতে। এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছি। দেখব কোন অলি-গলিতে অবস্থান নেবেন।”

২৮ অক্টোবরকে ঘিরে আওয়ামী লীগের অবস্থানের বিষয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বুধবার সন্ধা থেকেই ঢাকার অলিগলিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অবস্থানে থাকবে। দেশের মানুষকে শান্তিতে রাখতে আমরা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকব। সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই সতর্ক অবস্থানে থাকব।”

পাশাপাশি বিএনপির গতিবিধি কী হবে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হবে, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “বিএনপি কী করছে সেদিকেও আমাদের লক্ষ আছে, ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আজকে থেকেই ঢাকার অলিগলিতে সতর্ক পাহারায় মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

“কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে আসলে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেব।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার পতনে এ ধরনের আলটিমেটামের তারিখ জাতি বহুদিন ধরেই শুনে আসছে। সুতরাং এই হুংকার বা আলটিমেটামে আমরা মোটেই বিচলতি নই। তবে তাদের বিষয়ে আমরা সতর্ক ও সজাগ আছি।

“দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। কোনো সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাস করতে আসলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।”

বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতের শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, "অতীতে আন্দোলনের নামে তাদের অগ্নি-সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও দেখেছি। ফলে এবার যেন এ ধরনের কিছু করতে না পরে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি এবং থাকব।”

নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা লিলি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২৮ অক্টোবরে কে কি করলো সেটা আমাদের দেখার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমরা ওইদিন সকাল থেকে সতর্ক পাহারায় থাকব।

“যুব মহিলা লীগের প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও থানার নেতাকর্মীরা সকাল থেকে মাঠে থাকবে। বিকালের শান্তি সমাবেশকে সফল করার জন্য দুপুরের পরপরই সমাবেশ স্থলে যাব।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও শাহবাগে অবস্থান নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোনো অপশক্তি যেন ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে, সেই কারণে সকাল থেকে শাহবাগ, টিএসসি, শহীদ মিনার এলাকাসহ ক্যাম্পাসে সতর্ক পাহারায় থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।”