Published : 17 Aug 2026, 09:56 AM
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার বিচারের রায় সম্পর্ক নিজেই বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন, সেহেতু তিনি বিষয়গুলো জানেন এবং সে কারণে তিনি আপিল করার কোনো সুযোগ পাবেন না বলেই মনে করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় পলাতক আসামিরা ফিরে এসে অনেক সময় দাবি করেন, তারা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতেন না। এরপর দীর্ঘদিন আদালতের বাইরে থাকার বিষয়টি ক্ষমা করে তাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেন।
“তবে শেখ হাসিনা ও মামলার অন্য আসামিরা এ ধরনের সুযোগ নিতে পারবেন না। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ এই মামলার আসামিরা এই সুযোগটা কোনোভাবেই নিতে পারবেন না। কারণ তারা মামলা সম্পর্কে জানেন এবং সেখানে (ভারত) বসে বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন, ফিরে আসার কথা বলছেন এবং মামলাকে তারা মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন।”
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। আদালতের দৃষ্টিতে তিনি একজন পলাতক আসামি।
ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শেখ হাসিনার রায়ের পর ইতোমধ্যে নয় মাস পেরিয়ে গেছে।
দণ্ডবিধির মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে বহু বছর পর গ্রেপ্তার হয়ে পলাতক ফাঁসির আসামিরা আপিল করার সুযোগ পেয়েছেন। এ ধরনের দেরিতে আপিলের ক্ষেত্রে আইনি ছাড় বা তামাদি আইনের প্রয়োগ করা হয়।
তবে প্রসিকিউটর তামীম এর আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনতত্ত্ব (ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্স) অনুযায়ী, কোনো বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইন বা লিমিটেশন অ্যাক্ট প্রযোজ্য হয় না।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর তামীম বলেন, “সে (শেখ হাসিনা) যে আসছে, এটা আমরা তো ওয়েলকাম করি, সে আসুক। এসে বিচারের সম্মুখীন হোক। জাতি দেখুক যে, সে কী অপরাধ করেছে না করেছে।”
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের সময় তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি তাকে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে বিচারে অংশ নেওয়ার আহ্বান করেছিলেন। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তামীম বলেন, “বিদেশে বসে তিনি যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো আদালতে এসেও উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।”