Published : 17 Dec 2025, 03:48 PM
ঢাকার পল্টন মডেল থানা ও শাহজাহানপুর থানার এক যুগ আগের দুই মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ৪৫ জনকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত বুধবার তাদের অব্যাহতির আদেশ দেয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “দ্রুত বিচার আইনের পৃথক দুই থানার মামলা আজ অভিযোগ গঠনের জন্য ধার্য ছিল। আমরা তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করি৷ শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদের মামলার থেকে অব্যাহতি দেন।”
অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছে- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা-১২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা- ৯ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সেক্রেটারি হাবিবুর রশিদ হাবিব।
পল্টন থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের ১ হাজার থেকে ১২শ নেতাকর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শান্তিনগরের দিকে আগায়। বিকাল ৫ টার দিকে শান্তিনগর ক্রসিংয়ে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাংচুর করতে থাকে। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে তারা আরো উগ্র হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্য পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর ফলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।”
এ ঘটনায় পল্টন থানার তৎকালীন এসআই মেহেদী মাকসুদ বাদী মামলাটি দায়ের করেন।
ওই বছরের ২৬ মার্চ পল্টন থানার তৎকালীন এসআই মো. আমিনুল ইসলাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে অব্যাহতি দেন।
শাহজাহানপুর থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “শাহজাহানপুরের মালিবাগ এলাকায় বিএনপির ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়িরী মিছিল করে। বিকাল সাড়ে ৪টার সময় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা দেয়। পুলিশ তাদের নিষেধ করলে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন এসআই মো. আশরাফ আলী মামলা মামলা করেন।”
ওই বছরের ২০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন এসআই মো. রুহুল আমিন মুন্সি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এই মামলায়ও উচ্চ আদালত থেকে মির্জা ফখরুল ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ অব্যাহতি পেয়েছেন।