১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপা কার্যালয়কে ‘নিশানা’ করে জুলাই মঞ্চের হুমকি

“গতকালের হামলায় জাতীয় পার্টির সঙ্গে কারা ছিল, জাতীয় পার্টিতে তো লোকজন নাই, এরা যুবলীগ, এরা ছাত্রলীগ,” বলেন আরিফুল।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2025, 04:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:12 PM

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার ঘটনায় ‘নতুন করে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ‘জুলাই মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম।

জাতীয় পার্টির কার্যালয় ‘নতুন এই বিপ্লবের সূচনার প্রথম টার্গেট’ বলেও হুমকি দেন তিনি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরিফুল ইসলাম এ কথা বলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মশাল মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

এরপর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন।

আহত অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর বলেছে, পুলিশ ‘সহযোগিতা’ চাওয়ায় দুই দলের সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা সম্পৃক্ত হন।

আইএসপিআর বলছে, ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা অগ্রাহ্য’ হওয়ার পর সেনাবাহিনী সেখানে ‘মব ভায়োলেন্স’ ঠেকানোর জন্য বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।”

সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যের আহত হওয়ার কথাও জানানো হয় আইএসপিআরের তরফে।

নুরুল হক নুরের উপর ‘হামলার’ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে তার দলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় শনিবার বেলা ৩টার দিকে বিজয়নগর রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জুলাই মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল-‘জাতীয় পার্টিসহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শত্রুদের বিরুদ্ধে হুলিয়া মিছিল’।

মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জুলাই মঞ্চের নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, “কীসের বিপ্লব, বিপ্লব এখনও শেষ হয় নাই। গতকাল নূরু ভাইয়ের উপর হামলার ঘটনায় আবার নতুন করে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে। বিপ্লবের প্রথম টার্গেট হবে জাতীয় পার্টির এই অফিস।”

এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন- ‘ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, জাতীয় পার্টির আস্তানা; ‘জাতীয় পার্টির আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’। 

জুলাই মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, “আপনারা জানেন, এক পায়ে মানুষ চলতে পারে না, আওয়ামী লীগ ডান পা হলে জাতীয় পার্টি হল বাম পা। তাহলে আওয়ামী লীগ ‘নিষিদ্ধ’ হলেও জাতীয় পার্টি কেন এখনও নিষিদ্ধ হয় না। এই বাম পা দিয়ে ডান পাকে বাংলায় আনার পরিকল্পনা তৈরি করছে।

“গতকালের হামলায় জাতীয় পার্টির সঙ্গে কারা ছিল, জাতীয় পার্টিতে তো লোকজন নাই, এরা যুবলীগ, এরা ছাত্রলীগ। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে কাশ্মির বানানো। জুলাই যোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এই বাংলাদেশকে কাশ্মির হতে দেব না।”

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, “ইন্টেরিম, আপনাকে উদ্দেশ করে বলছি, অনেক নাটক করেছেন। এক বছরে বিপ্লবীর মধ্যে বিভক্তির বীজ বপন করেছেন, সেটা মানুষ বুঝে গেছে। আপনারা প্রমাণ করেছেন, আপনারা বিপ্লবে তো নাই, বরং বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল বিপ্লবের ‘মহানায়ক’ ভিপি নূরের উপর হামলা করে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।

“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। তা না হলে জুলাই যোদ্ধারা আবার রাজপথে নামবে।”