Published : 13 Feb 2025, 03:04 PM
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লুর সফরকে ঘিরে বিএনপিকে ‘উৎসাহী’ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শনিবার মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে তিনি এ প্রসঙ্গে কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যখন টেলিভিশনে দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডনাল্ড লু বাংলাদেশে আসছে, বিএনপি নেতারা আবার চাঙা হয়ে গেছেন। আবার ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর হয়ে গেছে।
“আরে বেকুবের দল, লু আসছেন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে। বিএনপির স্বপ্ন পূরণের জন্য আমেরিকাও আর আসবে না, কেউ আসবে না। লন্ডন থেকে ডাক দিয়ে কোনো লাভ হবে না।”
ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের উদ্দেশে শুক্রবার ছয় দিনের সফরে বের হয়েছেন ডনাল্ড লু। এটি গত সোয়া এক বছরে তার তৃতীয়বার ঢাকা সফর হতে যাচ্ছে।
গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের বছর মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি সফরেই দৃষ্টি ছিল বিএনপির। কারণ, এই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র সব দলের অংশগ্রহণে ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ ভোটের কথা বলে আসছিল। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দায়ীরা ভিসা পাবে না বলে একটি নীতিও ঘোষণা করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ভোটে আসেনি বিএনপি। সেই নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হয়নি’ মত দিয়েও পরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, "কত নাটক, জজ মিয়া নাটক, মিয়া আরেফি নাটক! বাইডেনের উপদেষ্টা বানিয়ে নয়া পল্টনে কী নাটকই না তারা বানিয়েছিল মনে আছে?
“মিয়া আরেফি ইংরেজিতে কথা বলে, হঠাৎ পুলিশ দিল পিটুনি, পিটুনি খেয়ে বরিশালের স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। আবারও নাটক শুরু করছেন, খেলা কিন্তু আবারও হবে; জনগণের জানমালের সুরক্ষায়, এ অপশক্তির বিরুদ্ধে খেলা আবারও হবে।"
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এমন এক শিক্ষা দেব এবার, পালাতে পালাতে অলিগলি পার হয়ে বুড়িগঙ্গার পচা পানি খাবে ডুবে ডুবে।
“বিএনপি এখন সেদিনের অপেক্ষায় আছে। বিএনপি হল ভুয়া দল, ভুয়া দলের ভুয়া আন্দোলন জনগণ বিশ্বাস করে না। ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন।"
‘আওয়ামী লীগ কারও দাসত্ব করে না’
শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে অবিশ্বাস, ‘সংশয়ের দেয়াল’ ভেঙে দিয়েছেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসনামলের কথা স্মরণ করে বলেন, "ভারতের সঙ্গে ২১ বছর শত্রুতা করে আমাদের লাভ হয়নি। বিএনপি শত্রুতা করে সংশয়, অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল। সে কারণে সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। শেখ হাসিনা সে অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন।”
আওয়ামী লীগ কারও ‘দাসত্ব করে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ভারতের কাছে আমাদের ক্ষমতা আমরা চাই না, বন্ধুত্ব চাই। কারণ, এটা আমাদের স্বার্থেই দরকার। শত্রুতা করে আমাদের ক্ষতি করেছে ২১ বছর। আমরা সে অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না।”
বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির কথা তুলে ধরে কাদের বলেন, “পানির চুক্তি কে করেছেন? শেখ হাসিনা। সীমান্ত সমস্যার চুক্তি কে করেছেন? শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মত আরেকটি বাংলাদেশ আমরা সমুদ্র পেয়েছি আদালতের মাধ্যমে।"
বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গয়েশ্বর বাবু কোথায় ছিলেন এতদিন? কোথায় পালিয়ে ছিলেন? ভারতে? মাথায় উঠেছে গান্ধী টুপি। এখন ভণ্ডামি শুরু করেছে। কালকে পল্টনে দাঁড়িয়ে আমাদের বলে ভারতের দালাল। এই অপবাদ তো আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া দিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় খালেদা জিয়ার ভারত সফরের কথা তুলে ধরেন কাদের। বলেন, “ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি ভারত সফর করলেন, গঙ্গার পানির কী হল?’ তিনি বললেন, ‘আমি তো ভুলে গেছি।’ দালাল কারা?"
উপজেলা নির্বাচন ‘জনগণ প্রত্যাখান করেছে’ দাবি করে বিএনপির বক্তব্যেরও জবাব দেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, “তাহলে ৩৬ থেকে ৪০ শতাংশ লোক ভোট দিল, তারা কারা? তারা এই দেশের জনগণ। তারা উন্নয়নে, অর্জনে মুগ্ধ।"
আইএমএফের সফর প্রসঙ্গে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফে প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “কর্মকর্তারা সেদিন বলে গেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত খুব মজবুত। এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ার মধ্যে একমাত্র ভারত আমাদের চেয়ে একটু এগিয়ে থাকবে। এমনকি চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশের প্রবৃদ্ধি কম হবে।
" তাই শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখুন। অনেকেই অপবাদ দেবে, মিথ্যাচার করবে, তাদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না, কান দেবেন না। এই সংকট কেটে যাবে। আবারও সুদিনের অপেক্ষায় আমরা থাকতে পারব।"
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লায়লী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।