Published : 07 Sep 2026, 12:39 AM
লেখক, গবেষক ও মার্কসবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার।
এ উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
রোববার দলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উপলক্ষে কর্মসূচির তথ্য দিয়েছেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সোমবার সকাল ৮টায় জুরাইন গোরস্তানে বদরুদ্দীন উমরের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলভুক্ত শ্রেণি সংগঠন ও গণসংগঠনের পক্ষ থেকেও এ সময় শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।
এরপর বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে বদরুদ্দীন উমরের ওপর আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করবে দলে ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন (একাংশ)।
কর্মসূচির মধ্যে আরও আছে, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আলোচনা সভা।
‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেবেন।
মুক্তি কাউন্সিল জানিয়েছে, বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবাষিকী উপলক্ষে সোমবার চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদরুদ্দীন উমর গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই তিনি মারা যান।
১৯৩১ সালে ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ।
১৯৫০ সালে উমররা ঢাকায় চলে আসেন। ততদিনে তিনি বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন।
তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে এসে উমর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক শেষ করে ১৯৫৫ সালে দর্শন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর করেন। এরপর পড়তে যান যুক্তরাজ্যে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করেন ফিলোসফি, পলিটিক্স ও ইকোনমিক্সে (পিপিই)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ করার আগেই দর্শন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর।
১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগ দেন। তার হাত দিয়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা হয়।
ষাটের দশকে প্রকাশিত তার তিনটি বই সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬), সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭) ও সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৯) বাঙালি জাতীয়তাবাদের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন থেকেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
১৯৬৮ সালে শিক্ষকতার কাজে ইস্তফা দিয়ে সরাসরি রাজনীতি ও সার্বক্ষণিক লেখালেখিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন বদরুদ্দীন উমর।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী।
এক সময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সভাপতির দায়িত্ব নেন।
অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য বদরুদ্দীন উমরকে মনোনীত করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তার ভাষ্য ছিল, এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে তাকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে, তিনি কোনোটিই গ্রহণ করেননি।