১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আবু তালেবদের তারেক দর্শন

“তারেক ভাই কৃষকদের মূল্যায়ন করবে, জিনিসপত্রের দাম কমবে–এইতো আমাদের প্রত্যাশা।"

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Dec 2025, 03:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:23 PM

তারেক রহমানকে দেখবেন বলে সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন আবু তালেব। কুড়িল পর্যন্ত আসতে আসতেই ৯টা বেজে গেছে। ততক্ষণে পুরো এলাকা জনসমুদ্র। 

উপায়ান্তর না পেয়ে সকাল ১০টার দিকে খিলক্ষেত থানার ঠিক উল্টো দিকে কুড়িল ফ্লাই ওভারের মুখে রোড ডিভাইডারের ওপর উঠে দাঁড়ান তিনি। সেখানেও তখন সার বেঁধে শত শত লোক দাঁড়িয়ে। 

তারেক রহমানের গাড়িবহর যখন কুড়িল ফ্লাইওভার অতিক্রম করে, তখন বাজে বেলা ২টা। চার ঘণ্টা ধরে কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে, কখনো পা ঝুলিয়ে বসে সময় পার করছিলেন ৬০ ছুঁই ছুঁই আবু তালেব। 

গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর যখন জানতে চাওয়া হল, কেন এখানে এসেছেন, আবু তালেব বললেন, "তারেক রহমানরে দেখতে আইছি। আমি সংসদ ভবনের স্টাফ, হাওয়া ভবনে তারে দেখছিলাম। সেখানকার মসজিদে তার সাথে ফজরের নামাজও পড়ছি অনেকদিন। সেজন্য এক নজর চাইতে আইছি।"

ওই দূরত্বটা থেকে কাউকে ভালোভাবে একনজর দেখা কঠিনই বটে। তবে তাতেই মোটামুটি সন্তুষ্ট আবু তালেব। 

হাঁটার গতিতে চলার বাসের ভেতর থেকে তারেক রহমান যখন হাত নাড়ছিলেন, তখন ডিভাইডারের ওপর থেকে তালেবসহ অনেকে চিৎকার করে উল্লাস করছিলেন।

কেন উল্লাস করছিলেন জানতে চাইলে আবু তালেবের সোজা উত্তর, "উনি আসছেন। দেখবেন এখন দেশটা ঠাণ্ডা হইয়া যাইব। চারদিকে এত গ্যাঞ্জাম ভালো লাগে না।"

দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে সংসদ ভবনের বার্তাবাহক হিসেবে কর্মরত আবু তালেব এক সময় ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত কর্মী ছিলেন। সেই সুবাদেই তারেক রহমানের সঙ্গে এক মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ ঘটেছিল বলে জানালেন। 

২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে লন্ডনে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক। এরপর গত প্রায় ১৮ বছর তার কেটেছে নির্বাসনে। 

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন তারেক। তারপর গাড়িবহর নিয়ে রওনা হন পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের দিকে, সেখানে তাকে সংবর্ধন দেওয়া হবে।

গাড়ি বহর বিমানবন্দর থেকে ধীর গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় দুই ধারে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা একের পর এক স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুড়িল থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটের পুরো সড়ক লোকে লোকরাণ্য।

নওগাঁর পোরশা থেকে কৃষক মো. বাবলু ঢাকায় এসেছেন বুধবার। রাতে ভাড়া করা বাসেই ঘুমিয়েছেন। হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার আর সিএনজি স্টেশনের বাথরুমই ছিল ভরসা। মোটামুটি দুই দিনের ধকলে কিছুটা ক্লান্ত ৫৫ বছরের বাবলুও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন তারেক রহমানকে এক নজর দেখবেন বলে।

দেখা শেষে হাঁটা দিলেন ৩০০ ফিটের পথে, সমাবেশের বক্তব্য শুনবেন বলে। কুড়িল পর্যন্ত মাইক লাগানো হলেও বাবলু ‘আরেকটু স্পষ্ট’ শব্দ চান। 

কেন ঢাকা এসেছেন জানতে চাইলে বললেন, "খুব ছোটবেলায় জিয়াউর রহমানক দেখছিলাম। হামাকের পোরশায় আসছিল, জিপে করে। আইসা খাল কাটছিল। তখন থেকেই পছন্দ করি তাকে।"

বিএনপির কোন পদে আছেন কিনা জানতে চাইলে এই কৃষক বলেন, "না, আমার কোনো পদ নাই।"

দলে পদ নেই, তবু কেন এত কষ্ট করছেন? বাবলু বললেন, "জিয়াউর রহমানের সততা ছিল। উনি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়্যাও বউ বাচ্চার জন্যই সহায় সম্পত্তি রাখতে পারেননি। উনাকে কিন্তু হামাকের ওই এলাকার মানুষ ভালোবাসতো। কিন্তু এখন দেখেন চারদিকে কি হবার লাগছে।"

তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা কী–জানতে চাইলে মো. বাবলু বলেন, "তারেক রহমান তার বাবার আদর্শটা ধরে রাখবে এটা তো সবাই আশা করে। জিয়াউর রহমান কৃষকদেরকে মূল্যায়ন দিছিল। বিনা পয়সায় সার-বীজ দিছিল। তার সময় থেকে কিন্তু কৃষির উন্নয়ন শুরু হইছে। তারেক ভাই কৃষকদের মূল্যায়ন করবে, জিনিসপত্রের দাম কমবে–এইতো আমাদের প্রত্যাশা।"

জানতে চাইলে মো. বাবলু দাবি করেন, কেউ তাদের বাস ভাড়া করে দেননি। তারা নিজেরাই ৪৮ জন মিলে একটি বাস ভাড়া করে এসেছেন।

এক বিএনপি নেতার ভাড়া করে দেওয়া বাসে করে জামালপুরের মেলান্দহ থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় এসেছেন ভ্যানচালক মো. বিল্লাল। সারারাতের যাত্রার ধকলে ক্লান্ত শ্রান্ত বিল্লাল বসেছিলেন ফ্লাইওভারের নিচে, সমাবেশ শেষে সেখানেই দুপুরের খাবার দেওয়ার কথা তাদের। 

তারেক রহমানের কাছে কী প্রত্যাশা জানতে চাইলে বিল্লাল বলেন, "জিনিসপত্রের যে দাম, আমাদের মত গাঁও গ্রামের লোক তো চলতে পারি না। আগের সরকারের আমলে সিন্ডিকেট হইছে শুনছি। এইবার যেন মানুষ একটু শান্তিতে থাকতে পারে।"

নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করেন বিল্লাল। তিনি বলেন, "মামলা-টামলা দিয়া আমাদের লোকজনরে শেষ কইরা ফেলছিল। আমার বাড়িতে আগুন দিতে গেছিল। যে দলে ছিল, কিন্তু কখনো কিছু (কারো ক্ষতি) করে নাই, তার বিরুদ্ধেও মামলা হইছে। এই ব্যাবাকটি লোক আইজকা আইছে।"