১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জামায়াত ‘এখনো কোনো মেয়র প্রার্থী ঠিক করেনি’

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ডিএসসিসিতে প্রার্থী হচ্ছেন— এমন গুঞ্জন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 May 2026, 05:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:31 PM

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনও কোনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি বলে দাবি করেছেন দলের একাধিক নেতা। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এসব নেতা বলেছেন, ভোট নিয়ে তাদের প্রস্তুতি আছে। কিন্তু এখনো মেয়র প্রার্থী ঠিক করা হয়নি।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন— এমন একটি গুঞ্জন শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে। 

এ নিয়ে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা ও সংসদ সদস্য কামাল হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি বৈঠকে ছিলাম না। ফলে জানতে পারিনি এখনো কী সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

জামায়াতের ঢাকা দক্ষিণ কমিটির একাধিক নেতার ভাষ্য, শুক্রবার সকালে কাকরাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের সম্মেলন হয়। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় ‘সাদিক কায়েমের’ নাম আসে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক জরুরি ঘোষণায় এই ‘খবরে বিভ্রান্ত না’ হওয়ার আহ্বান জানান।

সাদিক কায়েমের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় একজন দায়িত্বশীলকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার সংবাদ কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রচার করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য হচ্ছে, “ইসলামী ছাত্রশিবিরে যেকোনো পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও তাকে প্রার্থী ঘোষণা করার সুযোগ নেই।

“ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে দায়িত্ব শেষ করে বিদায় নেওয়ার পর কেউ কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হলে কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”

জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয়ভাবে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হবে। 

“এর আগে কারো নাম আসলে বোঝা যায়, এটা স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।”

প্রচার বিভাগের এই প্রধান বলেন, “বাকি সব স্তর— পৌরসভা, উপজেলা, এগুলো স্থানীয় জামায়াত থেকে জানানো হবে। এখন যা হচ্ছে, অনেকটাই ব্যক্তিগত আগ্রহের জায়গা থেকে।”

২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন মনোনয়ন পান।

১৯৯৪ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।

জামায়াতের একাধিক নেতা বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীক না থাকায় প্রার্থিতার ক্ষেত্রে কোনো জোট নাও থাকতে পারে।

অবশ্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

গত ২৯ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হচ্ছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

ফলে তার বিরুদ্ধে এখানে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

এনসিপির বাকি চার প্রার্থীর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরে প্রার্থী হয়েছে দলটির নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব; কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম;  রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজাল।

এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ) দলীয় মনোনয়ন বা প্রতীক থাকছে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ সংক্রান্ত সংশোধনী আইন  পাস হয়েছে।

নির্বাচন ব্যবস্থা ও অন্তবর্তী সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের আগের অবস্থায় যাচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।