খালেদা জিয়ার বাসার সামনে ট্রাক-পেপার স্প্রে: জগলুল পাশার ৭ দিনের রিমান্ড
“এ আসামির তত্ত্বাবধানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জাল নথি তৈরি করা হয়েছিল; সেই মামলায় মিথ্যা সাক্ষীও দিয়েছেন তিনি,”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা, পেপার স্পে করার মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ আদেশের তথ্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন বৃহস্পতিবার।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তার মাথায় হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতে কড়া ছিল। পরে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলে দিলে তিনি কাঠগড়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
এরপর রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রিমান্ড আবেদনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন। ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, “গুলশানের বাসভবন থেকে যেন খালেদা জিয়া বের হতে না পারেন, সেজন্য বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমদানি করা পেপার স্প্রে নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
“এসব ঘটনার মূল পরিকল্পনায় ছিলেন জগলুল পাশা। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত বিষয় উন্মোচিত হবে। তার দেওয়া তথ্যেই সবকিছু স্পষ্ট হবে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিল।”
আসামির পক্ষে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।
তিনি বলেন, “৭১ বছরের জীবনে তিনি কখনো রাজনীতি করেনি। ঘটনার সময় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন। ২০১৫ সালের ২ মার্চ অবসর নেন।
“তিনি রাজনীতি করলে যুগ্ম সচিব হয়ে অবসর নেওয়ার কথা না; সচিব হয়েই অবসরে যেতেন। তিনি কোনো দল করেন না বলেই যুগ্ম সচিব থেকেই অবসরে যেতে হয়েছে।”
আইনজীবী আজাদ বলেন, “মামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি (আসামি) কিছুই জানেন না। ঘটনাস্থলে যাননি। এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।
“তাকে রিমান্ডে নিয়ে আসলে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না। রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
এরপর ওমর ফারুক বলেন, “এ আসামির তত্ত্বাবধানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জাল নথি তৈরি করা হয়েছিল। সেই মামলায় মিথ্যা সাক্ষীও দিয়েছেন তিনি।”
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসতে দেখা যায় জগলুল পাশাকে। আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথেও তার মুখে হাসি দেখা গেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ ১১১ আসামি এবং অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে দিনভর অবস্থান করেছিলেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন, সেজন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে।
কর্মসূচি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বার বার চেষ্টা করলেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন।
এই মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার’ অভিযোগ রয়েছে জগলুল পাশার বিরুদ্ধে।
