Published : 04 Aug 2026, 09:33 PM
চব্বিশ্বের আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে ‘ঢালাও কোনো নিষেধাজ্ঞা’ না থাকার কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌসুলী মো. আমিনুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের আদেশের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দুই বছর ধরে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ‘শুধু বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে বিফ্রিংয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগামী ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার খবর এবং তা প্রচারে কোনো আইনি বাধা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা আদালত অবমাননার (কনটেম্পট) আবেদনের পর জারি করা রুলের আদেশে তাকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেট স্পিচ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তাকে বক্তব্য দিতে বারণ করা হয়নি উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, “তাকে কিন্তু উনার বক্তব্য বলতে বারণ করা হয় নাই। শুধু বলা হয়েছে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেট স্পিচ । যদি উনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন, ওইটার ওপর তো আমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নাই।”
আর গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা হেট স্পিচ আপনারা প্রচার করবেন না। বাকি বক্তব্য প্রচার করতে আইনগত বাধা কোথায়?”
আগামী ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন—এমন খবরের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। কখনো বলা হচ্ছে তিনি সরাসরি বক্তব্য দেবেন, কখনো রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের কথা বলা হচ্ছে, আবার কখনো জনসমক্ষে আসার কথাও বলা হচ্ছে।”
এসব বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “এটার অথেন্টিসিটি নিয়ে তো আমাদের কোনো আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নাই।”
শেখ হাসিনা বক্তব্য দিন বা না দিন, সেটির সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কাজের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডের রায় কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই সরকারের কাজ।উনি বক্তব্য দিক অথবা না দিক, তাতে আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের সাথে তো এইসব কাজের কোনো সম্পর্ক নাই। আমাদের দরকার হচ্ছে যে উনি দণ্ডপ্রাপ্ত।’’
৫ আগস্ট ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ উপলক্ষে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার খবরকে ‘ব্যর্থ আস্ফালন’ হিসেবে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “এতে ওই দিনের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হবে না।একটা অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই এই প্রক্রিয়াটা এবং এইটা হলো আমরা বলব যে এইটা একটা ব্যর্থ আস্ফালন তার।এই ব্যর্থ আস্ফালন দিয়ে কালকের এই যে অর্জন, কালকের যে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, বেসরকারি অনুষ্ঠান, এগুলা কোনোটাই ব্যাহত হবে না।”
এদিকে শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের বিধান রয়েছে। ৩০ দিন পার হয়ে যাওয়ায় তার আপিলের সুযোগ নেই। ”
তিনি বলেন, “আমরা আপাতত দেখি যে ২১ এর ৩ অনুযায়ী যেহেতু ৩০ দিন পার হয়ে গেছে, এবং যেহেতু ওই সেকশনে বলছে যে এরপরে আর কোনো আপিল লাই করবে না, অতএব আপিলের সুযোগ নাই বলে আইন অনুযায়ী আমরা মনে করি।”
তবে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে আপিল আদালত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আপিলের ক্ষেত্রে ‘অটোমেটিক আপিল’ বলে কিছু নেই বলেও জানান তিনি। আপিল করলে তা ‘অ্যাজ অব রাইট’ হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলে ব্যাখ্যা করেন আমিনুল ইসলাম।
একইসঙ্গে পলাতক আসামি আইনের কোনো সুবিধা পায় না বলেও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করলে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ ক্ষমতার বিষয়টি আসতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, “কোনো আপিল বা কার্যক্রম আপিলেট কোর্টের সামনে এলে তখন ‘কমপ্লিট জাস্টিস’-এর প্রশ্ন ওঠে। আপিলটি আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা আগে আইনের ভিত্তিতে দেখা হবে”।
শেখ হাসিনার মামলাসহ যেসব আসামির সাজা বাড়ানোর জন্য প্রসিকিউশন আপিল করেছে, সেসব আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “এসব আপিলের শুনানি বিলম্বিত হলে কোনো কোনো আসামি সাজা ভোগ করে বের হয়ে যেতে পারেন।
“যেগুলো আমরা এনহ্যান্সমেন্টের জন্য আপিল করেছিলাম, সে আপিলগুলো আমাদের দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আমরা যদি আপিলগুলো এখন শুনানি না করি, তাহলে তো তাদের সাজা ভোগ করে তারা তো বের হয়ে যাবে।”
পলাতক থাকার কারণে শেখ হাসিনা বেশি সাজা পেয়েছেন আর উপস্থিত আসামিরা কম সাজা পেয়েছেন—এমন ধারণার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “সাজা নির্ধারণ করা হয় অপরাধের মাত্রা ও দায়ের ভিত্তিতে।
শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান থাকায় তার ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ অন্য আসামির দায়ের সঙ্গে একই নয় বলেও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
কারও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে অ্যাবেটমেন্টের দায় থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন,“যার বিরুদ্ধে যতটুকু অফেন্স প্রমাণ হবে, ওই অনুযায়ী জজ সাহেব সেন্টেন্সের প্রপোরশনেট রেটটাও ঠিক করবেন।”
সাজা নির্ধারণ বিচারকের বিচারিক এখতিয়ার বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন
হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার অনুরোধ সরকারের
হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই: দিল্লি
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে 'আইনগত ব্যবস্থা': তথ্য উপদেষ্টা
শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে, দিল্লিকে বলল ঢাকা