হাদিকে হত্যাচেষ্টা: জবানবন্দি দিলেন ফয়সালের মা-বাবা
“আসামিরা ফয়সাল করিম ও তার সহযোগীকে পালাতে এবং অস্ত্র লুকাতে সহযোগিতা করেন,” আদালতে বলেন ডিবির ফয়সাল আহমেদ।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির এবং মা হাসি বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ২ আসামিকে আদালতে হাজির করেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রুকনুজ্জামান বলেন, দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদনে বলা হয়, “আসামিরা মামলার ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবগত আছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামিরা এজাহার নামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীকে ঘটনার আগে ও পরে পালাতে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকাতে সহযোগিহতা করে।
“তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার প্রার্থনা করছি।”
এদিকে এদিন ফয়সাল করিম মাসুদকে মাইক্রোবাস ভাড়া দেওয়া রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার ফয়সালের সহযোগী কবিরের ৭ দিন, সোমবার ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
আগের দিন রোববার তিন দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয় হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সন্দেহভাজন মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে।
হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পরিবারের সম্মতি নিয়ে রোববার রাতে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।
চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
