Published : 18 Jul 2025, 09:12 PM
দেশের বেকার যুবকদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা ও উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সরকারে উদ্যোগের দাবি এসেছে ঢাকায় এক যুব সমাবেশ থেকে।
শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ঢাকা বিভাগ আয়োজিত এ সমাবেশে কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন চালু, নিবন্ধিত যুবকদের এক বছরের মধ্যে কাজ অথবা বেকার ভাতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ঘুষ ছাড়া অবিলম্বে সকল শূন্যপদে যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগবাণিজ্য, বদলিবাণিজ্য বন্ধ করা, দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রণোদনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরিতে রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদও উঠে আসে এই সমাবেশ থেকে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সহ-সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, “গত বছরের এই দিনে যে ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল তারা মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। আমরা সেদিনও ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আজকেও যারা মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা কথা বলে যাচ্ছি।”
জুলাই অভ্যুথানে যে ‘ফ্যাসিবাদকে’ বিদায় জানানোর কথা বর্তমান সরকার সেই ‘ফ্যাসিবাদী’ পথেই হাঁটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিহির ঘোষ বলেন, “আজকে আক্রান্ত হচ্ছে আমার মুক্তিযুদ্ধ, আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের ভাস্কর্য, আমাদের সংস্কৃতি। আমরা স্যালুট জানাই ছাত্র-জনতাকে, তারা ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। কিন্তু আজকে কারা জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, কারা বাহাত্তর সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলতে চায়? সে বিষয়েও সতর্ক হতে হবে।”
সব সম্পদ মাত্র ৫ ভাগ মানুষ কুক্ষিগত করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আজকে ৯৫ ভাগ মানুষের কাছে সম্পদ নাই, ৫ ভাগ মানুষের হাতে সব সম্পদ। আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট করে ব্যাংকগুলোকে লুট করেছে। মানুষ এজন্যই পথে নেমেছিল। আমরা সেদিন দাবি তুলেছিলাম ‘দুঃশাসন হটাও’।
“আমরা রাজপথে ছিলাম। শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হল, কিন্তু আজকে আমরা কি দেখছি? অন্তর্বর্তী সরকার কি নিরপেক্ষ আছে, নাকি নির্বাচনহীন দলীয় সরকারে পরিণত হচ্ছে? তাহলে এই সরকার কি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবে? এই সরকার একাত্তরের গণহত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।”
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, “জুলাইয়ের এক বছরের মধ্যেই আপনারা সচিবালয়ে গিয়ে টেবিল নিয়ে বসে গেলেন। জুলাইকে নিয়ে আপনারা ব্যবসা শুরু করলেন। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ব্যবসা করেছিল, আর জুলাইকে নিয়ে আপনারা মতলববাজি শুরু করেছেন।”
জুলাই অভ্যুত্থানে ৩৬ জন রিকশাচালক প্রাণ দিয়েছেন দাবি করে তিনি প্রশ্ন করেন, “তাদের জন্য কি কিছু করেছেন?”
অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দর ‘মার্কিনীদের দিতে চায়’ দাবি করে মাসুম বলেন, “আমরা রোড মার্চ করেছি। মা মাটি মোহনা আমরা বিদেশিদের দেব না।”
জেলায় জেলায় চাকরির পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “পঞ্চগড় থেকে কোনো কৃষকের ছেলে যখন চাকরি পেতে চায়, তাকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসতে হবে কেন? একবার ঢাকায় এলে তার ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। জেলায় থেকেই যেন চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।”
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, “বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাবি থেকে, যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবি থেকেই অভ্যুথান হয়েছে এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। অথচ বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটছে। যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নাই।”
বিকাল ৪টায় একটি মিছিল এসে সমাবেশে যোগ দেয়। এরপর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের সূচনা হয়।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রবীর সরদারের লেখা গান ‘যুবকের সমাবেশ বেকারের সমাবেশ’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এছাড়া ‘দেশ বাঁচাতে এসো আমরা রুখে দাঁড়াই’, ‘সময়ের প্রয়োজনে আমরা তৈরি’সহ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন তারা।
সমাবেশ নাচ পরিবেশন করেন উদীচী গেন্ডারিয়া শাখার শিল্পী তামান্না সিদ্দিকী নীলা। এছাড়া উদীচীর আবৃত্তি শিল্পীদের পরিবেশনাও ছিল।
সন্ধ্যায় উদীচী মঞ্চস্থ করে নতুন নাটক ‘ফ্রাঙ্কেস্টাইন’। এছাড়া ব্যান্ডের গান এবং বাউল গানও পরিবেশিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুব ইউনিয়ন ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি শাহীন ভূঁইয়া। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, যুব ইউনিয়ন নেতা আনোয়ার হোসেন, ইরান মোল্লা, রফিকুল ইসলাম।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সিপিবি নেতা আব্দুল্লাহ আল কাফী রতন, জলি তালুকদার, হাফিজ আদনান রিয়াদ, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, লাকী আক্তার, সোহেল ফকির, শিশির চক্রবর্তী, জাহিদ হোসেন খান, মহসিন রেজা।