০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুদান: বৈশ্বিক শক্তির দাবার ছকে বন্দি মানবিক বিপর্যয়

লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি, এক কোটিরও বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুতি, দুর্ভিক্ষ, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে সুদান আজ মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতীক।

সুদান: বৈশ্বিক শক্তির দাবার ছকে বন্দি মানবিক বিপর্যয়
সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদের কাছে বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে এক নারী। ছবি: রয়টার্স

পপি দেবী থাপা পপি দেবী থাপা

Published : 03 Aug 2026, 12:15 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

সুদান নামটি মনে হলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু কঙ্কালসার দেহ। ক্ষুধার যন্ত্রণায় পাঁজরের হাড় বের হওয়া আর চোখ কোটরে ঢুকে যাওয়া কিছু মানুষ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিস্তেজ মানবদেহ, যার কিছু পচে মিশে যাচ্ছে মাটিতে; খাচ্ছে শকুন কিংবা শেয়ালে। বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন শরীর, অঙ্গ হারিয়ে কাতরাচ্ছে মানুষ। চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুপথযাত্রীর গোঙানিতে ভারী আজ সুদানের বাতাস। মানুষ মরছে প্রতিনিয়ত কাতারে কাতারে। একটা এলাকা থেকে উধাও হচ্ছে গোটা জাতি। ধর্ষণ থেকে বাদ পড়ছে না এক বছরের শিশুও।

মানুষ যখন বিশ্বজয়ের নেশায় মত্ত, তখন এ বিশ্বেরই কোনো এক প্রান্তে নিরন্তর ঘটে চলা মানুষের বাস্তুচ্যুতি আর মৃত্যু—এই মানুষের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে ধরা দিচ্ছে কি? এটা মানবিকতার কোন অধ্যায়ের বিজয়? এহেন ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও যেখানে চলে সম্পদ বণ্টনের লড়াই! সোনার খনির অধিকারের দাম্ভিকতা! অথচ যে মানুষগুলো শুধু বাঁচতে চাইছে, তারা কি বুঝবে বা তাদের মাথায় কি ঢুকবে, ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে কার লাভ-ক্ষতির পাল্লা হচ্ছে ভারী? যার কাছে কর্ম নেই, খাবার নেই, তাকিয়ে তাকিয়ে মৃত্যু দেখা ছাড়া উপায় নেই, সে কী করে তার ভূখণ্ডে থাকা সম্পদের উত্তোলন কিংবা ব্যবহার নিয়ে মাথা ঘামাবে! সে নিজেই যখন ব্যবহৃত, নিঃশেষিত বা সেই পুঁজি অন্য কারো হাতে, অন্য কারও স্বার্থে। তেমনই অবস্থা এখন সুদানের। জাতিসংঘ বলছে, সুদান এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা আজ শুধু একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকট নয়; এটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটি। লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি, এক কোটিরও বেশি মানুষের বাস্তুচ্যুতি, দুর্ভিক্ষ, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে সুদান আজ মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতীক। এই বিপর্যয় কি কেবল দুই সামরিক নেতার ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক শক্তির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিযোগিতাও?

ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক কাঠামো, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সুদানের গুরুত্ব—সবকিছুই এখন একসঙ্গে বিবেচ্য। আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সুদান লোহিত সাগরের উপকূল, নীল নদের অববাহিকা, বিপুল স্বর্ণসম্পদ, উর্বর কৃষিজমি এবং আফ্রিকা-মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে কয়েক দশক ধরেই বৈশ্বিক শক্তির আগ্রহের কেন্দ্র। ফলে দেশটির অস্থিতিশীলতা কখনোই পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ ছিল না, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।

বর্তমান সংঘাতের দুটি প্রধান পক্ষ রয়েছে। সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী (SAF), যার নেতৃত্বে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF), যার নেতৃত্বে মোহাম্মদ হামদান দাগালো বা ‘হেমেতি’। ২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের শাসক ওমর আল-বশিরের পতনের পর তারা যৌথভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানেও একই পক্ষে ছিলেন তারা। কিন্তু ক্ষমতা ভাগাভাগি, আরএসএফ-কে সেনাবাহিনীতে একীভূত করা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।

এখানেই শেষ নয়, সংঘাতের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত। আরএসএফ-এর উৎপত্তি দারফুর অঞ্চলের কুখ্যাত জানজাওয়িদ মিলিশিয়া থেকে, যাদের বিরুদ্ধে ২০০৩ সালের দারফুর সংঘাতে জাতিগত নিধন, ধর্ষণ এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ওই সময় প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে জানজাওয়িদকে পুনর্গঠন করেই গড়ে ওঠে আরএসএফ।

গত এক দশকে আরএসএফ শুধু একটি আধাসামরিক বাহিনী নয়, একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কেও পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দারফুরের স্বর্ণখনির ওপর তাদের প্রভাব যে বিপুল আর্থিক সক্ষমতা সৃষ্টি করেছে, তা পরিস্থিতিই বলে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘স্বর্ণ অর্থনীতিই’ আরএসএফ-কে নিয়মিত সেনাবাহিনীর সমকক্ষ সামরিক শক্তিতে উন্নীত করেছে। অন্যদিকে এসএএফ নিয়ন্ত্রণ করে রাষ্ট্রের বৈধ সামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমানবাহিনী, ভারী অস্ত্র এবং সরকারি অবকাঠামোর বড় অংশ। ফলে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এ সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী খার্তুম ছাড়িয়ে দারফুর, কর্দোফানসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

সম্পদের কাড়াকাড়ি আর ক্ষমতার দম্ভের এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাস্তুচ্যুতি সংকটের মুখোমুখি। বাঁচার আশায় এক কোটিরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, যা চলমান। সেখানকার লাখো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে চাদ, দক্ষিণ সুদান, মিসর ও ইথিওপিয়ায়। অপুষ্টি, রোগ, শিক্ষাবঞ্চনা আর প্রতিনিয়ত নিরাপত্তার ঝুঁকিতে বেড়ে উঠছে হাজারও শিশু। একবেলা খাবারের আশায় অনেকে হচ্ছে বিপথগামী। মায়ের শুকনো বুকে দুধের অভাব; সন্তানের জন্য একবেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে অসংখ্য মা।

বোমা আর গোলাগুলিতে হাসপাতাল ধ্বংস হওয়ায় বহু মানুষ সাধারণ চিকিৎসাসেবাটুকু পাচ্ছে না। অঙ্গ হারানো মানুষের চিৎকারে কম্পিত সুদানের বাতাস। অনেক এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল, ওষুধ ও বিদ্যুতের অভাব। আধুনিক বিশ্বায়নের এ সময়ে একটি দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত! এ যুদ্ধ শুধু শহর ও অবকাঠামো ধ্বংস করেনি, কেড়ে নিয়েছে হাজারও মানুষের প্রাণ। মানুষ হয়েছে বাস্তুচ্যুত। এটি মানুষের স্বপ্ন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎকেও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এমন একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের শৈশবের স্মৃতি স্কুল বা খেলার মাঠ নয়, বরং গোলাগুলি, অনাহার, মৃত্যু এবং শরণার্থী শিবির।

মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি কার্যত ভেঙে পড়েছে সুদানের অর্থনীতিও। কৃষি, খনিজ, রপ্তানি, ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ স্থবির। অথচ স্বর্ণসম্পদই আজ যুদ্ধের অন্যতম অর্থনৈতিক জ্বালানি। যে সম্পদ একটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারত, সেটিই এখন সংঘাত দীর্ঘায়িত করার অন্যতম উৎস। সম্পদ যে অভিশাপ, এর একটি বাস্তব উদাহরণ এখন সুদান। যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ আশীর্বাদের পরিবর্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই স্পষ্ট যে, এটি কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানের অভিযোগ যে, আরএসএফ-এর কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমিরাত-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক ভূমিকা রেখেছে (যদিও আবুধাবি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে)। তবুও দারফুরের স্বর্ণসম্পদ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত।

অন্যদিকে মিসর দীর্ঘদিন ধরে এসএএফ-এর ঘনিষ্ঠ অংশীদার। নীল নদের পানিবণ্টন, ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম এবং দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তা—বিষয়গুলো কায়রোকে সুদানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। সৌদি আরব যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার উদ্যোগ নিলেও জেদ্দার শান্তি প্রক্রিয়া স্থায়ী ফল দিতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিলেও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভিন্ন স্বার্থ ওই প্রচেষ্টাকে করেছে দুর্বল।

রাশিয়ার আগ্রহ মূলত লোহিত সাগরে নৌঘাঁটি স্থাপন এবং সুদানের স্বর্ণসম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন সময়ে ওয়াগনার গ্রুপের সঙ্গে সুদানের স্বর্ণ খাতের সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ উঠলেও সব দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে চীন প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও সুদানে তাদের জ্বালানি বিনিয়োগ এবং আফ্রিকায় বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের কারণে দেশটির স্থিতিশীলতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লোহিত সাগরের গুরুত্ব এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান করিডোর এই অঞ্চল। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই পথ ব্যবহার করে। ফলে সুদানে যে শক্তির প্রভাব বাড়বে, সে পরোক্ষভাবে এই কৌশলগত সামুদ্রিক করিডোরেও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে। এই কারণেই সুদানের সংঘাতকে অনেক গবেষক ‘প্রক্সি যুদ্ধের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এটিকে সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো পূর্ণাঙ্গ প্রক্সি যুদ্ধ বলা এখনো যথার্থ নয়, কারণ অধিকাংশ বিদেশি শক্তি সরাসরি সেনা পাঠানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, গোয়েন্দা ও পরোক্ষ সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

এই সংকট আফ্রিকান ইউনিয়নের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। এইউ, আইজিএডি এবং জাতিসংঘ একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সংলাপের উদ্যোগ নিলেও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভিন্নমুখী স্বার্থ, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা এবং বহিরাগত শক্তির প্রভাব ওই প্রচেষ্টাকে কাঙ্ক্ষিত সফলতা এনে দিতে পারেনি।

সংকটের প্রভাব অতিক্রম করেছে দেশটির সীমান্ত। শরণার্থীর ঢল চাদ, দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া ও মিসরের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বেড়েছে অস্ত্র চোরাচালান, মানব পাচারসহ সীমান্ত অস্থিতিশীলতা। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ঘিরে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ আছে। ওই অঞ্চলের অস্থিরতা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি মূল্য এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর যে প্রভাব ফেলবে, বাংলাদেশের পক্ষে তার বাইরে থাকা সম্ভব নয়।

সুদানের বর্তমান সংকটকে কেবল গৃহযুদ্ধ বললে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ধরা পড়ে না। এটি এমন এক বহুমাত্রিক সংঘাত, যেখানে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্বর্ণ অর্থনীতি, লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে।

এই জটিল ভূরাজনীতির শেষ হিসাবটি কোনো সামরিক মানচিত্রে লেখা হয় না। লেখা হয় শরণার্থী শিবিরের ধুলোমাখা তাঁবুতে, ক্ষুধার্ত শিশুর চোখে আর যুদ্ধবিধ্বস্ত মায়ের দীর্ঘশ্বাসে। বিশ্বশক্তির দাবার বোর্ডে কৌশলের হিসাব কষে ঘুঁটি সরানো হলেও প্রতিটি চালের মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ। সুদানের শান্তি শুধু একটি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক বিবেকেরও কঠিন পরীক্ষা। যদি বিশ্বশক্তিগুলো নিজেদের কৌশলগত প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সুদান শুধু একটি রাষ্ট্রের ট্র্যাজেডি হয়েই থাকবে না, এটি হবে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক নৈতিক ব্যর্থতারও প্রতীক।

পপি দেবী থাপা সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী। ই-মেইল: popythapabpc@gmail.com