অতিমারীতে অতিচালাকি: গলার দড়ি হিন্দি সিনেমা

আশফাক আনুপ
Published : 28 Nov 2020, 05:53 PM
Updated : 28 Nov 2020, 05:53 PM

প্রতি অমাবশ্যা-পূর্ণিমাতে হিন্দি চলচ্চিত্র আনবার যে মৌসুমি আবদার লক্ষ্য করা যায় বাংলাদেশের হল মালিকদের মধ্যে, গত কিছুদিন ধরে আবার সেটা দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে অসংখ্য যুক্তি দাঁড় করানো হয় এবং হচ্ছে। কেবল "মানি না, মানব না" না করে, সেগুলোর কিছু যুক্তিসঙ্গত খণ্ডন প্রয়োজন। এজন্যই এই লেখাটির অবতারণা। খানিকটা দীর্ঘ হবে। তবে যথাসম্ভব সাবলিল থাকার চেষ্টা করছি।

আলু বেচো, পেঁয়াজ বেচো

অধিক আর কোনো অবতরণিকায় না যাই। কোভিড অতিমারীতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরে দেশে চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহগুলো খুলেছে গত ১৬ অক্টোবর। এক সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই দেশের হল মালিকদের সমিতি (বাংলাদেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি) থেকে আবদার করা হয়েছে তাদেরকে হিন্দি সিনেমা আনতে অনুমতি দেয়া হোক। কারণ হিসেবে প্রথম তারা বলছেন, নির্মাতাগণ প্রায় ত্রিশটি বড় বাজেটের ছবি বানিয়েও, হল-এ না ছেড়ে বসে আছেন করোনাভাইরাসের কারণে! এই কথার সত্যতা স্বীকার করেছেন প্রযোজক নেতারাও। তবে এরচেয়েও বড় সত্য হচ্ছে- এই বাস্তবতা কেবল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের নয়। হলিউড, এমনকি বলিউডেরও এখন ঠিক এমনটাই অবস্থা। ভারতের হলগুলো অনেকক্ষেত্রে পুরোনো সিনেমা চালিয়ে প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলাতে চেষ্টা করছে!

তবে এখানেই আসছে মালিক সমিতির পরবর্তী যুক্তিটি! ওনাদের সহসভাপতি জনাব আলাউদ্দিন আলী গতকাল যুক্তি দিয়েছেন- "যখন দেশ পেঁয়াজসংকটে পড়েছে, আমদানি করতে হচ্ছে। দেশ সিনেমা সংকটে পড়েছে, এখন সেটা আমদানি করা যাবে না?" অস্বীকার করব না, যুক্তিটি শুনতে প্রথমে বেশ লাগে! আসলেও তো, পণ্যায়নের এই যুগে চলচ্চিত্রও একটি পণ্য বটে। কিন্তু আলু-পেঁয়াজ যেমন পণ্য, চলচ্চিত্রও কি ঠিক তেমনই পণ্য? প্রথমত ধরে নিই যে- হ্যাঁ, চলচ্চিত্রও ঠিক তেমনি একটি পণ্য। তো আমার দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হলে, আমি অন্যদেশ থেকে পেঁয়াজই তো আমদানি করি, পেঁয়াজের কলি নয় নিশ্চয়ই। অর্থাৎ, এটা নিশ্চিত হতে হবে যে আমার দেশে যখন "নতুন চলচ্চিত্র" উৎপাদিত হচ্ছে না, তখন অন্যদেশ থেকে আমায় "নতুন চলচ্চিত্র"ই আনতে হবে! কারণ, পুরোনো সিনেমা চালাতে হলে, সেক্ষেত্রে পুরোনো বাংলা সিনেমাই চলতে পারে। অথচ বিবিসি বলছে- ভারতের প্রযোজকগণ নিজেদের দেশেই এ মুহূর্তে নতুন কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি দিচ্ছেন না লোকসানের আশঙ্কায়! তাহলে পণ্যায়নের সেই সংজ্ঞানুসারে এটুকু মোটামুটি নিশ্চিত যে এই পেঁয়াজ আসলে ঠিক সেই পেঁয়াজ নয়।

তবে এবার আসল কথা বলি! হ্যাঁ; চলচ্চিত্র পণ্য বটে, তবে তা আলু বা পেঁয়াজ নয়। শিক্ষা যেমন প্রায়ই পণ্য হিসেবে বিকোলেও, আদতে একটি সেবা; তেমনি চলচ্চিত্রও পণ্য হিসেবে দৃশ্যমান হলেও আদতে একটি শিল্প। শিক্ষার মতো চলচ্চিত্রেরও একটি ভাষা থাকে। এবং শিক্ষার মতোই, চলচ্চিত্রেও সেই ভাষিক মাধ্যমটি কোন সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি মন চাইলেই দু'দিন পর পর হিন্দি সিনেমা আমদানির আবদার তুলতে পারেন না।

করোনা: মাথায় হাত, নাকি অজুহাত?

এক্ষেত্রে যুক্তি আসতে পারে, হল-মালিকগণ তো "সাময়িক সময়ের জন্য" বা "আপদকালীন পরিস্থিতি"তে বলিউডের সিনেমা চালাতে চাইছেন। এটুকু সুযোগ না দিলে ওনারা যাবেন কোথায়? এই দাবিরও আংশিক সত্যতা আছে। হল-মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা জনাব সুদীপ্ত কুমার দাস গত ২০ নভেম্বর দাবি করেছেন- ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে চলচ্চিত্রের অবস্থা 'স্বাভাবিক' হলে বলিউডের সিনেমা আর আনার প্রয়োজন থাকবে না!

প্রথমত, আগেই উল্লেখ করেছি যে এখনই ওনাদের পক্ষে বলিউডের নতুন সিনেমা আনা সম্ভব নয় কারণ বলিউডের প্রযোজকগণ নিজেরাই এই মুহূর্তে নতুন কোনো সিনেমা ছাড়ছেন না। তাই এই কোভিড আপদের সময় হল মালিকগণ নতুন হিন্দি ছবি পাচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। ডেইলি স্টার বাংলা গত ২১ নভেম্বর মালিক সমিতির সাথে আলাপের প্রেক্ষিতে এর সত্যতা নিশ্চিত করছে। তাদের রিপোর্ট অনুসারে, নতুন হিন্দি সিনেমা একই দিনে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মুক্তি দেবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে সাফটা চুক্তির "ঈষৎ পরিবর্তন" করে আমদানি চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে প্রায় ৬ মাস

এবার চলুন আমরা করোনাভাইরাসের দিকে ফিরে তাকাই। ইতোমধ্যেই ফাইজার নামক ঔষধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি তাদের তৈরি করোনাভাইরাস প্রতিষেধকের চূড়ান্ত ট্রায়াল শেষ করেছে এবং অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। সে আবেদন শীঘ্রই গৃহীত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করছে। সেক্ষেত্রে, আশা করা যায় আগামী এক মাসের মধ্যেই কোভিডের বেশ কার্যকর প্রতিষেধক বিশ্ববাজারে আসছে। একই প্রযুক্তির ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক মডার্নাও তাদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করেছে। অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রোজেনেকার পক্ষ থেকেও জানানো হচ্ছে তাদের কার্যকারিতার নিশ্চয়তা পাওয়া যেতে পারে এ বছরের শেষ নাগাদ। এই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনেরই ৩ কোটি ডোজের ক্রয়চুক্তিও ইতোমধ্যে সাক্ষর করেছে বাংলাদেশে সরকার। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশ কার্যকর কোভিড ভ্যাকসিন কবে নাগাদ পাবে সে ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা না দেয়া গেলেও, ৬ মাস নাগাদ তা শুরুর আশা করাই যায়। এবং এরমধ্যে দেশে শীতকালও পেরিয়ে যাবে, যা কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে- পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে এটুকুও বলা যায়। অর্থাৎ, আগামী ছয়মাস পরে দেশে কোভিড পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে এমনটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে, দেশি চলচ্চিত্র দিয়েই তো ছয়মাস পরে ওনাদের ব্যবসা করবার চিন্তা করার কথা। করোনা'র অজুহাত কি আদৌ খাটছে এখানে আর?

তবু, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে ছয়মাস পরেও দেশি চলচ্চিত্র মুক্তির ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থাকবে এজন্যই হল মালিকগণ থরহরিকম্পমান, সেক্ষেত্রে এটুকু জানিয়ে রাখা প্রয়োজন বোধ করছি যে, এই গত মাসেই তথ্যমন্ত্রীর সাথে হল মালিক সমিতির বৈঠকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোনো প্রণোদনার আবেদন করেননি তারা। যারা আসন্ন আর্থিক ক্ষতি নিয়ে এতটা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, সরকার প্রায় সকল খাতেই বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা দিচ্ছে জেনেও তারা কেন সে আবেদন করলেন না, তা আমার বোধগম্য হয়নি। বস্তুত, হিন্দি ছবি আমদানি সংক্রান্ত সবুজ সংকেতের প্রেক্ষিতে ওনাদের সমিতির সাবেক সভাপতির বক্তব্যটিও এখানে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করছি। মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ও হল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি জনাব ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ ডয়েচে ভেলেকে জানাচ্ছেন- "এটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল৷ দেরি হয়ে গেছে৷ তারপরও সময় ফুরিয়ে যায়নি৷ যত দ্রুত সম্ভব এটা করতেই হবে৷ তবে পুরনো হিন্দি ছবি দিয়ে হলে দর্শক আনা সম্ভব নয়৷"

উল্লেখ্য, জনাব নওশাদ ২০১০ সাল থেকেই আইনি ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশে হিন্দি সিনেমা আনবার ব্যাপারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন৮,৯। ইংরেজিতে একটা কথা বলা হয়, If it looks like a duck, swims like a duck, and quacks like a duck, then it probably is a duck. সুতরাং, আগামী ৬ মাস কোনো নতুন হিন্দি সিনেমা না পাওয়া সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের অজুহাত উপস্থাপন, আর্থিক ক্ষতির মুখে থেকেও সরকারের কাছে কোনো প্রণোদনার আবেদন না করা, সাফটা' চুক্তির ধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন হিন্দি সিনেমা ভারতের সাথে সাথে একই দিনে মুক্তি দেয়ার বন্দোবস্ত করার চেষ্টা এবং সাথে জনাব নওশাদদের কাছ থেকে আসা স্বাগত বক্তব্য এটুকু নিশ্চিত করে যে- করোনাকালীন "সাময়িক" সিদ্ধান্ত হিসেবে যেটা দেখানো হচ্ছে, আদৌ সে আবদার করোনা'র সাথে সম্পর্কযুক্তই নয়।

অর্থাৎ, এটুকুতে একমত হওয়া যাচ্ছে যে, হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনের ব্যাপারে যে সবুজ বাতি দেখা যাচ্ছে তা কেবল এই করোনাকালের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। এটা মূলত, বাংলাদেশে বলিউডি হিন্দি সিনেমার অবাধ প্রবেশের সূচনামাত্র।

হিন্দি ছবিতে সমস্যা কী?

এই কিছুদিন আগেই একটি ব্যক্তিগত আলাপে এই প্রশ্নের মুখে পড়েছি। এই সমস্যার আলাপে যাবার আগে আমি প্রবাদপ্রতীম চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেনের একটি ভাষ্য এখানে উপস্থাপন করি। তার ভাষ্যে: "একদিন আমরা কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করলাম। তাকে জানালাম, এই সময়ে কলকাতার কিছু ক্ল্যাসিক বাংলা ছবি পেলে যেমন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিককুমার ঘটক, মৃণাল সেন- এ ধরনের পরিচালকদের কিছু ছবি যদি আমরা দেখি, তাহলে এ দেশের ছবির মান আরো উন্নত হবে। বঙ্গবন্ধু পাইপ টেনে বলেন, ওরা কি শুধু বাংলা ছবি দেবে? মনে হয় না, ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করে দেখি। সেদিনের মতো আমরা চলে এলাম। দুই সপ্তাহ পর উনি ডাকলেন আমাদের। আমরা গিয়ে দেখি উনি উত্তপ্ত। ঘন ঘন পাইপ টানছেন। একটা চিঠি আমাদের হাতে দিয়ে বললেন, 'পড়ো'। নীরবেই আমরা চিঠিটা পড়লাম। চিঠিতে লেখা আছে, শুধু বাংলা ছবি নয়, হিন্দি ছবিও নিতে হবে। হঠাৎ করে টান মেরেই চিঠিটা আমাদের হাত থেকে নিয়ে গেলেন বঙ্গবন্ধু। তারপর ছিঁড়ে কুচিকুচি করে চিঠিটা ফেলে দিয়ে বললেন, কী বলছিলাম? শুধু বাংলা ছবি ওরা দেবে না।১০" অর্থাৎ, হিন্দি ছবিতে সমস্যা আপনি না দেখলেও এদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা ঠিকই দেখেছিলেন।

এবার প্রশ্নকর্তাকে একটা পালটা প্রশ্ন করি। বাংলাদেশে তো ভারতীয় আর পাকিস্তানি ছবি বাদে অন্য কোনো ছবি আমদানি নিয়ে আইনি বাঁধা নেই। তাছাড়া সাফটা চুক্তির বিনিময় শর্তের আওতায় পশ্চিমবাংলার বাংলা চলচ্চিত্রও তো আসছে হরদম- সেক্ষেত্রে হল মালিকদের হিন্দি ছবিই আনতে হবে কেন? এই প্রশ্নটির নানা উত্তর পাওয়া যায়। "মান ভাল" তত্ত্ব (সেক্ষেত্রে কোরিয়ান, নাইজেরিয়ান ছবি আনতে দোষ কী?), "কন্টেন্ট ভাল" তত্ত্ব (সেক্ষেত্রে কোরিয়ান, নাইজেরিয়ান ছবি আনতে দোষ কী?), "প্রতিযোগিতা" তত্ত্ব (প্রতিযোগীতাই যদি করতে হয় নির্মাতাদের, তবে হলিউডের সাথেই করুক) ইত্যাদিকে বিশ্লেষণ করে যে উত্তরটিতে মোটামুটি থিতু হওয়া যায় তাহচ্ছে- হিন্দি ভাষাটি বাঙালির কাছে বোধগম্য তাই ব্যবসাবান্ধব বলে মনে করছেন হল মালিকগণ। কিন্তু, হিন্দির তো এদেশে বোধগম্য হবার কোনো কারণ নেই। ভাষাটি না এদেশের দাপ্তরিক ভাষা, না তার কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এদেশে দেয়া হয়! আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যা বলে, তাতে এক প্রজন্ম আগেও হিন্দিকে বোধগম্য কোনো ভাষা বলে দাবি করার মতো অবস্থা এদেশে ছিল না। তাহলে হঠাৎ এমন কী হলো যাতে করে এই বাস্তবতা বদলে গেল? এই যে আপনার পূর্বপুরুষ যে ভাষা জানত না, যে ভাষা আপনি নিজের আগ্রহে শেখেননি, যে ভাষায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও পাননি আপনি, সে ভাষা আপনার কাছে হঠাৎ করে বোধগম্য হয়ে ওঠে এ কারণেই যে আপনি না চাইলেও সে ভাষা আপনাকে গিলতে হচ্ছে। এটাকেই বলে ভাষিক সাম্রাজ্যবাদ। সমাজ বিজ্ঞানীরা একে বলছেন Cultural Hegemony বা সাংস্কৃতিক প্রভুত্ব। সরাসরি ভৌগলিক প্রভুত্ব করতে চেয়ে উর্দু ও পাকিস্তান চিরতরে নির্বাসিত হয়েছে যেদেশ থেকে, সেখানে সাংস্কৃতিক প্রভুত্ব করতে গিয়ে হিন্দির তো কিছুটা বেগ পাওয়াই উচিত। নয় কি?

টিভি খুললেই তো হিন্দি! তবে আর সিনেমাতে আপত্তি কেন?

এই যুক্তিটা বেশ মজার। এটা অনেকটা, ব্রংকাইটিস ধরা পড়ার পরে "সিগারেট ছেড়ে আর কী হবে" ধারার যুক্তি। কেবল নেটওয়ার্কে সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের নীতিমালার অভাবে যে আধিপত্যবাদ সুঁচ হয়ে ঢুকেছে তাকে ফাল হয়ে বেরোতে আর যেই হোক আপনি কেন সহায়তা করবেন? ক্যাবল নেটওয়ার্কে ঢুকছে বলে এখন প্রেক্ষাগৃহেও ডেকে আনতে হবে- এ ধরনের যুক্তি আসলে যুক্তি হিসেবে ভাল না।

উল্লেখ্য যে আকাশ সংস্কৃতির হাত ধরে এদেশে হিন্দি গানের প্রবেশও অবাধ। কিন্তু, এরপরও বাণিজ্যিকভাবে হিন্দি গানের ব্যবহারের উপর ২০১৫ সালে বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে১১। উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞায় নির্দিষ্টভাবে "হিন্দি" গানের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধের স্বার্থে। সুতরাং, যে বাস্তবতা বাঙালির জাতির পিতা বুঝেছেন, যে বাস্তবতা এ রাষ্ট্রের আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে, তা নিয়ে তর্ক সাজানোর আর প্রয়োজন বোধ করছি না।

প্রেক্ষাগৃহ সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এরা বাঁচবে কী করে?

ভারতের প্রেক্ষাগৃহের বিবর্তন শীর্ষক একটি গবেষণা নিবন্ধ পড়ছিলাম। সেখানে অধ্যাপক লরেন্স লিয়াং-এর একটি বক্তব্যে চোখ আটকে গেল। ভাবানুবাদ করলে কথাটুকুর অর্থ দাঁড়ায় অনেকটা এমন- "সিনেমা বা প্রেক্ষাগৃহের এমন কোনো গল্প লেখা সম্ভব না, যে গল্প একই সাথে সেই শহরের ইতিহাস, তার আধুনিকতার উপলব্ধি এবং এই প্রেক্ষাগৃহগুলোকে ঘিরে থাকা দ্বন্দগুলোরও গল্প নয়।"১২ অর্থাৎ, ভারতের প্রেক্ষাগৃহের বিবর্তনের একটি ধারা উনি লক্ষ্য করেছেন যা ওনাকে এই বিশ্বাস দিয়েছে যে- একটি প্রেক্ষাগৃহের বিবর্তন সেই শহরের বিবর্তনের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। বাংলাদেশের মফস্বলগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক বিবর্তনগুলো নিয়ে ভাবলে এবং এর সাথে সেখানকার প্রেক্ষাগৃহগুলোর বিবর্তনকে মেলাতে গেলে হোঁচট খাবেন। একটু খোঁজ নিলেই জানবেন- মফস্বলের সিনেমা হলগুলোর দুরবস্থার সূচনা মূলত গত তত্ত্বাবধায়ক আমলে "অশ্লীল" সিনেমার বিরূদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে। তার আগ পর্যন্ত তাদের আদতে চলচ্চিত্রের মান নিয়ে বিশেষ অভিযোগ ছিল না। অবকাঠামোগত পরিস্থিতিও ছিল তথৈবচ। অথচ ব্যবসাসফল ছিল প্রায় সবগুলোই।

এদিকে, গত এক যুগে দেশ হিসেবে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে বাংলাদেশের। অবকাঠামোগত, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে এরসাথে পাল্লা দিয়ে। সেই ছোঁয়া লেগেছে মহানগর থেকে শুরু করে মফস্বল পর্যন্ত। অথচ, সেই বিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে পারেনি প্রেক্ষাগৃহগুলো। সুতরাং, দেশের যে প্রেক্ষাগৃহগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, তার একটা বড় অংশই মূলত বন্ধ হয়ে গেছে এই তাল মেলাতে না পারার কারণে। তথাকথিত, মাঝারিমানের সিনেমাও মফস্বলের মধ্যবিত্ত দর্শক দেখতে যেত যদি, প্লাস্টিকের চেয়ারটাতে সময়ের সাথে গদি বসত, পরিবারের নারী সদস্যদের সান্ধ্য-শো দেখতে গিয়ে হেনস্থা না হবার মতো নিরাপত্তাটুকু থাকত। এগুলো কিন্তু গত ১৫ বছর আগেও, যখনও হল মালিকদের ব্যবসায় টান পড়েনি, তখনও তাদের খেয়াল হয়নি। আজকে হঠাত করে তারা বুঝে ফেললেন, এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় "নতুন হিন্দি চলচ্চিত্র আমদানি করা", এই উপলব্ধিতে তাই বিশ্বাস রাখতে পারছি না। তাই, সম্প্রতি ওনাদের এই পুরোনো আবদার আবার নতুন করে কানে আসবার পরে, কৌতুহলবশত এ ব্যাপারে গত এক দশক সবথেকে উচ্চকিত যিনি, সেই জনাব ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ-এর মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহি "মধুমিতা" সিনেমা হলটির ব্যাপারে একটু খোঁজ নিতে ইন্টারনেটে বসলাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে- ঢাকা শহর যা কিনা একটি মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাওয়া রাষ্ট্রের রাজধানী, তারও বিজনেস সেন্টার যে মতিঝিল, তার প্রাণকেন্দ্রে বসে থাকা ৫০ বছরের পুরোনো সিনেমা হলটির কোনো ওয়েবসাইট কোথাও খুঁজে পেলাম না। যেই মহানগরটি উপমহাদেশের ভবিষ্যত আইটি হাব হয়ে উঠতে পারে, তার সব থেকে পুরোনো প্রেক্ষাগৃহের কোনো ওয়েবসাইট নেই। এমন নিশ্চই নয় যে একটি ওয়েবসাইট বানাতে কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা লাগবে।

এইযে আমাদের হল-মালিকগণ কথায় কথায়, "বাংলায় ভাল সিনেমা নেই", "মান ভাল না", "দর্শক আসে না" ইত্যাদি গান ধরেন- কেউ কি ওনাদের একবার জিজ্ঞেস করেছে আপনাদের অবকাঠামোর মান যে ভাল না, আপনারা যে ব্যবসায়ী হিসেবে সেকেলে, সে সমস্যার সমাধান কি হিন্দি রেডি প্রোডাক্ট আমদানিতেই নিহিত? যেমনটা ছিল "কাটপিস" আমলে? এই রেডিমেড সমাধানের যে খুব সাম্প্রতিক সাফল্য আছে তাও কিন্তু না, সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি করা ভারতীয় ছবিগুলোর কোনোটাই ব্যবসা সফল হয়নি১৩। এবার তাই সম্ভবত "নতুন সিনেমা" আমদানির আবদার। ওনাদের কাজের এই ধরণটিকে বলা হয়, ট্রায়াল এন্ড এরর। বাংলায় বলা যায়- "ঠেকে শেখা"। "দেখে" শেখবার মতো স্মার্টনেসের অভাব, অথচ পরিচালক-প্রযোজকের ওপরে দোষ চাপাতে সিদ্ধহস্ত। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পরিচালক-প্রযোজকগণ তো তাও ভাল-খারাপ-মাঝারির মিশেলে বেশ কিছু সিনেমা দেখবার সুযোগ করে দিয়েছে দর্শককে। আমাদের জোটবদ্ধ হল মালিকগণ নিজেদের উন্নয়নের ছাপ কিসে রেখেছেন- তা আমার বোধগম্য না। তাছাড়া "কাটপিস" আমলে আপনাদের রেডিমেড বটিকায় রক্ষা করে যেহেতু আজকের এই দিন দেখতে হচ্ছে আমাদের, সেক্ষেত্রে নতুন এই রেডিমেড বটিকা সেবন করে এরচেয়ে খারাপ দিন যে দেখতে হবে না তা বলি কী করে? তাই, প্রেক্ষাগৃহের সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত নাকি, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে- এই প্রশ্নের উত্তরে আমি চোখ বুজে দ্বিতীয়টিতেই টিক দিচ্ছি।

মাল্টিপ্লেক্সে চলা ইংরেজিতে সমস্যা নেই, হিন্দিতেই যত সমস্যা?

প্রথমত, মাল্টিপ্লেক্সে কেবল ইংরেজি চলে না, বাংলাও চলে। নিয়মিতই চলে। সেই চলবার কারণও এই না যে, সেই বাংলা সিনেমাগুলো সব কালোত্তীর্ণ। বরং মূলত এই যে- শহুরে মধ্যবিত্তকে মাল্টিপ্লেক্সগুলো কেবল একটি চলচ্চিত্র দেখাচ্ছে না, বরং সেই কয়েকঘন্টার একটি 'পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা' নিরাপত্তার সাথে নিশ্চিত করছে। এটিই শহুরে মধ্যবিত্তের প্রাপ্তি মাল্টিপ্লেক্সগুলোর কাছ থেকে। যা তারা অধিকাংশ গতানুগতিক সিনেমা হলগুলো থেকে পাচ্ছে না। ফলাফলও মোটামুটি পরিষ্কার। একসময় মাত্র একটি মাল্টিপ্লেক্স দিয়ে শুরু করে, স্টার সিনেপ্লেক্সের বর্তমান মাল্টিপ্লেক্সের সংখ্যা ৪টি। হল-মালিকগণ নিজেদের ব্যবসা যেমন দেখছেন, মধ্যবিত্ত দর্শকের চাহিদাটাও তেমনটা দেখলে এই অপ্রিয় তুলনাটি আনতে হতো না।

আর দ্বিতীয়ত, না, ইংরেজিতে আপাতত বিশেষ সমস্যা নেই। থেকে লাভও নেই। কারণ, ইংরেজি উপমহাদেশের লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা হতে চায় না, কারণ সেটা সে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিকভাবে হয়ে গেছে। কিন্তু হিন্দি ঠিকই ভাষিক সাম্রাজ্যবাদ চালিয়ে এই অঞ্চলের লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা হতে চাইছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র ভারতেরও সরাসরি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আছে নিজ রাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে। সেটার কারণ সাংস্কৃতিক বটে, সাথে পুঁজিগতও। তাই, এক্ষেত্রে ভারতের প্রবাদপ্রতীম তামিল জাতীয়তাবাদি নেতা সি এন আন্নাদুরাই এর একটি উক্তিই উল্লেখ করি কেবল। ওনার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এমন- "বড় কুকুরের (ইংরেজি) জন্য যেহেতু বড় দরজা তৈরি করাই হয়েছে, ছোট কুকুরও (হিন্দি) তবে সেই পথেই আসুক। তার জন্য তো আলাদা দরজার দরকার নেই।"

শুধু মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র চাইছেন?

এখানকার উত্তরটা অনেকের অপ্রিয় হতে পারে। অগ্রীম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মধ্যবিত্ত গণ্ডিটি ঠিক বিত্তগত গণ্ডি না, বরং অনেকটাই চিত্তগত গণ্ডি। সামাজিক মনস্তত্তে এই আলাপটি একেবারে নতুন নয়। তবে সেটা এখানকার মূল বক্তব্য না। মূল বক্তব্য এই যে, লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকসের শিক্ষক ড. গার্বেন বেকার চলচ্চিত্র দর্শকদের বিবর্তন বিশ্লেষণ সংক্রান্ত ওনার ওয়ার্কিং পেপারে দেখান যে, ১৮৯০-১৯৪০ সাল নাগাদ মার্কিন চলচ্চিত্রের দর্শক মূলত ছিল মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ঘরাণার মানুষেরা এবং তাদের ধরেই আধুনিক আমেরিকার চলচ্চিত্র রুচি গড়ে ওঠে, যার বর্তমান রূপ আমরা হলিউডে দেখতে পাই১৪। এখানে যে বাস্তবতাটি বুঝতে হবে তা হচ্ছে, কোনো আর্থ-সামাজিক শ্রেণিকে আলাদাভাবে বৈষম্যের শিকার না করেও এটা স্বীকার করতে হয় যে চলচ্চিত্র মূলত মধ্যবিত্তের বিনোদন মাধ্যম যা মধ্যবিত্ত রুচিকে প্রতিফলিত করে, কিন্তু ছাপ ফেলতে পারে সকল গণ্ডিতে। তাই হ্যাঁ, চলচ্চিত্রকে কেবল আলু-পেঁয়াজের মতো ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখার এটাও আরেক বিপদ। যেহেতু, আদতে এটি একটি শিল্প, তাই এটির ক্ষেত্রে কেবল সাময়িক লাভের চিন্তা করলে দূরের যাত্রায় শুধু এক গাড্ডা থেকে উঠে আরেক গাড্ডাতেই পড়বেন। কোথায় যেন পড়ছিলাম, ২০০৫ সালে রমরমা ব্যবসা দেখে সিনেমা হলের ব্যবসা খুলে এখন সেটাকে চাল ভাঙার কলঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন এক সাবেক হল মালিক। এটার দোষ যতটা চলচ্চিত্রের প্রাপ্যতায় তারচেয়ে অনেক বেশি পণ্যটিকে না বুঝতে পারায়।

তাহলে উপায় কী?

এক্ষেত্রে প্রথমত, প্রযোজকগণকে যেটা উপলব্ধি করতে হবে তাহচ্ছে- হল মালিক সমিতির সাথে আপনাদের এই সাম্প্রতিক সদ্ভাবে আদতে আপনাদের লাভ নেই। আপনারা হিন্দি ছবির পরিবেশক হয়ে উঠতে পারবেন এ ধরনের একটি প্রলোভন আপনাদের সামনে থাকলেও, আদতে বলিউডের বৃহৎ পুঁজি একবার এখানকার বাজারে আইনত ঢুকে পড়লে তখন পরিবেশনার ভাগটুকুও ছাড়তে চাইবে না। সেই অসম লড়াইটিকে এড়াতে হলে আপনাদের এখুনি দরকার দূরদৃষ্টি অর্জন।

পরিচালক, কলাকুশলিগণের সামনে এই সাময়িক দুর্যোগ কাটাবার যে টোটকা দেয়া হয়েছে তা কেবল অসত্যই না, অবাস্তবও। আদতে হিন্দি সিনেমা আইনত এদেশে ঢোকা শুরু করলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন আপনারাই। তাই পা যখন ফেলছেন বুঝে শুনে ফেলুন।

প্রেক্ষাগৃহ মালিকগণের প্রতি একটি পরামর্শ হলো- এই সাময়িক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে আদতে পুরোনো বাংলা চলচ্চিত্র যা ধ্রুপদি মর্যাদা পেয়েছে তার প্রদর্শন আপনাদের জন্য একটি দারুণ উদ্যোগ হতে পারে। অযথা হিন্দি চলচ্চিত্রের প্রতি আপনাদের যে অযৌক্তিক পক্ষপাত আছে তা পরিহার করা জরুরি। নইলে একটি গাড্ডা থেকে উঠবেন বটে, কিন্তু অন্য একটি গাড্ডায় পড়বেন আপনারা।

সর্বোপরি, তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি আহ্বান থাকবে, সামইয়িক কোনো সমস্যার অজুহাতে বাঙালির ভূখণ্ডে হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রের ফ্লাডগেট খুলে দেবেন না। বিশেষত, সাম্প্রদায়িক চক্রের যে সাম্প্রতিক উত্থানচেষ্টা, তাকে দূরের লড়াইয়ে লড়তে হলে বাঙালির ভাষিক ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। এসব ক্ষেত্রে ছোটরাস্তা খুঁজতে গিয়ে উলটো সেই গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র তুলে দেয়াটা আপনার ব্যক্তিগত রাজনীতির জন্যই কেবল আত্মঘাতী নয়, বরং গোটা জাতির জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাই, একান্ত দরকারে সাফটা'র শর্তাবলি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হিন্দি/অন্যান্য উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্রকে কেবল এবং কেবলমাত্র "বাধ্যমূলক বাংলা ডাবিং"এর শর্তেই ছাড়পত্র দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রেও আমদানিকৃত চলচ্চিত্রের সংখ্যা সীমিত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ

১। India Covid-19: Bollywood faces biggest box office test as cinemas open, BBC News, 16 October 2020

২। সাইমুম সাদ, মহামারীকালে 'বলিউডি দাওয়াই' চান প্রযোজক, হল মালিকরা, বিডিনিউজ২৪.কম, ২০ নভেম্বর ২০২০

৩। জাহিদ আকবর, ৬ মাসের মধ্যে বলিউডের নতুন সিনেমা মুক্তি পাবে বাংলাদেশে, ডেইলি স্টার বাংলা, ২১ নভেম্বর ২০২০

৪। Gartner A., Roberts L., Hope C., Boland H., Covid-19 vaccine: Latest updates on Oxford, Moderna and Pfizer breakthroughs – and who will get it first?, The Telegraph, 23 November 2020

৫। অক্সফোর্ডের ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনছে বাংলাদেশ, প্রথম আলো, ০৫ নভেম্বর ২০২০

৬। কোভিড স্বাভাবিক থাকলে ১৬ অক্টোবর খুলবে সিনেমা হল: তথ্যমন্ত্রী, বাংলানিউজ২৪.কম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

৭। সমীর কুমার দে, দেশের সিনেমা হলে হিন্দি ছবি চালানোর প্রস্তাব, ডয়েচে ভেলে, ২১ নভেম্বর ২০২০

৮। শরীফ খিয়াম, উৎসবে দেশের হলে বিদেশি সিনেমা দেখানো যাবে না: সুপ্রিম কোর্ট, ব্যানার নিউজ, ৩০ মে ২০১৮

৯। 'হিন্দি সিনেমা প্রদর্শন চলবে না', বিডিনিউজ২৪.কম, ২১ জানুয়ারি ২০১৫

১০। আহমেদ আমিনুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ শুভঃ চলচ্চিত্র শিল্প বাঁচানোই চ্যালেঞ্জ, ভোরের কাগজ, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

১১। মনজুর কাদের, বিদেশি গানের বিপণন নিয়ে জটিলতা, প্রথম আলো, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

১২। Adrian A. (2011), From cinema hall to multiplex : a public history, South Asian Popular Culture, Rourledge

১৩। হলে চলে না বিদেশি সিনেমা, তবু আমদানির দাবি, প্রথম আলো, ১২ নভেম্বর, ২০২০

১৪। Bakker G. (2007), The Evolution of Entertainment Consumption and the Emergence of Cinema, 1890-1940, London School of Economics

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক