করোনার একশ দিন আর একটি বুমেরাং সিরিজ

Published : 21 June 2020, 04:53 PM
Updated : 21 June 2020, 04:53 PM

হাজার মুখোশে প্রতিদিন আমরা কিংবা মাস্ক ইজ আ মাস্ট!

'চতুরতা, ক্লান্ত লাগে খুব? মনে হয় ফিরে এসে স্নান করে ধুপ জ্বেলে চুপ করে নীল কুঠুরিতে বসে থাকি? মনে হয় পিশাচ পোষাক খুলে মানব শরীর পরে নেই একবার।' মূর্খ বড়ো, সামাজিক নয় কবিতায় বলছেন শঙ্খ ঘোষ। 

বলা ভালো, বাঙালি লোকসমাজে বরং 'চতুরতা' নেই, তারা মনে-মগজে স্বাধীন, অন্তত 'সংস্কৃতিজীবি'দের চেয়ে! তারা 'শুভেচ্ছা' প্রকাশ করতে গিয়ে বহুযুগ ধরে 'শুভকামনা' বলে। এখানে 'কামনা' শব্দ তাদের আলাদা সুড়সুড়ি দেয়না। আলাপটাই গুরুত্ব পায়। এমনই প্রতিদিনের আলাপে সে যখন কাজকে কাম বলে তখন 'কাম' শব্দটিকে 'কাটপিস'-এর মত আলাদা করে দেখে না! এ লোকসমাজেরই অন্যতম আবিষ্কার 'যাত্রাপালা', নগর সংস্কৃতিজনের নয়। এ শিল্পের ফর্ম-কনটেন্টকে 'অশ্লীল' বলা হয়, বলা হয়েছে! এ জন্য গ্রামাঞ্চলে অনেকদিন এটির মঞ্চায়নও বন্ধ! একই সাথে হুমকির মুখে সহজিয়া বাউল। 

আর এখন নগরে দেখছি, অনেক সংস্কৃতিজন কামনা-বাসনা-দমন-পীড়ণ কিংবা ব্যক্তি-ক্ষমতা-সম্পর্কের আলো আর অন্ধকার নিয়ে গল্প বলা কিংবা নির্মাণ হতে দেখলে সমাজের জাত নিয়ে শঙ্কায় পড়েন। 

মূল্যবোধ নিয়ে এতো শঙ্কায় পড়েন যে বোধের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। 

তাহলে কোন বোঝাপড়া নিয়ে এ দেশের মঞ্চে 'রাত ভ'রে বৃষ্টি' হচ্ছে! অশ্লীলতার অভিযোগে মামলা পর্যন্ত হয়েছিল বুদ্ধদেব বসুর বিরুদ্ধে। সেই উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি নাটকটির পোস্টারে অশ্লীলতা খুঁজে পেয়ে ঢাকার মহিলা সমিতি পোস্টার 'সিজ' করেছিল এই কিছুদিন আগে। যদিও এ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন এবং আরো কয়েকটি শো ওখানেই হয়েছিল, তবু তাদের হঠাৎ একদিন এটাকে অশ্লীল মনে হলো! আবার কেনইবা কিছু লোক 'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা'র মতো নাটক নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি তোলে? আর কোন বোঝাপড়া নিয়ে হচ্ছে 'নিত্যপুরাণ'! যেখানে গল্পই হচ্ছে 'এস্টাবলিশমেন্ট'কে বাঁচিয়ে রাখতে কেটে ফেলতে হবে একলব্যের আঙুল। কারন এগুলো প্রচলিত বিশ্বাস মূল্যবোধ বা ন্যারেটিভ যা আধিপত্য বিস্তার করে আছে তাকে প্রশ্ন করে। এমন প্রশ্ন যারাই করেছেন সে ভিক্টোরীয় মূল্যবোধ নিয়ে হোক কিংবা বাংলার মেট্রোপলিটন মন নিয়ে, যারাই টান দিতে চেয়েছেন 'পিশাচ পোষাকে', দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন মুখোশে ঢাকা মুখ, দেশে-কালে তারাই আক্রান্ত হয়েছেন। ইবসেন-গ্যালিলিও-ইবনে রুশদ-কাজী নজরুল-মকবুল ফিদা হুসেন-আরজ আলীরা এখানে এক! একাকার শিল্প-বিজ্ঞান-দর্শন! 

তাই কি সকল কাল করোনার না হলেও মাস্ক ইজ আ মাস্ট! একলব্যদের আঙ্গুল সব সময় 'ওয়ান্টেড'! 

কনটেক্সট-টেক্সট-সাবটেক্সট কিংবা 'গোলেমালে গোলেমালে পিরিত কইরোনা'! 

প্রতিদিনের এমন হাজারো মুখোশ খুলে ফেলা কিংবা নৈর্ব্যক্তিক করাইতো শিল্প। ধরন নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, দর্শন নিয়ে আছে কি? মঞ্চের কথা হচ্ছিল, যেখানে দর্শক সরাসরি, মুখোমুখি। সেখানে যখন আমরা কিছু মানুষের সাহসী প্রোডাকশন দেখি তবে কি তা 'পপ আপ'! ধারাবাহিক চিন্তার সংস্কৃতি নয়? সংস্কৃতির অনুশীলন নয়? তাই কি আমরা ওয়াহিদ তারেকের 'বুমেরাং' ওয়েব সিরিজ নিয়ে শঙ্কায় পড়ি? শিহাব শাহীনের '১৪ আগস্ট' নিয়ে বিতর্ক তুলি? জাত গেল, জাত গেল! এই হল কনটেক্সট এর গোলমাল। বুঝে উঠতে পারিনা যে, এসব গল্পের প্রযোজনা আর নির্মাণের কনটেক্সট গোলমাল করলে আমাদের শিল্প সক্রিয়তার জন্যই সেটা 'বুমেরাং' হবে!

যেকোনো কনটেন্ট কনটেক্সটে বিচার করা জরুরি। আর এখানে তা হলো এটা কোন মিডিয়া প্লাটফর্মের জন্য নির্মিত। যেমন 'বুমেরাং' একটি ওয়েব সিরিজ। কনসেপ্ট ফোনিক্স, পরিচালক ওয়াহিদ তারেক, প্রযোজক আহসান ইকবাল। এই কনটেন্ট নির্মিত হয়েছে Binge প্লাটফর্মের জন্যে। যতদুর জানা যায়, এটা রবির ওটিটি প্লাটফর্ম, যেটাতে টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে দেখবে দর্শক, যেমন দেখে নেটফ্লিক্স বা হৈচৈ। এটি ড্রয়িং রুম মিডিয়া, টেলিভিশনের জন্য নয় যেটা সববয়সীদের। এটা নিউ মিডিয়ার জন্য, ওয়েবের জন্য, আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে ওটিটির জন্য। যেখানে ধারণাটি হলো মাই টাইম, মাই স্পেস, মাই কনটেন্ট। 

তাহলে যে কনটেন্ট ওটিটির জন্য নির্মিত তা ইউটিউবে গেল কী করে? রবির সেই ওটিটি প্লাটফর্মটি কোথায়? এখানে প্রশ্নটি হচ্ছে পলিসির। আমাদের নেট কাস্টের নীতিমালা কি? যতদূর জানা যায়, আমাদের একটা খসড়া অনলাইন নীতিমালা আছে, যা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে খেলার নিয়মই ঠিক হয়নি, সেখানে 'ফাউল' চিহ্নিত করবো কী করে? এখানে যে 'ফাউল'টি হয়েছে তা হলো ওটিটির জন্য নির্মিত ১৮+ বয়সীদের কনটেন্টটি ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া। প্রশ্ন হচ্ছে কারা দিলো? এ দায় অতি অবশ্যই প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানের। 

মুশকিলের কথা হলো, নীতিমালা বললেই আমরা নিয়ন্ত্রণমালা বুঝি। নিয়ন্ত্রণমালা বা সেন্সর নয়, যে নীতিমালাটি আমাদের থাকা উচিত তা হলো সুনির্দিষ্ট সার্টিফিকেশন পলিসি। রাজনীতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য যেমন আমরা বয়সসীমা নির্ধারণ করেছি ১৮+, তেমনি দৃশ্য গ্রহণের জন্য আমাদের নানা বয়সসীমা নির্ধারণ জরুরি। আমাদের যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন আছে সেটা কনটেন্ট বা টেক্সট নিয়ে। যেটির আবার সাবটেক্সট বোঝার দায় নেই।  দেখতে পাচ্ছি, উকিল নোটিশ দেয়া হয়েছে, ফেইসবুকে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে, চলছে বিবৃতি, সংস্কৃতি ও বিনোদন কারখানার মানুষেরা বিভক্ত। মাননীয় তথ্যমন্ত্রীও বলেছেন, অশ্লীলতার অভিযোগ থাকলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এখানে প্রশ্ন হলো 'বুমেরাং' বা '১৪ আগস্ট' নিয়ে অশ্লীলতার যে অভিযোগটি উত্থাপিত হয়েছে, তা নির্ধারিত হবে কিভাবে?

কী বলছে আইনের সংজ্ঞা– 'পর্নোগ্রাফি মানে- (১) যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কোন অশ্লীল সংলাপ, অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যাহা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোন উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যাহার কোন শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই।' এই যদি হয় সংজ্ঞা তাহলে ওয়েবের দুনিয়া বাদই রাখি, টেলিভিশনে নাটক-সিনেমার নামে অনেক সময় যা দেখানো হয়, এই আইনের আওতায় তা তো উৎপাদিত হবার কথা নয়, প্রদর্শিত হবার কথাও নয়। কিন্তু সেতো চলছেই। 

এই আমরাই ভিজ্যুয়াল দুনিয়ায় Sacred Games, Lust Stories-র মত সিরিজ বা মুভি, কুবরিক বা কিম কি দুকের সিনেমা দেখছি। সেগুলো নিয়ে অশ্লীলতার অভিযোগ তু্লি না কেন? এক্ষেত্রে কেন কেবল গল্প বা নির্মাণের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলি? কিন্তু আমাদের পরিচালকদের বেলায় গল্প নির্বাচন, ট্রিটমেন্ট, অভিনয়, নির্মাণের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা না বলে নিষিদ্ধের দাবি তুলছি কেন? এ হলো মগজে উপনিবেশ। বাইরের যা কিছু তার প্রতি আদিম মুগ্ধতা। এখানে আমি কিম কি দুক বা কুবরিকের সাথে ওয়াহিদ তারেক বা শিহাব শাহিনকে মেলাচ্ছি না। এটা সাবজেক্টিভ নয়, একটি অবজেক্টিভ আলাপ। এ আলাপ শিল্পের, যেখানে সমাজের পুনরুৎপাদন ঘটে, খুলে পড়ে 'মাস্ক'। আর সেখানে ব্যক্তি-সম্পর্ক-যৌনতার অন্ধকারে আলো পড়লেই দেখছি 'সমাজ গেল গেল' রব। এ কোন সমাজের কথা বলছি? যদি বলি ওয়েবের এসব গল্প সমাজের 'পিশাচ পোষাক'-এ টান দিয়েছে, নগ্ন করে দিয়েছে হুমকির মুখে পড়া মেট্রোপলিটন মন-সম্পর্ক? 

যেমন বলেছেন ফরাসি দার্শনিক আঁলা বাদিয়ু, 'প্রেম হুমকির সম্মুখে' বা খোলা সমাজে ভোগই যেখানে মুখ্য সেখানে 'তোমার প্রতি অঙ্গীকার নয়'। 

কিংবা সুবোধ সরকার যেভাবে বলেন, 'আমরা বলি – গেল, সব গেল। সুতরাং হে মানুষ তুমি তো আর পাখি নও, শোয়া নিয়ে তোমাকে ভাবতেই হবে, এক: কোথায় শোবে? দুই: কার সঙ্গে শোবে? তিন: কিভাবে শোবে? তবে একটা কথা, একজোড়া মানুষ যদি কোথাও শুতে চায়, কার বাপের ক্ষমতা তাকে আটকায়?' 

কিংবা জীবননান্দ যেমন বলেন, 'একদিন- একরাত করেছি প্রেমের সাথে খেলা! একরাত- এক দিন করেছি মৃত্যুরে অবহেলা। একদিন-একরাত;- তারপর প্রেম গেছে চ'লে,- সবাই চলিয়া যায়,- সকলের যেতে হয় ব'লে, তাহারো ফুরোলো রাত!- তাড়াতাড়ি প'ড়ে গেল বেলা'।

ব্যক্তি সম্পর্কের এই স্বেচ্ছাচারিতা, শুন্যতা, মৃত্যু এখন উপরে চাপানো পোশাক ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে। রাষ্ট্রের সাথেও ব্যক্তির এই সম্পর্ক সংকট আমরা দেখেছি অ্যালেন গিন্সবার্গের কাছে। 'America when will we end the human war? Go fuck yourself with your Atom bomb…. America when will you be angelic? When will you take off your clothes? তখনো গিন্সবার্গকে তার অগ্রজরা উগ্র বলেছিল। অশ্লীলতার বিতর্ক তখনও চলেছে, এখনও হচ্ছে, হবে। কিন্তু প্রশ্নটি হচ্ছে শিল্প সৃষ্টির স্বাধীনতা। এখানে গোলমাল করলে স্বাধীনতা সংকুচিত হবে কিন্তু অশ্লীলতা যাবে না। অনেক সংস্কৃতিকর্মী এই ভুলটা করছেন নাতো! 

এক যুগ আগে 'পরষ্পর' নামে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের টিজারে বলেছিলাম- মানুষ জীবন নয়, যাপন করে সম্পর্ক। এসব সম্পর্কের ব্যক্তিগত পরিসর যেমন আছে, আছে সমাজ, আছে যৌনতা, আছে সকল অনুভুতির তাড়না। রাষ্ট্র তাকে আলাদা আলাদা শেলফে কিংবা ক্যাটাগরিতে শৃংখলাবদ্ধ করে। এভাবে যৌনতাকেও সে রেগুলেট করে। যার যেখানে জায়গা তাকে সেখানে রাখা। এই যে 'যার যেখানে জায়গা' সেটা শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী-বুদ্ধিজীবীর বোঝা দরকার প্রথমে। বোঝা দরকার শৃংখলাবদ্ধ করার নামে শৃংখলিত করা হচ্ছে কিনা? ওয়েবে ওটিটির মত প্লাটফর্মে ব্যক্তির সম্পর্ক-যৌনতা নিয়ে গল্প বলা অশ্লীলতা কিনা? আর এসব গল্প বলার স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে অশ্লীলতার পক্ষে দাঁড়ানো কিনা? আমাদের নির্মাতা-শিল্পীরা যখন গ্লোবাল মার্কেটের হয়ে উঠছে, নতুন নিরীক্ষার মুখে সাহসের সাথে অভিনয় করছে, নির্মাণ করছে কনটেন্ট, তখন কি আমরা সেই কনটেন্টের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলছি? না কাটপিসের মত আলাদা করা যৌনদৃশ্যের ফাঁদে পড়ে অশ্লীলতার বিতর্কে মেতে উঠছি? কাজল যেমন চোখে সুন্দর, মুখে অন্য কোথাও লাগলে অশ্লীল দেখায়, যৌনতাও এখানে কাজলের মতোই। তাকে শরীর-মন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখছি না তো? গল্পের বেলায়ও তাই, গল্পের শরীর থেকে দৃশ্য আলাদা করে ফেললে অনেক ক্ষেত্রেই অশ্লীল দেখায়। বলে রাখা ভালো, যেসব কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তার সাথে মত-দ্বিমত আমারও আছে, আছে গল্প বলার ভঙ্গি নিয়ে তর্ক। কিন্তু আমি সৃষ্টিশীলতায় সেন্সর আরোপের বিরুদ্ধে। বয়সের নানা 'ক্যাটাগরি' নির্ধারণ করে সার্টিফিকেশন নীতিমালাই ওয়েব দুনিয়ায় শৃংখলা আনতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে সেই সার্টিফিকেশন কাঠামোটিও যেন আবার সেন্সর ডেকে না আনে। 

আর অশ্লীলতার আলাপে যদি আসি, ইউটিউব জুড়ে ধর্মীয় বক্তারা নারীর যে ভিজুয়্যাল নির্মাণ করছেন প্রতিদিন, তার বেলায়? বাংলা বা বিদেশি সিনেমার 'আইটেম সং' বা কাটপিস, তার বেলায়? আরেকদিকে নির্মাতা ও শিল্পীদের কনটেন্টের 'কাটপিস' ব্যবহার করে যে 'ঘৃণা' বাণিজ্য চলছে, তার বেলায়? গণমাধ্যমকর্মী, বিশেষত নারী সাংবাদিক কিংবা উপস্থাপক যারা অসাম্প্রদায়িকতা-স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন, তাদের প্রতি যে হুমকি চলছে, তার বেলায়? ইউটিউবে প্রতিদিন এমন লক্ষ-কোটি কনটেন্টে নারীকে যেভাবে হাজির করা হচ্ছে, যে বিদ্বেষ-অবমাননা ও ভোগের চিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে, তার মধ্যেই বড় হচ্ছে আমাদের সন্তানরা। এসব দৃশ্যের মুখে বয়সের আগেই তারা হারাচ্ছে শৈশব। একবার ভাবুন, সমাজের অর্ধেক মানুষ নারী, তাদের প্রতি কি মন নিয়ে বড় হচ্ছে তারা? কই, এখানেতো লড়াইটি দেখছি না! গত ক'বছরে মিডিয়াগুলো হাজার বার প্রশ্ন তোলার পরও কর্তৃপক্ষকে ইউটিউবে এসব কনটেন্টের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এখন ওটিটির জন্য নির্মিত গল্পের 'কাটপিস' ইউটিউবে হাজির হওয়ায়, যা হাজির হওয়াটাই আইনানুগ নয়, শিল্পী-নির্মাতাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে অশ্লীলতার। অথচ এখানে আইনি দায় হলো প্রযোজনা-পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান Binge, যার পেছনে 'রবির' মত প্রতিষ্ঠান আছে বলে মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন। তাদের মার্কেটিং মুনাফা তাড়িত লোভের কারণেই এই কনটেন্টের পর্ব ও 'কাটপিস' হাজির হয়েছে ইউটিউবে। এখানেই হলো কনটেক্সটের গোলমাল। 

এবারের প্রশ্ন, সমস্যা কতটা পোশাকের, কতটা বাণিজ্যের। বাজার মুক্ত করে দিয়ে আমাদের বাণিজ্যেতো আগেই টান পড়েছে। পোশাক দিয়ে তা ঢাকবো কিভাবে? ভাবুন, আমরা বাজার মুক্ত করেছি কিন্তু আমাদের মন কি মুক্ত, চিন্তা কি মুক্ত? আর স্বাধীন দেশের বাজার মানে স্বশাসিত বাজার। কিন্তু আমাদের বাজারে কি আছে আমাদের শাসন? আমাদের বাজার, মগজের দখল কাদের হাতে? আমাদের টিভি দর্শক এখন ড্রয়িং রুমে বসে চলে গেছে বিদেশি চ্যানেলে! এইসব বিদেশি চ্যানেল হুড়মুড় করে বাংলার আকাশে, আমাদের ঘরে ঢুকে পড়লো কিভাবে? এদের অনেক কনটেন্টই কি আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায়? একেতো এসব চ্যানেলগুলো বাজার দখলে নিয়েছে মাত্র তিন লাখ টাকা ল্যান্ডিং ফি দিয়ে, তার ওপর দখল নিয়েছে সেই সংস্কৃতির যে সংস্কৃতি নিয়ে আমরা 'উদ্বিগ্ন'। আর আমাদের দেশি টেলিভিশনগুলো যে বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে চলে, তাও চলে যাচ্ছে এসব বিদেশি চ্যানেলের কাছে যা চেষ্টা করেও আটকানো যাচ্ছেনা! অন্যদিকে দেশী চ্যানেলগুলো দর্শকদের দেখিয়ে ক্যাবল অপারেটররা সাত-আট হাজার কোটি টাকার ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসা করলেও তার একটা টাকাও পায়না চ্যানেলগুলো। ফলে একদিকে দেশি চ্যানেলগুলোর ডিস্ট্রিবিউশন থেকে টাকা না পাওয়া, অন্যদিকে বিদেশি চ্যানেলগুলোর বাজার দখলের মধ্য দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার সাম্ভাব্য সম্প্রচার অর্থনীতির ক্ষতি করেছি আমরা। এরই ক্ষতিকর  প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশি চ্যানেলের কনটেন্ট ও জনবলের মানে। কারণ আমরাই বাজার নষ্ট করে বলছি আমাদের টাকা নেই। টাকা নেই বলে নাটক-সিনেমায় বিনিয়োগ নেই। ফলে ভালো কনটেন্ট নেই। এই দুষ্ট চক্র আমাদের তৈরি। এখানেও দায় সেই নীতিমালা না থাকার। একটি সম্প্রচার নীতিমালা এবং গণমাধ্যম কর্মী আইন এখনও অনুপস্থিত। আর শুধু নীতিমালা হলেই হবেনা, তা গণতান্ত্রিক ও কার্যকরও হতে হবে। 

এ তো গেল গত বিশ বছরে নিজেদের টেলিভিশনের বাজার হারাবার গল্প, এবার আসি ওয়েব দুনিয়ার বাজারে। ইউনিভার্সের মত ক্রমসম্প্রসারমান ওয়েবের দুনিয়া। ইউনিভার্সের মতই অজানা এই বাজারের অনেক সম্ভাবনা। এই বাজারে আমরা কিভাবে আমাদের কনটেন্ট নিয়ে হাজির হবো, তার 'রুলস অব গেম' নিয়েও ভাবিনি। আমরা আজ যখন সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তার বহু আগেই এখানে নেটফ্লিক্স, হৈচৈ, জি ফাইভের মতো বিদেশী ওটিটি প্লাটফর্ম আমাদের মগজে হাট বসিয়েছে। আমরা সেখানে কোথায়? আমাদের বাজার, আমাদের সমাজ, আমাদের সন্তান ইতিমধ্যেই বেহাত! 

অংক দিয়েও বোঝা যায় আমাদের বেহাত দুনিয়ার অবস্থা, সংস্কৃতির অবস্থা। এক নেটফ্লিক্সই আমাদের দেশে দুইশো কোটি টাকার বাজার তৈরি করেছে। আর আমরা জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতির জন্য বরাদ্দ রেখেছি মাত্র ৫৭৯ কোটি টাকা যেখানে মোট বাজেট ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। এটা শুধু অঙ্ক নয়, হাজির করে চিন্তার দারিদ্র্যকেও। যে সংস্কৃতির মূল্যমান রাষ্ট্রের কাছে এমন, সে সংস্কৃতি নিয়ে আমরা কথা বলেছি কি? সত্যি যদি আমরা ভাবতাম, দক্ষিণ কোরিয়া থেকেই শিখতাম। ১৯৯৪ সালে কোরিয়া যখন দেখলো, হলিউডের সিনেমা জুরাসিক পার্ক তার দেশ থেকে দেড় মিলিয়ন ডলার আয় করে নিয়ে যাচ্ছে, যা তার সবচেয়ে বড় ব্রান্ড হুন্দাই অটোমোবাইলের আয়ের চেয়েও বেশি, তখন তারা শিল্প-সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ালো এবং সাবসিডি দিলো স্টার্ট আপ উদ্যোগগুলোকে। কোরিয়া তাদের সংস্কৃতির জন্য বিলিয়ন ডলারের মোটা-তাজা বাজেট দিয়েছিলো বলেই এখন কে-পপের বাজারই পাঁচ বিলিয়ন ডলারের। সেই কে-পপে বুঁদ এখন আমাদের মেট্রোপলিটনের স্কুলের বাচ্চারা। ফলে 'গেল গেল' রব তোলা ছাড়া আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির বাজার তৈরিতে আমরা আসলেই কি কোনো উদ্যোগ নিয়েছি? বিনিয়োগ করেছি আমাদের শিল্পী ও নির্মাতাদের পেছনে? করিনি। কারণ আমরা কেবলই ভোক্তা, বড়জোড় দোকানদার হতে চেয়েছি, যেখানে অন্যদের পণ্য বিক্রি করবো। এখানেই ইন্টেলেকচুয়াল বোঝাপড়ার প্রশ্ন, কনটেক্সচুয়াল বোঝাপড়ার প্রশ্ন। এখানেই গোলমালটা হচ্ছে। এখানেই বাহাসটা বড় হওয়া দরকার। 

স্বাস্থ্য, সে শরীরের হোক বা মনের, মনোযোগ নেই রাষ্ট্রের 

ওয়েব কনটেন্ট নিয়ে বিতর্কটি আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে করোনাকাল। মানুষ এখন অনেকটাই ঘরবন্দি, শারীরিক দূরত্বে। একটা ডিজিটাল লাইফস্টাইলে ঢুকে পড়েছে। এখানে মানুষ প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ের দিকে তাকিয়ে। মানুষ যেন শুধুই সংখ্যা! আক্রান্তের সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা। একটা ভাইরাসের বিশ্বায়ন গোটা পৃথিবিকে লক-ডাউন করে নতুন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। যেই চীনে প্রথম করোনা-সংক্রমণ হয়েছিল, সংক্রমণে এখন সেই চীনকেও ছাড়িয়ে আমরা। 

চীন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল দুই মাসে। অথচ আক্রান্ত হবার তিন মাস পরেও আমাদের সংক্রমণের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী। আক্রান্ত হবার দুই মাস আগে থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী 'আমরা প্রস্তুত' বললেও কিভাবে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাজির নেই আক্রান্তের একশ দিন পরেও। বিশেষ করে সংক্রমণ নিয়ে প্রোজেকশান তৈরি করা। এটি কোথায় যেতে পারে, কত আক্রান্ত হতে পারে, কী পরিমাণ পরীক্ষা করা হবে, কি স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হবে, কিভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হবে, কিভাবে লক-ডাউন হবে, কিভাবে লক-ডাউন থেকে বের হবো এই গোটা পরিকল্পনা অনুপস্থিত। কারণ ওই একই, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি। 

এখানে প্রতি ১১ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে ৫ জন ডাক্তার। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য প্রয়োজন একজন ডাক্তার। আর প্রতি একজন ডাক্তারের সাথে থাকতে হবে তিনজন নার্স। ১৭ কোটি মানুষের দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজারের মতো। স্বাস্থ্যের পেছেনে যে ব্যয় তার প্রায় ৭০ ভাগই এখানে বহন করে রোগী বা তার পরিবার। নেই স্বাস্থ্যবীমা। আর এবার করোনাকালে স্বাস্থ্যের জন্য বাজেটে বরাদ্দ মাত্র ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এই যে বরাদ্দ তা জনপ্রতি বছরে মাত্র ১,৭৭৭ টাকা করে পড়ে! স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমনই বলে যখন করোনাভাইরাস এলো, তখন মিডিয়াগুলোতে প্রতিদিন শয্যা, অক্সিজেন, আইসিইউ সংকট আর দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণের আলাপ। এ সংকটকালেই প্রকট হলো যে, হাসপাতাল বলতে যে একটা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা বোঝায়, কেবল ডাক্তার-নার্স নয়, সেটাই আমাদের সমাজে পরিষ্কার নয়। 

স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরেও জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেনো এমন রেখেছি? কারণ আমরা 'দেশি শরীরে' বিদেশি চিকিৎসায় বিশ্বাসী। আর দেশি মনের বিদেশি 'ভোগ'। এখানে স্বাস্থ্য সমস্যায় মধ্যবিত্তরা ভারত যায়, উচ্চবিত্তরা সিঙ্গাপুরে, নিম্ন আয়ের মানুষ 'দিক-বিদিক'। সংস্কৃতিতেও তাই। মধ্যবিত্তরা স্টার জলসায়, উচ্চবিত্তরা নেটফ্লিক্সে আর নিম্নবিত্তরা বাংলা সিনেমায়। করোনাকালের 'নিউ নর্মালে' হাতের মোবাইলই এখন খবর আর বিনোদনের জায়গা। ডিজিটাল হয়ে উঠছে মানুষের যাপন। এবার এখানেও দেখা গেল, স্বাস্থ্যের মত বিশৃংখলা। এখানেই প্রশ্ন রাজনীতির। সুস্থতা যেমন রাজনীতি, অসুস্থতাও তেমনই। শ্লীলতা যেমন রাজনীতি, অশ্লীলতাও রাজনীতি। দেয়াল তোলাও রাজনীতি, দেয়াল ভাঙ্গাও। স্বাস্থ্যে ও সংস্কৃতিতে আমরা কি বিনিয়োগ করেছি যে আমরা শরীরে-মনে সুস্থ হবো, আমাদের দেখার চোখ তৈরি হবে? আমরা বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণকে উন্নয়ন বুঝি কিন্তু মন নির্মাণে মনোযোগী কি? আমরা অর্থনৈতিক 'জিডিপি' টার্গেট করি কিন্তু 'সাংস্কৃতিক জিডিপি' ভেবেছি কি? এই করোনাকালে সুযোগ এসেছে শরীর ও মন এই দু'য়ের স্বাস্থ্য নিয়ে গোটা জাতির 'মুড শিফট' করার। এখানেই চিন্তার সংস্কৃতি জরুরি। 

ভাইরাস যাবে কিন্তু চিন্তার মহামারী যাবে কি?   

কিছুই থাকবেনা আর আগের মত 

মানুষের যে কাছে আসা কাঙ্ক্ষিত, করোনাকালে দেখছি সেই কাছে আসা নিয়েই ভয়! কারণ, করোনা মানুষ থেকে মানুষেই সংক্রমিত হয়। ফলে পরষ্পরের শারীরিক দূরত্ব জরুরি। 

এই যে নতুন বাস্তবতা, এই বাস্তবতায়ও আমরা দেখেছি মানুষ মানুষের কাছে এসেছে। করোনায় আক্রান্তের শীর্ষে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজপথে নেমেছে মানুষ কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার প্রতিবাদে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। পুলিশি নির্যাতনে ফ্লয়েড বলেছিলো, 'আমি শ্বাস নিতে পারছি না'। এ যেন গোটা পৃথিবীর সাধারণ মানুষের উচ্চারণ। করোনায় আক্রান্তের যেমন শ্বাস নেয়া কঠিন, তেমনি রাষ্ট্রের পীড়নে কিংবা অবহেলায়ও শ্বাস নেয়া কঠিন। আমাদের লোকসমাজের আর্ট ফরম 'যাত্রাপালা' যেমন ধর্মীয় মৌলবাদ আক্রান্ত, তেমনি আমাদের 'ওয়েব' যাত্রা সাংস্কৃতিক মৌলবাদ আক্রান্ত কিনা ভাবা জরুরী। মগজ এবং বাজারের অধিকার হারাতে হারাতে আমাদের শিল্পী-সংস্কৃতি-গণমাধ্যমকর্মীদের একদিন আর্তনাদ করতে হবে নাতো, 'আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না'? করোনা শুধু ভাইরাস নয়, খুলে পড়া পেন্ডোরা বাক্স। বেরিয়ে পড়েছে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও উন্নয়ন ধারণার ক্লেদ। কোভিড-১৯ সংক্রমণ যেমন আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভাঙেনি, উন্মোচন করেছে তার ভগ্ন দশা 'বুমেরাং'-এর মত ওয়েব সিরিজগুলো আমাদের মূল্যবোধ নষ্ট করছে না, বরং উন্মোচন করেছে আমাদের সম্পর্কেরগুলোর মূল্যবোধহীনতা, সংস্কৃতির ভাঙা সেতু। 

তাই সময়টি পক্ষ-বিপক্ষের নয়, একটাই পক্ষ আমরা, যখন জেনে গেছি কিছুই থাকবেনা আর আগের মত। ইউনিভার্সের মত ক্রমসম্প্রসারমান যে ওয়েবের জগত সে জগতে মানুষ এখন কেবলই চরিত্র হয়ে উঠছে। একশ বছর পর হয়তো আজকের মানুষ হয়ে উঠবে নানা 'ক্যাটেগরি'র ভার্চুয়াল জীব। তাদের সামনে এসে কোনো মানিকের কুসুম বলবে না "আপনার কাছে এসে দাঁড়ালে আমার শরীর এমন করে কেন, ছোটবাবু!" "শরীর শরীর, তোমার মন নাই, কুসুম?" 

এই যে মন এবং শরীর, এই দু'য়ের স্বাস্থ্যে এখন বিনিয়োগ জরুরি। সবার আগে চাই চিন্তার বিনিয়োগ। কোথায় আছি, কোথায় যাবো? কিভাবে সন্তানদের ওয়েব দুনিয়ায় নিরাপদ করবো, করবো স্বাস্থ্যবান? ভাইরাস যেমন প্যান্ডেমিক হয়, আইডিয়াও হতে পারে প্যান্ডেমিক। মন যদি মুক্ত না হয়, তাহলে আমরা বারবারই অন্যের আইডিয়ার শিকার হবো, বাজার হবো। ওয়েবের জগত যত বড় হবে, ততই ছোট হবো। এখানেই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো জরুরি, জরুরি সংস্কৃতির স্বাস্থ্য আর শিল্পের বাজার নিয়ে নীতি বোঝাপড়া। না হয়, ভয় হয়, করোনাকালে আমাদের অগ্রজরা যেমন একা সমাধিতে যাচ্ছেন, আমরা কাছে গিয়ে শেষ দেখাটাও দেখতে পারছি না, আমাদের সংস্কৃতিও তেমন একা পড়ে যায় কি না! 

মনে পড়লো রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ- 'মৃত্যুকে থামাও, বলো, আয় পাখি, আয় মুখরতা'।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক