Published : 21 Aug 2026, 04:04 PM
বছর ঘুরে আবার অগাস্ট এসেছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আরেকটি বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের পরিবারের কাছে এই এক বছর কোনো সাধারণ সময়ের হিসাব নয়। এটি এক দীর্ঘ অপেক্ষা। এক বছরের নীরবতা। একগুচ্ছ উত্তরহীন প্রশ্ন। আর এমন এক শূন্যতা, যার কোনো পরিমাপ হয় না।
আমার দাদা, সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার, আমাদের সবার প্রিয় বিভুদা, পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো। সময় চলে গেছে, কিন্তু তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলো যায়নি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, কিছু প্রশ্ন ততই স্পষ্ট হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তার মৃত্যু আসলে কীভাবে ঘটেছিল?
একজন মানুষের মৃত্যু ব্যক্তিগত শোকের বিষয় হতে পারে। কিন্তু একজন সত্তরোর্ধ্ব বয়সী সাংবাদিকের মৃত্যু, বিশেষ করে মৃত্যুর আগে যিনি চাপ, অপমান, হুমকি ও নানা অস্বস্তিকর ঘটনার কথা লিখে গেছেন, সেটি শুধু পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকতে পারে না। সেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে, সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব আছে, গণমাধ্যমের দায়িত্ব আছে। সত্য অনুসন্ধানের দায়িত্ব আছে।
বিভুদার মৃত্যুর পর পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিল। কিন্তু ৩৬৫ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরিবার কার্যত অন্ধকারে। তার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও পরিবারের হাতে পৌঁছায়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, জানতে চাওয়া হয়েছে, কিন্তু উত্তর মেলেনি। কখনো নীরবতা, কখনো অজুহাত, কখনো এড়িয়ে যাওয়া। ইউনূস সরকারের প্রশাসন, পুলিশ, কারো কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
একটি মৃত্যুর তদন্তে এত দীর্ঘ নীরবতা কি স্বাভাবিক?
আমরা জানি, বাংলাদেশের বাস্তবতায় মামলা হওয়া আর ন্যায়বিচার পাওয়া এক কথা নয়। কাগজে তদন্ত থাকে, ফাইলে নথি থাকে, দপ্তরে দায়িত্ব থাকে। কিন্তু সত্যের কাছে পৌঁছানোর রাস্তা এমনভাবে জটিল হয়ে ওঠে যে ভুক্তভোগীর পরিবার শেষ পর্যন্ত শুধু অপেক্ষাই করতে থাকে।
আমরাও অপেক্ষা করছি।
কিন্তু শুধু পরিবারের অপেক্ষা যথেষ্ট নয়। কারণ বিভুদা শুধু আমাদের পরিবারের সদস্য ছিলেন না। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি পরিচিত নাম। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামনিস্ট এবং দীর্ঘ সাংবাদিকজীবনের একজন সক্রিয় কর্মী। তার কলমে দেশের রাজনীতি, ক্ষমতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার নিয়ে বহু কথা উঠে এসেছে।
অথচ তার মৃত্যুর পর সবচেয়ে বেশি যা চোখে পড়েছে, তা হলো নীরবতা।
দেশের কোনো বড় সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর পর পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমরা দেখিনি। কোনো টেলিভিশন তার শেষ দিনগুলো নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান করেনি। তার মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তার নিজের লেখা শেষ চিঠিতে কী কী ইঙ্গিত ছিল, সেসব নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানও হয়নি।
এখানেই প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে ওঠে। সাংবাদিকেরা যদি একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর প্রশ্নও অনুসরণ না করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অর্থ কী?
বিভুদার মৃত্যুর আগে লেখা খোলা চিঠিটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিটি কোনো সরল আত্মপক্ষসমর্থনের লেখা নয়। সেখানে তিনি নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা, চাপ, অপমান ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। কিছু নাম, কিছু ঘটনার সময়ক্রম, কিছু ইঙ্গিত তিনি রেখে গেছেন।
তিনি সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করেননি। কিন্তু একজন সাংবাদিকের শেষ লেখা যখন এত প্রশ্নের জন্ম দেয়, তখন সেই প্রশ্নগুলো যাচাই করা কি সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব নয়?
চিঠিটি কি সত্য? সেখানে বর্ণিত ঘটনাগুলো কতটা সত্য? কারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন? কোনো চাপ সত্যিই ছিল কি না? থাকলে তার উৎস কোথায়? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। আর এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় হতাশা।
কারণ বিভুদা সারাজীবন অন্যের প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। অথচ তার নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়টিই যেন প্রশ্নহীনভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়, সেটিও অনুসন্ধানের দাবি রাখে। জীবনে মাত্র একবার তিনি সাংবাদিক হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই সফরকে কেন্দ্র করে তিনি নানা চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েছিলেন। মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের প্রেস উইং নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ এবং প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
এরপর আসে ১৫ অগাস্টের ঘটনা। ‘আজকের পত্রিকা’ কার্যালয়ে একটি লেখা প্রকাশকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস উইংয়ের এক বড় কর্তা বিভুদাকে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ কার্যকর না হলে পত্রিকার ওপর চাপ এবং বিভুদাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা আদালত বা নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু অভিযোগ যখন একজন সাংবাদিকের জীবনের শেষ কয়েক দিনের সঙ্গে যুক্ত, তখন তা তদন্তের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা।
বিভুদাকে শেষ পর্যন্ত অফিস ছাড়তে হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে কয়েক দিনের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছিল বলে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সেটি কি সত্যিই নিছক ছুটির ঘটনা ছিল?
১৭ অগাস্ট তার কাছে একটি ভয়াবহ হুমকিবার্তা পৌঁছেছিল বলে তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন। সেখানে সব দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল এবং অন্যথায় মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ১৭ থেকে ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি ভয়, চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন বলেও জানা যায়।
তারপর তার মৃত্যু।
এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিই তো তদন্তের বিষয়।
আমরা কাউকে অপরাধী ঘোষণা করছি না। আমরা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষমতাও রাখি না। আমরা শুধু জানতে চাই, কী ঘটেছিল?
এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায়িত্ব পরিবারের নয়, শুধু পুলিশেরও নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। কারণ একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা কেবল একজন ব্যক্তির নিরাপত্তা নয়। সাংবাদিকের নিরাপত্তা আসলে সমাজের জানার অধিকার রক্ষার একটি অংশ।
বিভুদার জীবন দেখলে এই কথাটি আরও স্পষ্ট হয়।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে তার পেশাগত জীবন গড়ে উঠেছিল। আশির দশকে সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ছিল রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সামরিক শাসনের সময় যখন সরাসরি কথা বলার সুযোগ সীমিত ছিল, তখন ব্যঙ্গ, রূপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষার মাধ্যমে সাংবাদিকেরা পাঠকের কাছে পৌঁছাতেন।
সেই সময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিকগুলোর মধ্যে ‘যায়যায়দিন’ প্রচারসংখ্যায় ছিল শীর্ষে। ১৯৮৪ সালে শফিক রেহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত এই পত্রিকা অল্প সময়ের মধ্যেই তরুণ পাঠকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। আধুনিক বিন্যাস, ঝরঝরে ভাষা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাহসী উপস্থাপনা এটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
সেই পরিবেশেই ‘তারিখ ইব্রাহিম’ নামে বিভুরঞ্জন সরকারের উত্থান।
পাঠকের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন জনপ্রিয় রাজনৈতিক কলামনিস্ট। তার লেখায় তথ্য ছিল, ইতিহাস ছিল, বিশ্লেষণ ছিল, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ছিল প্রশ্ন করার ক্ষমতা। তিনি ক্ষমতার বক্তব্যকে শুধু পুনরাবৃত্তি করতেন না। তার পেছনের বাস্তবতা খুঁজতেন।
তিনি শুধু তারিখ ইব্রাহিম নন। ওমর ইমতিয়াজ, শমসের আহমেদ, জামাল আরসালানসহ বিভিন্ন নামে লিখেছেন। কখনো ‘ভাষ্যকার’, কখনো ‘রাজনৈতিক ভাষ্যকার’ পরিচয়েও তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এটি শুধু একজন লেখকের বহুনাম ব্যবহারের গল্প নয়। এটি সেই সময়ের সাংবাদিকতার বহুমাত্রিকতারও গল্প। একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কলাম তখন সপ্তাহজুড়ে মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠত। আজকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মতামতের ভিড় ছিল না। একটি লেখা প্রকাশিত হলে সেটি চায়ের দোকান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডা, রাজনৈতিক বৈঠক থেকে বুদ্ধিজীবীদের আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ত।
বিভুদার কলাম সেই আলোচনার অংশ ছিল। তিনি মানুষের পক্ষে লিখেছেন, গণতন্ত্রের পক্ষে লিখেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে লিখেছেন। ক্ষমতা যারই হোক, প্রশ্ন করার জায়গা থেকে তিনি সরে যাননি। এই কারণেই তার মৃত্যুর তদন্ত শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি নয়। এটি সাংবাদিকতারও আত্মসমালোচনার বিষয়।
আমরা কি এমন একটি সমাজ তৈরি করেছি, যেখানে একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর কয়েক দিনের মধ্যেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়? আমরা কি এমন এক গণমাধ্যমব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে একজন সহকর্মীর মৃত্যু নিয়ে অনুসন্ধান করার চেয়ে নীরব থাকা নিরাপদ? যদি তাই হয়, তাহলে বিভুদার মৃত্যু আমাদের শুধু কাঁদাবে না, আমাদের লজ্জিতও করবে।
ন্যায়বিচার মানে শুধু আদালতে শাস্তি নয়। ন্যায়বিচারের প্রথম শর্ত সত্য জানা। কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল, কারা সংশ্লিষ্ট ছিল, কোনো অপরাধ হয়েছিল কি না, কোনো চাপ কাজ করেছিল কি না, সব প্রশ্নের নিরপেক্ষ উত্তর পাওয়া। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, বিভুদার মৃত্যু নিছক একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, তাহলে সেই সত্যও আমাদের মেনে নিতে হবে।
আর যদি প্রমাণিত হয়, তার মৃত্যুর পেছনে কোনো হুমকি, চাপ, হয়রানি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল, তাহলে দায়ীদেরও আইনের মুখোমুখি করতে হবে। এর কোনোটিই প্রতিশোধ নয়। এটি ন্যায়বিচার।
দুঃখের বিষয়, জীবদ্দশায় বিভুদা তার প্রাপ্য সম্মান সব সময় পাননি। মৃত্যুর পরও তার মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাব বা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়নি। তার অসংখ্য সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীর মধ্যেও সংকটের সময়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষের সংখ্যা ছিল অল্প।
হয়তো কেউ ভয় পেয়েছিলেন। কেউ হয়তো নীরব থাকাকে নিরাপদ মনে করেছিলেন। কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, সময় সবকিছু ঢেকে দেবে। কিন্তু সময় সবকিছু ঢাকে না। কিছু প্রশ্ন সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়। বিভুদার মৃত্যুর এক বছর পর আমরা সেই প্রশ্নগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কোথায়? অপমৃত্যুর মামলার অগ্রগতি কোথায়? তার শেষ চিঠিতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর তদন্ত কোথায়? তার মৃত্যুর আগের কয়েক দিনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কোথায়?
আমরা কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চাই না। আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকাও তৈরি করতে চাই না। আমরা শুধু চাই সত্য। কারণ সত্য চাপা থাকলে শুধু একটি পরিবারের শোক দীর্ঘ হয় না। সমাজের আস্থাও ক্ষয়ে যায়।
বিভুদা সারাজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখেছেন। মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে লিখেছেন। আজ তার জন্য সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা হবে তার লেখা নিয়ে স্মরণসভা করা নয়, তার মৃত্যুকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা।
একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার তার লেখা নয় শুধু। তার প্রশ্ন করার সাহসও। বিভুদা সেই সাহস রেখে গেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব, তার রেখে যাওয়া প্রশ্নগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা। কারণ মানুষ চলে যায়। লেখা থেকে যায়। স্মৃতি থেকে যায়। কিন্তু কিছু প্রশ্নও থেকে যায়।
বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যুকে ঘিরে সেই প্রশ্নগুলো আজও বেঁচে আছে। আর তাই এক বছর পরও আমাদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। আমরা প্রতিশোধের অপেক্ষায় নেই। আমরা সত্যের অপেক্ষায়, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি।
চিররঞ্জন সরকার লেখক ও কলামনিস্