Published : 27 Feb 2026, 02:25 PM
মদ বিক্রির নতুন নীতিমালা তৈরিতে দুর্নীতির মামলা থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তার ডেপুটি মণীশ সিসোদিয়াকে খালাস দিয়েছে দিল্লির এক আদালত।
“আবগারী নীতিতে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না,” শুক্রবার দেওয়া রায়ে বিচারক এমনটাই বলেছেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই জানিয়েছে, তারা দিল্লির আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই হাই কোর্টে আপিল করবে। তাদের দাবি, নিম্ন আদালত তাদের তদন্তের বেশ কিছু দিক হয় উপেক্ষা করা হয়েছে, নয়তো বিবেচনাতেই নেওয়া হয়নি।
মামলায় এক সরকারি কর্মচারি কুলদীপ সিংকে এক নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে রাখায় সিবিআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছে আদালত। বিচারক এদিন কিছু সন্দেহভাজনকে ক্ষমা করে পরে তাদের রাজসাক্ষী বানানোর সিবিআই তদন্ত প্রক্রিয়ারও কড়া সমালোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
‘দিল্লি মদ নীতি মামলা’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই কাণ্ড মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকাকালে আম আদমি পার্টির প্রধান কেজরিওয়াল ও তার ডেপুটি সিসোদিয়াকে বেশ ভুগিয়েছে।
রাজধানীর নির্বাচনে দলটির ভরাডুবির পেছনেও এই মামলা ও সিবিআই তদন্তের ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।
২০২১-২২ সালে দিল্লিতে কেজরিওয়ালের সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নতুন ওই মদনীতির যাত্রা শুরু হয়েছিল। আম আদমির সরকার সেসময় বলেছিল, নতুন নীতিতে আগের চেয়ে বেশি রাজস্ব মিলবে।
তুমুল সমালোচনার মুখে দিল্লি সরকার পরে এ নীতি বাতিল করে দেয়।
“আমরা সবসময় বলেছি সত্যই শেষবিচারে জিতবে। আমি সবসময় বলেছি সত্য আমার সঙ্গে আছে। দায়িত্বে থাকা এক মুখ্যমন্ত্রীকে তার বাড়ি থেকে ধরে এনে জেলে ভরা হয়েছিল। আমাদের দিকে কাদা ছোড়া হয়েছিল,” দিল্লির কেন্দ্রস্থলে আদালতের বাইরে থাকা সাংবাদিকদের এসব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কেজরিওয়াল।
২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী বিশাল প্রচারণা থেকে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হওয়া সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিজেকে ‘কট্টর ইমানদার’ বলেও আখ্যা দেন।
আম আদমি পার্টির ওই আবগারি নীতিমালায় নিবন্ধন ফি কমিয়ে এবং লাভের সীমা বেঁধে দিয়ে কিছু ব্যবসায়ীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে ঘুষ লেনদেন এবং দিল্লি সরকারের ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ সিবিআইয়ের।
দিল্লির তখনকার লেফটেনেন্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২২ সালের অগাস্টে প্রথম মামলাটি দায়ের করে।
আনন্দবাজার লিখেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে নতুন আবগারি নীতি আনে দিল্লির তৎকালীন সরকার। তাতে মদ কেনার পাশাপাশি বিক্রির পদ্ধতিতেও বেশ কিছু বদল আনা হয়।
নতুন ওই নীতিতে সরকারি মদের দোকানগুলি বন্ধ করে বেসরকারি মদের দোকানগুলিকে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। কেজরিওয়াল সরকার চেয়েছিল, নতুন করে ৮৪৯টি মদের দোকান খুলতে।
রাজধানীর ৩২টি অঞ্চলে এই মদের দোকান খোলার পরিকল্পনা ছিল। নতুন আবগারি নীতিতে মদের কালোবাজারি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে দাবি করেছিলেন দিল্লির তখনকার উপমুখ্যমন্ত্রী, আবগারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিসোদিয়া।
কিন্তু নীতিটি কার্যকরে আবগারি লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে ৮ মাস পর নীতিটি প্রত্যাহার করা হয়। তার মধ্যে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর সাক্সেনা সরকারের নতুন নীতিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেন।
শুক্রবারের রায়ে নিম্ন আদালত বলেছে, অভিযোগের সপক্ষে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দিতে সিবিআই ব্যর্থ হয়েছে।
সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালই ছিলেন মূল চক্রান্তকারী। তাদের এ ভাষ্য খারিজ করে দিয়ে বিচারক জিতেন্দ্র সিংহ বলেন, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জোরালো তথ্যপ্রমাণ প্রয়োজন।
“সেরকম তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে না-পারলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা টলে যায়,” বলেন বিচারক।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ আবগারি দুর্নীতি মামলাতেই গ্রেপ্তর হন সিসোদিয়া। সেসময় তিনি ছিলেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী। ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর জামিনে ছাড়া পান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০২৪ সালের মার্চে এই একই মামলাতেই কেজরিওয়াল গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।