মিয়ানমার: আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হতাশ আসিয়ান

এ মৃত্যুদণ্ডকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ অ্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি একে মিয়ানমারের সংকট নিরসনে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার জন্যও ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করেছে আসিয়ান।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 11:15 AM
Updated : 26 July 2022, 11:15 AM

চার রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তাকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করেছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জোট আসিয়ান।

এ মৃত্যুদণ্ডকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ অ্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি একে মিয়ানমারের সংকট নিরসনে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার জন্যও ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করেছে তারা।

১০ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) বলেছে, জোটের পরবর্তী বৈঠকের সপ্তাহখানেক আগে এ চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে তারা ‘বিক্ষুব্ধ ও গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছে।

“সংকটের জটিলতা সুবিদিত এবং মিয়ানমারের সব ক্ষেত্রেই তীব্র মারমুখো মেজাজ দেখা যেতে পারে, তা সত্ত্বেও আসিয়ান সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে,” চলতি বছরের আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা কম্বোডিয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “৫৫তম আসিয়ান মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের আগে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অত্যন্ত নিন্দনীয় হয়েছে।”

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে জাতিসংঘ সমর্থিত আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জান্তার ‘সদিচ্ছার ঘাটতি’ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্যও করেছে তারা।

গত বছর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় বলেছে, বেসামরিক প্রতিরোধ আন্দোলনের মাধ্যমে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ সহায়তা করায় তারা ওই আন্দোলনকর্মীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।

এর মাধ্যমে দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল।

চার আন্দোলনকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিশ্বজুড়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনেছে।

কবে, কীভাবে এ চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ চারজনের পরিবারের সদস্যরা সোমবার জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে তাদেরকে জানানো হয়নি; মৃতদেহ নেওয়ার অনুমতিও পায়নি তারা।

অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিচালিত আদালতের গোপন বিচারে যে শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে এ চারজন ছিলেন।

এই ধারাবাহিকতায় জান্তা এখন বাকিদের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া চার আন্দোলনকর্মীকে যেখানে রাখা হয়েছিল, বিশ্বজুড়ে নিন্দা এবং মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় কয়েদিদের প্রতিবাদের পর মিয়ানমারের সর্ববৃহৎ শহর ইয়াংগনের সেই কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী।

জেলখানায় বিক্ষোভ হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে কারাবন্দিদের সহায়তাকারী এক গোষ্ঠীর একটি সূত্রও।

নিউজ পোর্টাল মিয়ানমার নাও জানিয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কয়েদিকে মারধর করেছে এবং ১৫ জনের মতো কয়েদিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের ছায়া জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রতিনিধি লিন থান্ট বলেছেন, তাদের সূত্ররা মান্দালয়ের একটি কারাগারেও অস্থিরতার খবর নিশ্চিত করেছে; সেখানে গুলি ছোড়ার শব্দ শোনা গেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে মন্তব্য নিতে ইয়াংগনের ইনসেইন কারাগার ও সংশোধন বিভাগের মুখপাত্রদের রয়টার্স ফোন করলেও তারা তা ধরেননি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার পাল্টায় এর আগে মিয়ানমারের জান্তা জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছিল।

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টার টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, মিয়ানমারে অন্তত ১৪০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চার আন্দোলনকর্মীর পর সামরিক জান্তা এখন আরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে, এমন সম্ভাবনায় তিনি উদ্বিগ্ন।

Also Read: মিয়ানমারে ৪ গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

Also Read: মিয়ানমার জান্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দায় যুক্তরাষ্ট্র-জাপান

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক