১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ১৮ মৃত্যু, ‘ভেতরে আটকা’ অনেকে

ডিনামাইটের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।

ভারতে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ১৮ মৃত্যু, ‘ভেতরে আটকা’ অনেকে
মেঘালয়ে ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত এভাবেই কয়লা জড়ো করে রাখা হয়। প্রতীকী ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Feb 2026, 10:32 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:52 PM

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে খননের অনুমোদন না থাকা এক কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলার দুর্গম থাঙ্কসু এ বিস্ফোরণের ঘটনায় অনেকেই খনিটির ভেতর আটকা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

ওই সময় খনিটিতে কত শ্রমিক কাজ করছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

দুর্গম এলাকা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয় বলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মনিষ কুমারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল জাজিরা। 

শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উদ্ধারকর্মীদের নিয়ে ফের অনুসন্ধান শুরু করা যাবে বলেও আশা মনিষের।  

তিনি খনিটিকে ‘অবৈধ র‌্যাট-হোল খনি’ অভিহিত করেছেন, এ ধরনের খনিতে সরু, গভীর টানেল থাকে, শ্রমিকরা সাধারণত এসব টানেলের ভেতর দিয়ে গিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সংগ্রহ করে।

জেলা পুলিশপ্রধান বিকাশ কুমার বলেছেন, ডিনামাইটের কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।  

“হয় দগ্ধ হয়ে না হয় ক্ষতিকর গ্যাস বা ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে শ্রমিকরা মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে কতজন ছিল, আসলেই কী ঘটেছিল তা বলতে পারার মতো এমন কাউকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, যে কারণে ভেতরে ঠিক কতজন আটকে আছে সে সম্বন্ধে ধারণা দিতে পারছি না,” ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এমনটাই বলেছেন বিকাশ কুমার।  

অবৈধ খনন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কংরাড সাংমা কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

হতাহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রত্যেককে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।  

ভারতের পূর্ব ও উত্তরপূর্ব অঞ্চলে অনুমোদনহীন খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনের ঘটনা বেশ স্বাভাবিক, এখানে কাজ করা শ্রমিকরা প্রতিদিন ১৮ থেকে ২৪ ডলারের মতো আয় করেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়েছে। 

২০১৮ সালে মেঘালয়ে এমনই এক খনিতে আটকা পড়ে অন্তত ১৫ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। 

পানিদূষণ সংক্রান্ত উদ্বেগ থেকে রাজ্যটিতে ২০১৪ সাল থেকেই ‘র‌্যাট-হোল খনিতে’ খনন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।