১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিক্ষোভের মুখে অফিস থেকে চলে গেলেন বাসসের এমডি

এ বিষয়ে ফেইসবুক পোস্টে সংবাদ সংস্থাটির এমডি ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন,  “চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Feb 2026, 11:41 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:47 PM

সাংবাদিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভের পর কার্যালয় থেকে বের হয়ে গেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে বাসস কার্যালয়ে এমডির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের এ ঘটনা ঘটে। তাকে সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার কার্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিতও’ ঘোষণা করে।

পরে এ বিষয়ে ফেইসবুক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়া মাহবুব মোর্শেদ ‘মব তৈরি করে’ তাকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরির অভিযোগ আনেন।

বাসসের একাধিক সাংবাদিক বলেন, এদিন বাসস কার্যালয়ে দুপুরে ডিআরইউ ও ডিইউজের নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠকে সেখানে থাকা সংবাদ সংস্থাটির সাংবাদিক-কর্মচারীরা এমডি ও প্রধান সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পরে বৈঠক থেকে তার কক্ষে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এমডিকে বের হয়ে যেতে চাপও দেওয়া হয় তখন। সেখানে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডাও হয়। এক পর্যায়ে তিনি বের হয়ে যেতে বাধ্য হন।

মাহবুব মোর্শেদ এ ঘটনার পর বুধবার আর কার্যালয়ে ফিরে আসনেনি বলে বাসসের আরেক সাংবাদিক জানান।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে ২০২৪ সালের ১৮ অগাস্ট দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের মেয়াদ শেষের পরদিনই এ ঘটনা ঘটল।   

নাম প্রকাশ না করে বাসসের একজন সাংবাদিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুই সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়। পরে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলে সবাই হৈচৈ করে সমর্থন করে এমডির রুমে যায়। 

তার ভাষ্য, মাহবুব মোর্শেদ বাসসের দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা বিতর্ক তৈরি করেন। তার সঙ্গে ডিইউজে, ডিআরইউসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধ লেগেই ছিল। ডিআরইউ তার বিরুদ্ধে কর্মসূচিও পালন করে। 

“তাছাড়া পছন্দ না হলে ঢাকার বাইরে বদলি করে দেন। এ কারণে তার ওপর অনেকে ক্ষিপ্ত ছিলেন।”

এ বিষয়ে মাহবুব মোর্শেদ অভিযোগ করেন ‘বহিরাগতদের’ নিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বহিরাগত বেশ কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে সাংবাদিক ও কর্মচারীরা জোর পূর্বক আমার রুমে ঢুকে পড়ে এবং আমাকে নানান রকম হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। কয়েকজন মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে। এই অবস্থায় আমি কৌশলে অফিস ত্যাগ করি।“

এদিন বাসস কার্যালয়ে হওয়া বৈঠকের বিষয়ে জানতেন বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, “কোন অভিযোগ থাকলে, দাবি দাওয়া থাকলে আসবে। আমার উপরে কর্তৃপক্ষ আছে তাদের বলবে সেগুলো তারা করেননি।”

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সেখানে দুপুরে সাংবাদিক কর্মচারীদের একটি সভা ছিল। তারা আমাকে এবং ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে তারা মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে অভাব-অভিযোগ নিয়ে নানা অভিযোগ তোলেন। পরে তাদের অভিযোগ বিষয়ে যেকোন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে চলে আসি।"

তিনি বলেন, “আমি সভা শেষে চলে আসার পর শুনেছি সাংবাদিক-কর্মচারীরা এমডির রুমে যায় এবং তাকে কেউ চাচ্ছে না বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে এমডি বের হয়ে যান।"

ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আগেই মাহবুব মোর্শেদের কাছে বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ আমলে বাসসে স্বেচ্ছাচারিতার তদন্তের দাবি জানিয়ে এলেও তিনি তা করেননি অভিযোগ করেন খুরশীদ আলম।

এ ঘটনার পর মাহবুব মোর্শেদ বিকাল ৪টা ৯ মিনিটে তার ফেইসবুকে এক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, “প্রিয় বিএনপি, আপনারা ক্ষমতায় আসছেন, আমি খুশি। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিয়োগে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। এখন আপনারা আমাকে এই পদে না রাখতে চাইতেই পারেন। 

“চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?"

বাসসের আরেক সাংবাদিক বলেন, দুইদিন আগে বাসসের জাতীয়তাবাদী ইউনিয়নের সাংবাদিক ও কর্মচারী ফোরামের সদস্যরা মিলে একটি জোট গঠন করে নোটিস বোর্ডে কমিটির নাম টাঙিয়ে দেয়। সাবেক সিএনই রহিম উদ্দীনকে ওই কমিটির আহ্বায়ক  ও সাবেক সিটি এডিটর গোলাম আহাদকে উপদেষ্টা করা হয়। সেই কমিটি বুধবার একটি সভা আহ্বান করেছিল। এ সভায় বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে অফিসের অফিসের জেনারেল সেকশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। 

রহিমউদ্দীনের সভাপতিত্বে ওই সভায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ কয়েকজন সাংবাদিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

বাসস এর শ্রমিক সাংবাদিক এক্য পরিষদের আহবায়ক রহিম উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ আজকের (বুধবার) বৈঠকের সিদ্ধান্ত তাকে জানিয়ে বলা হয়, ‘আপনাকে কেউ পছন্দ করে না ফলে আপনার অধীনে কেউ কাজ করবে না’। এটি জানানোর পর তিনি অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে আর ফিরে আসেননি।"

বাসস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক হলেন মাহবুব মোর্শেদ