২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতের গভীরে হঠাৎ কেন ক্ষুধা লাগে?

মাঝ রাতে খিদায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার নানান কারণ থাকতে পারে।

বিডিনিউজ২৪

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Sep 2025, 04:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:17 PM

মাঝ রাতে ক্ষুধায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত বিষয়। প্রথমে হয়ত মনে হয় স্বপ্ন, তবে পেটে ক্ষুধার অনুভূতি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় বিষয়টি সত্যি।

একবার উপেক্ষা করে আবার চোখ বন্ধ করলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ক্ষুধা ফিরে আসে। এবার অনেকেই দ্বিধা থাকেন কিছু খাবেন, নাকি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করবেন? আর যাই করা হোক না কেন এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবেই।

প্রশ্ন হল কেন এমন হয়? মাঝরাতে ক্ষুধা পাওয়া কি স্বাভাবিক, নাকি এটি কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে রাতের ক্ষুধা স্বাভাবিক হলেও বারবার হলে এটি সতর্ক হতে হবে।

যে কারণে মাঝরাতে ক্ষুধা লাগে

মার্কিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাইকেল জেনোভেস রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “রাতের ক্ষুধা লাগা জৈবিক, জীবনধারাগত ও মানসিক কারণে হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল দিনের খাবার।”

তিনি আরও বলেন, “দিনের খাবার যদি ভারসাম্যপূর্ণ না হয় বা রাতের খাবারে প্রোটিন ও আঁশ কম থাকে, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে। এতে রাতের বেলায় ক্ষুধা ফিরে আসতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বারিয়াট্রিক সার্জন (ওজন কমানোর শল্যচিকিৎসক) ডা. হেক্টর পেরেজ যোগ করেন, “যদি রাতের খাবারে মূলত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেইট থাকে, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং হঠাৎ কমেও যায়। এর ফলেই মাঝরাতে ক্ষুধা লাগে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাথমিক সেবা-বিষয়ক চিকিৎসক ডা. অঞ্জলি সাওহ্নি বলেন, “দিনে বেশি পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে শরীর অতিরিক্ত শক্তি চায়। ফলে মাঝরাতে ক্ষুধা লাগতে পারে।”

শুধু তাই নয়, হরমোনের তারতম্যও বড় ভূমিকা রাখে।

ডা. পেরেজ বলেন, “চাপ থেকে উৎপন্ন কর্টিসল হরমোন বা ইন্সুলিন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে রাতের ক্ষুধা বেড়ে যায়।”

ডা. জেনোভেস আরও বলেন, “চাপ ও দুশ্চিন্তা অনেক সময় মানসিক ক্ষুধা বাড়ায়। এটি অভ্যাসে পরিণত হলে শরীর নিজে থেকেই রাতের নির্দিষ্ট সময়ে খাবারের সংকেত দিতে শুরু করে।”

অন্যদিকে ঘ্রেলিন ও লেপটিন নামের হরমোন ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত নিয়ন্ত্রণ করে।

ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ বা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে এদের কাজ বিঘ্নিত হয়, যা রাতের ক্ষুধার কারণ হতে পারে।

ডা. পেরেজ বলেন, “মাঝরাতে জেগে উঠে যদি পানিশূন্যতা বোধ হয় তখন শরীর ভুল করে ক্ষুধার সংকেত দিতে পারে।”

আরেকটি কারণ অভ্যাস। যদি নিয়মিত রাতের খাবারের পরেও ‘স্ন্যাকস’ খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে শরীর রাত দুটোয় নিজে থেকেই খাবারের সংকেত দিতে শুরু করে।

মাঝরাতে ক্ষুধা কি অসুস্থতার লক্ষণ?

ডা. জেনোভেস মনে করিয়ে দেন, মাঝে মাঝে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে বারবার ঘটলে, এটি সতর্ক সংকেত।

ডা. পেরেজ বলেন, “এটি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে সাধারণত রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বোঝায়। কখনও এটি অপুষ্টি বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণও হতে পারে।”

অর্থাৎ, রাতের ক্ষুধা বারবার হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।

ক্ষুধা লাগলে খাওয়া উচিত কি?

ডা. জেনোভেস বলেন, “যদি কেবল অভ্যাস বা কার্বোহাইড্রেইট খাওয়ার লোভ থেকে ক্ষুধা লাগে, তবে খাওয়াটা উচিত নয়। কারণ এতে অভ্যাস আরও দৃঢ় হয়।”

তবে যদি সত্যিই ক্ষুধা লাগে এবং পেট থেকে শব্দ শোনা যায়, তবে ছোট ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাওয়া ভালো। এতে আবার ঘুমোতে সুবিধা হবে।

ডা. পেরেজ বলেন, “রাতে খেতে হলে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিতে হবে। এগুলো রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখবে। কখনই মিষ্টি বা বেশি কার্বোহাইড্রেইট খাওয়া যাবে না, এতে আবার ‘স্পাইক’ (রক্তে শর্করার ওঠা–নামা) হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রাতের স্ন্যাকস এতটাই সাদামাটা হওয়া উচিত যেন তা কেবল সত্যিকারের ক্ষুধায় খেতে মন চায়, অভ্যাসে নয়।”

মাঝরাতের জন্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস

ডা. জেনোভেস, ডা. পেরেজ এবং ডা. সাওহ্নির পরামর্শ হল-

তবে যদি ক্ষুধার সঙ্গে কাঁপুনি, মাথা ঘোরা বা ঘাম আসে, তবে এটি রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

এক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর কার্বোহাইড্রেইট খাওয়া দরকার।

ডা. সাওহ্নি বলেন, “এমন সমস্যার সমাধানে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও পূর্ণ শস্য খেতে হবে। আর খাবার বাদ দেওয়া যাবে না। জীবনধারার পরিবর্তনই প্রথম ধাপে সমাধান।”

কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেবেন?

ডা. পেরেজ বলেন, “যদি সপ্তাহে দুতিনবারের বেশি হয় এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তবে এটি স্বাভাবিক নয়।”

এছাড়া যদি ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণ ওজন পরিবর্তন বা ক্লান্তি থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডা. জেনোভেস সতর্ক করেন, “যদি মাঝরাতে ক্ষুধার সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি বা ঘাম যুক্ত হয়, অথবা অনিদ্রা ও মেজাজের সমস্যা থাকে, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করা উচিত।”

আরও পড়ুন

ক্ষুধাভাব কমানোর উপায়

যেসব খাবার ক্ষুধা বাড়ায়

ক্ষুধার্ত অবস্থায় যেসব কাজ করা ঠিক না

মাঝরাতে স্বাস্থ্যকর খাবার