২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতের খাবারের সময় বদলালেই হৃদযন্ত্র থাকবে সুস্থ

খেয়েই ঘুমাতে গেলে পড়তে হতে পারে নানান জটিল রোগে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Feb 2026, 03:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

কী খাচ্ছি— এই বিষয় নিয়ে সচেতনতা এখন অনেক বেড়েছে। তবে কখন খাওয়া হচ্ছে- সুস্বাস্থ্যের জন্য সেটি নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

গবেষণা বলছে, রাতের খাবার কোন সময় গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে ঘুমানোর ঠিক আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করলে রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা উন্নত হতে পারে।

এই গবেষণায় মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মানুষের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়, যারা হৃদযন্ত্র ও বিপাকসংক্রান্ত রোগের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন।

যে কারণে সময় এত গুরুত্বপূর্ণ

শরীর একটি স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করে, যাকে বলা হয় জৈবিক ঘড়ি। এই ছন্দ ঘুম, জাগরণ, হজম, হরমোন নিঃসরণ— সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে।

এই গবেষণায় যুক্ত ফিলিস জি রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “শুধু কী খাচ্ছেন বা কতটুকু খাচ্ছেন, তা নয়; কখন খাচ্ছেন, সেটিও শরীরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

খাবার খাওয়ার পর শরীর তা হজম করতে একটি নির্দিষ্ট সময় নেয়। এই সময়ের মধ্যে শরীর খাবার ভেঙে পুষ্টি শোষণ করে এবং বর্জ্য বের করে দেয়।

“তবে ঘুমানোর ঠিক আগে খাবার খাওয়া হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই শরীর বিশ্রামের ‘মোডে’ চলে যায়। এতে হজমে সমস্যা হয় এবং শরীরের ভেতরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়”- বলেন তিনি।

দেরিতে খাওয়ার ক্ষতি কোথায়?

রাতের খাবার দেরিতে খাওয়ার ফলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এতে হৃদযন্ত্র এবং বিপাকক্রিয়ার ওপর চাপ পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত দেরিতে রাতের খাবার খান, তাদের রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন তুলনামূলক বেশি থাকে। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শুধু তাই নয়, দেরিতে খাওয়ার ফলে ঘুমের মানও খারাপ হয়। অনেক সময় পেট ভরা অবস্থায় ঘুমাতে গেলে অস্বস্তি লাগে, বারবার ঘুম ভেঙে যায়, এমনকি অম্লতা বা বুকজ্বালার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তিন ঘণ্টার নিয়ম যে কারণে কার্যকর

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একটি দলকে বলা হয়েছিল ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করতে।

একই সঙ্গে তাদের ঘরের আলো কমিয়ে রাখতে বলা হয়, যাতে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

সাত সপ্তাহের এই পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- যারা এই নিয়ম মেনে চলেছেন, তাদের রক্তচাপ প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ এবং হৃদস্পন্দন প্রায় পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি দিনের বেলায় রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রিত ছিল।

এর কারণ হল- শরীর তখন পর্যাপ্ত সময় পায় খাবার হজম করার জন্য এবং ঘুমের সময় পুরোপুরি বিশ্রামে যেতে পারে। ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

আলো কমানো যে কারণে জরুরি

এই গবেষণায় শুধু খাবারের সময় নয়, আলো নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রাতের খাবারের পর আলো কমিয়ে দিলে শরীরে ঘুমের হরমোন নিঃসরণ বাড়ে।

ফলে ঘুম দ্রুত আসে এবং গভীর হয়। ভালো ঘুম আবার হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুমের সময়ই শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং পরের দিনের জন্য প্রস্তুত হয়।

যদি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে ধীরে ধীরে শরীরের ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে- মধ্যবয়সী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এই অভ্যাস আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বয়সে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং হৃদযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন

খাবার যেভাবে মনের ওপর প্রভাব ফেলে

ব্যস্ততার মাঝেও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার সহজ উপায়

যেসব খাবার খেলে রাতের ঘুম যাবে পালিয়ে