২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল ‘উপেক্ষিত’ কেন প্রশ্ন শফিকুরের

প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা সমাধানে সংসদে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 07:08 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

জাতির প্রয়োজনেই সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, “আজ এই প্রতিষ্ঠানটি অবহেলিত, উপেক্ষিত। 

“যেভাবে এই প্রতিষ্ঠানকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাহলে সরকার বলে দিতে পারে যে, এইটার প্রয়োজন নাই। আর যদি প্রয়োজন থাকে তাহলে ঝুলিয়ে রাখার কোনো অবকাশ নাই। এটার একটা সমাধান অবশ্যই হওয়া চাই।”

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১৩ এ সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পরিদর্শনে যান বিরোধী দলীয় নেতা। পরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সভায় বর্তমান সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “এখানে (আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল) যে শত শত রোগী আসে প্রতিদিন সেবা নিতে, তারা কি ‘সবার’ মধ্যে পড়ে না? তারাও তো ‘সবার’ মধ্যে পড়ে। যেহেতু তারা ‘সবার’ মধ্যে পড়ে, সে ক্ষেত্রে তাদের উপযুক্ত এটেনশন দিতে হবে।”

ওষুধের জন্য রোগীদের হাহাকার দেখেছেন দাবি করে তিনি বলেন, “এটা ঠিক যে সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালগুলাতেও একই হাহাকার, শুধু একটু কম। এখানে (আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল) বেশি।”

এই প্রতিষ্ঠানের ওষুধের জন্য বাজেটও শেষ হওয়ার পথে বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান।

সভায় বিরোধী দলীয় নেতার কাছে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা যেসব দাবি তুলে ধরেছেন, সবগুলো সঙ্গত দাবি। সংসদে সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকে। তারপরও সংসদে বেসিক দু তিনটি পয়েন্ট তুলে ধরব। আমি ওয়াদা দেব না যে, সব দাবি পূরণ করা হবে। আমি আপনাদের ওয়াদা দেব, দাবি আদায়ের আন্দোলনে আমি থাকব।”

ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে তিনি বলেন, “এই সেবা তূলনামূলক সাশ্রয়ী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। তাহলে এই সেবা কেন আমরা নেব না? এর প্রয়োজনীয়তা হয় আমরা উপলব্ধি করি না, অথবা এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা বলার জন্য জায়গা মত লোক নাই; এই জন্য উপেক্ষিত। এটা তো হওয়া উচিৎ নয়।”  

সরকারী ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ১৯৮৫ সালে ‘মেডিসিনের দেশীয় পদ্ধতির উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে যোগ্য, দক্ষ ইউনানী এবং আয়ুর্বেদিক চিকিত্সক তৈরি করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

বর্তমানে ক্যাম্পাসে কলেজ, লাইব্রেরি, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, উৎপাদন ও গবেষণা ইউনিট, বালিকা হোস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টার এবং একটি মসজিদ রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ও হাসপাতালে আরো অবকাঠামো নির্মাণ, রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে সরঞ্জাম কেনাসহ নানা দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

বিরোধী দলীয় নেতার কাছে তারা ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক সেবার জন্য আইন তৈরির দাবি তুলে ধরেন তারা।