চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতার পেছনে চিকিৎসকের আচরণকেও দুষছেন নীতি নির্ধারকরা।
Published : 21 Dec 2024, 07:27 PM
দেশে প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও কেবল আস্থাহীনতার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে বিদেশে ছুটছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সারওয়ার বারী।
তিনি বলেছেন, “এই আস্থার সংকট দূর করা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
শনিবার রাজধানীর সিরাডপ মিলনায়তনে ‘চিকিৎসা সেবায় বিদেশমুখীতা: আমাদের উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমাতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার উদ্যোগী হয়েছে মন্তব্য করে সচিব সারওয়ার বলেন, “রোগীদের এই বিদেশ মুখাপেক্ষিতা রোধে অন্তর্বর্তী সরকার ক্যানসারসহ অন্তত তিনটি রোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসায় কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের প্রস্তুত করছে।
“এছাড়াও এ খাতকে আরও ত্বরান্বিত করতে সরকার কর অব্যাহতির জন্য ইতোমধ্যে রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। আর বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালার সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছে সরকার।”
স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নে মেডিকেল অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন বলেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতার পেছনে চিকিৎসকের আচরণগত কারণও দায়ী।
“সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখলে সেই চিকিৎসকের কাছ থেকে খুব একটা ভাল আচরণ পাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ রোগীরা চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পেতে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে।”
অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআরবি’র গবেষক আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ ১৯টিরও বেশি দেশে প্রতি বছর চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন ৮ লাখেরও বেশি মানুষ, যাদের বেশির ভাগেরই গন্তব্য ভারত। চিকিৎসা নিতে যাওয়া মোট রোগীর শতকরা ৫১ শতাংশই ভারতে যান।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, পেশাজীবীদের মধ্যে ব্যবসায়ীরাই বেশি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যান। এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে থাইল্যান্ড ও ভারতে যাওয়ার সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। এরপর রয়েছে সিঙ্গাপুরের অবস্থান।
তিনি বলেন, “গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ রোগের চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যাচ্ছে মানুষ। কারণ চিহ্নিত হয়েছে আটটি। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কার্ডিওভাসকুলার বা হৃদরোগের চিকিৎসা, যা মোট রোগীর ১৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম যাচ্ছেন চোখ ও দাঁতের চিকিৎসা করাতে, যা মোট রোগীর ২ শতাংশ।”
অধ্যাপক হুমায়ুন কবির জানান, এছাড়া ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য, ১১ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী অর্থোপেডিক সার্জারির জন্য, ১১ শতাংশ করে রোগী লিভার ও ক্যানসার রোগের, ৯ শতাংশ রোগী নিউরোলজি, ৬ শতাংশ রোগী গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজি, ৫ শতাংশ রোগী নাক-কান-গলা এবং ৪ শতাংশ করে রোগী জেনারেল সার্জারি ও গাইনোকলজির চিকিৎসায় বিদেশে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
বিপিএমসিএ সভাপতি এম এ মুবিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অধ্যাপক জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।