১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সব ব্যর্থতার ফল এসে স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে: সায়েদুর রহমান

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় হাসপাতালগুলোতে চাপ পড়ে, মানুষের মৃত্যু হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2025, 03:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:19 PM

বাংলাদেশে যে কোনো ব্যর্থতার পর তার ফল এসে স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চীন সরকারের দেওয়া ডেঙ্গু কম্বো কিট গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় হাসপাতালগুলোতে চাপ পড়ে, মানুষের মৃত্যু হয়।

“আমরা সব সময় একটা কথা বলি, কারও ওপর অভিযোগ করছি না। যে কোনো ধরনের ব্যর্থতার ফল আলটিমেটলি স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। সেটা পরিবেশগত হোক, পানি, বাতাস, দুর্ঘটনা ঘটুক বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক। দিনের শেষে এটা স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর চাপ পড়ে। 

“ডেঙ্গুও এর ব্যতিক্রম না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে ভেক্টর কন্ট্রোল। ভেক্টর কন্ট্রোল প্রোগ্রাম যখনই ফেল করতে থাকে, বা বিভিন্ন সিজনাল ভেরিয়েশনের কারণে বা পানি জমে থাকার কারণে এই ধরনের সার্জ হয়, তখন আমরা দেখতে পাই হাসপাতালে রোগী আসা বা তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।”

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। ডেঙ্গুর ‘হটস্পটগুলো’তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স ও ডায়াগনস্টিক কিটসহ সব ধরনের সহযোগিতা পাঠাচ্ছে। 

“চীন সরকার যে ডেঙ্গু কিট দিল, সেটাও তার অংশ। মুগদা হাসপাতালসহ আমরা বেশকিছু সুযোগ সুবিধার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। রোগী বেড়ে গেলে হয়ত কিছুটা কঠিন হবে। তবে সাধারণ মানুষকে যেসব নির্দেশনা পালনের জন্য বলা হয়েছে, তা করতে পারলে রোগী ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।”

সায়েদুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে দেশে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, কোভিড ও ইনফ্লুয়েঞ্জার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কাছাকাছি লক্ষণ থাকায় মানুষ এটাকে সাধারণ জ্বর ভেবে বাসায় বসে থাকছেন। 

“দেরিতে হাসপাতালে আসা আমাদের চিকিৎসাকে জটিল করে দিচ্ছে। আমরা মনে করি শনাক্তকরণ কিট যথেষ্ট আছে, তারপরও সংকটের কিছু থাকলে আমরা সংগ্রহের ব্যবস্থা করছি। তবে সবার আগে দরকার মানুষের সচেতনতা, উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে চীন দূতাবাসের ডেপুটি মিশন চিফ লিউ ইউইনও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চীন সরকারের পক্ষ থেকে ১৯ হাজার কম্বো কিট দেওয়া হয়েছে। এসব কিট আরও কার্যকরভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করবে। এসব কিটে একসঙ্গে এনএস১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষা করা যাবে।