Published : 04 Sep 2026, 07:59 PM
দেশজুড়ে হাসপাতালগুলোতে অভিযান চলায় রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের উৎপাত আগের তুলনায় কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায় এমন একটি চক্রের বিরুদ্ধে ডিজিএফআই, র্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে তিনি ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানের ফলে আগের তুলনায় দালালদের উৎপাত ‘কমেছে’।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে জেলাগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযানে অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে।
“যেসব ক্লিনিকে অবৈধ চিকিৎসক এবং ভুয়া সনদধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানও সিলগালা করা হচ্ছে।”
এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিজে তদারক করছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত এক মাসে ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি চিকিৎসকদের ‘শতভাগ’ উপস্থিতি পেয়েছেন।
তার দাবি, রোগীরাও চিকিৎসকদের আচরণ এবং হাসপাতালের খাবারের মান আগের তুলনায় ‘উন্নত’ হওয়ার কথা তাকে বলেছেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ নিয়েও এ সময় কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর দীর্ঘদিন নিয়মিত হামের টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ায় দেশে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
তার ভাষ্য, ক্যাম্পেইনের পর নতুন করে টিকাদানের উপযুক্ত হওয়া শিশুদের একটি অংশ এবং সচেতনতার অভাবে সময়মত টিকা না পাওয়া শিশুরা টিকাবঞ্চিত থেকে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্ব ব্যাংক ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত টিকা এনে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।