২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ডাক্তার কাকু’ হয়ে পর্দায় প্রসেনজিৎ, দুই প্রজন্মের গল্প

প্রসেনজিতের কথায়, “আমি আবেগপ্রবণ মানুষ এবং শিকড় আঁকড়ে থাকতে ভালোবাসি। সিনেমাটি সেই শিকড়ের গল্প বলতে চেয়েছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 11:01 PM

Updated : 21 Sep 2026, 11:01 PM

কয়েক বছর ধরে কখনো তিনি পুলিশ হয়ে, কখনো রহস্যভেদী জনপ্রিয় কাকাবাবুর চরিত্র হয়ে পর্দায় এসেছে। এবার চিকিৎসকের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে।

সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, ‘ডাক্তার কাকু’ নামের সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার। পাভেল ভট্টাচার্য পরিচালিত সিনেমা এগিয়েছে বাবা ও ছেলেকে নিয়ে।

চিত্রনাট্যে দেখানো হয়েছে, বাবা-ছেলে দুজনেই চিকিৎসক। কিন্তু পেশা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব প্রসঙ্গে তাদের ভাবনায় পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের সঙ্গে যখন রোগীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব এসে মিশে যায়, তখন সম্পর্কের সেই টানাপোড়েনই সিনেমার মূল বিষয় হয়ে ধরা দেয়।

অন্যদিকে চিকিৎসাকে ঘিরে অর্থনৈতিক বৈষম্যও তুলে ধরেছেন পরিচালক। ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়া, চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ এবং পেশাগত নৈতিকতার সংকট নিয়েও কথা বলেছে সিনেমাটি।

প্রসেনজিতের চরিত্রটি কেবল চিকিৎসকের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এর সঙ্গে রয়েছে মধ্যবিত্ত মানসিকতা, নিজস্ব বিশ্বাস ও আদর্শবোধ। এমনকি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কেও রয়েছে টানাপোড়েন।

প্রসেনজিতের ভাষায়, “সিনেমায় বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত আবহ এবং শিকড়ের কাছাকাছি থাকা বাঙালিয়ানা রয়েছে। চরিত্রটি পরিচিত মনে হলেও এমন চরিত্র আগে করা হয়নি।”

এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ঋদ্ধি সেন, এনা সাহা, রজতাভ দত্ত, তুলিকা বসু ও পাভেল নিজে।

প্রসেনজিৎ বলেন, তিনি নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছ থেকেও শিখতে চান। ঋদ্ধি সেন যুক্ত হওয়ায় সিনেমাটি নিয়ে তিনি আগ্রহী হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

তরুণ অভিনেতাকে নিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, “ঋদ্ধির কোনো কাজ বা ভিডিও ভালো লাগলে মাঝরাতেও ওকে মেসেজ দিই। নতুন প্রজন্মের নিজস্ব একটি অভিনয়ের ভাষা তৈরি হয়েছে। সেই ভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াও জরুরি। কোনো জটিল দৃশ্য থাকলে শুটিংয়ের আগে ঋদ্ধির সঙ্গে বসে স্ক্রিপ্ট পড়তাম।”

প্রসেনজিতের কথায়, “আমি আবেগপ্রবণ মানুষ এবং অতীতের সঙ্গে যুক্ত শিকড়কে আঁকড়ে থাকতে ভালোবাসি। সিনেমাটি সেই শিকড়ের গল্প বলতে চেয়েছে। আমার জীবনেও এমন একাধিক ‘ডাক্তার কাকু’ দেখেছি। তাই চরিত্রটির কথা শুনে রাজি না হয়ে পারিনি।”

সিনেমাটির নির্মাণপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কোভিড মহামারীর আগে। দীর্ঘ সময় পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে এল সিনেমাটি।