শাড়ির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন বাড়ালেন তানজিন তিশা
আসামিপক্ষের আবেদনে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিও পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন তিনি।
শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন বলে তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জানান।
একই সঙ্গে মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাতে আসামিপক্ষের করা আবেদনও মঞ্জুর করেন আদালত। তবে পরবর্তী শুনানির তারিখ আদালত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
মামলার অভিযোগ, অনলাইন ফ্যাশন পেইজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটি পরে পেজটির প্রচারে অংশ নেওয়া এবং এর দাম পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।
অ্যাপোনিয়ার প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে এই মামলা করেন।
বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। পরে ডিবি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করে এবং ১৩ অগাস্ট তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ অগাস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তানজিন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার ওই আদালতে মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। একই সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী তানজিন তিশার আত্মসমর্পণ করে জামিন নেওয়ার দিনও নির্ধারিত ছিল।
সেজন্য বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আদালতে পৌঁছান তিশা। এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর মামলার শুনানি শুরু হয়।
তিশা প্রথমে বেঞ্চে বসা ছিলেন। তবে বাদীপক্ষ থেকে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর জন্য বলা হয়। পরে কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান এই অভিনেত্রী।
তার পক্ষে আইনজীবী খোরশেদ আলম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, "আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। তার জামিন বর্ধিত করার আবেদন করছি।"
এ সময় তিনি বাদীপক্ষের আচরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তিশাকে ‘অপমান করতে’ তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বলেছে তারা।
তখন বিচারক বলেন, "আসামি তো, এ বিষয়ে কথা না বলি।"
এসময় বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল বলেন, "এ আসামি জামিন নেওয়ার পর তার মিসইউজ করেছে। ভেরিফায়েড পেইজ থেকে আইনজীবী সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করেছে।"
এসময় বিচারক তাকে বলেন, "অভিযোগ থাকলে পিটিশন আকারে দেন।"
তখন জহিরুল হাসান মুকুল বলেন, "চার্জের জন্য আছে। চার্জ হয়ে যাক। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে।"
এসময় তিশার আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, "ডিসচার্জের যথেষ্ট গ্রাউন্ড আছে। আমাদের সময় দিন। আমরা পরে শুনানি করব।"
এরপর বাদীপক্ষ থেকে বলা হয়, জামিন নেওয়ার পর তিশা তার ফেইসবুক পেইজে অ্যাপোনিয়ার বিষয়ে ‘যা তা’ লিখেছেন।'
তখন বিচারক আবারও তাদের অভিযোগটি পিটিশন আকারে জমা দিতে বলেন। পরে তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন এবং অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পেছাতে আসামিপক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছে, তা মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিন তিশা দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
