১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সঞ্জয় কিছু অস্ত্র নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন কেন

সঞ্জয় শিশুর মত বাবার পায়ের উপর গিয়ে পড়ে বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে’।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Dec 2025, 08:32 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

বত্রিশ বছর আগে অস্ত্র আইনে কারান্তরালে যাওয়া হিন্দি সিনেমার অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকে জেরা করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা রাকেশ মারিয়া। জেরার সময়ের বহু অজানা তথ্য সামনে এনেছেন তিনি। 

এনডিটিভি লিখেছে, গ্রেপ্তারের পর সঞ্জয়ের সঙ্গে তার বাবা অভিনেতা-রাজনীতিক সুনীল দত্তকে দেখা করতে দেওয়া হয়। সে সময় নিজের অপরাধের জন্য বাবার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়েছিলেন সঞ্জয়।

১৯৯৩ সালের মুম্বাইয়ে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের সময় ২৫৭ জন নিহত হয়। তখন সঞ্জয়ের কাছে একটি একে-৫৬ অস্ত্র পাওয়া যায়, যার জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাকে অস্ত্র আইনে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয়।

মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন রাকেশ মারিয়া। দেশি স্টুডিওজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন সেই প্রসঙ্গে। 

এই ঘটনার তদন্ত শুরু হলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার এক রেস্তোঁরার মালিক হানিফ কদাওয়ালার মুখে প্রথম সঞ্জয়ের নাম আসে। 

রাকেশ মারিয়া বলেন, “কদাওয়ালা ছাড়াও প্রযোজক সামীর হিঙ্গোরার কাছ থেকেও সঞ্জয়ের নাম উঠে আসে।

“হানিফ কদাওয়ালা ও সামীর হিঙ্গোরা দুজনেই প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে তারা বলেন, এমন একজনের নাম আসবে যার নাম শুনলে আপনারা পিছিয়ে যাবেন। তখন আমাদের জোরাজুরিতে তারা সঞ্জয়ের কথা বলেন। আমি অবাকই হলাম, ভাবলাম সুনীল দত্তের ছেলের এখানে কী ধরনের ভূমিকা থাকতে পারে।”

কদাওয়ালা ও সামীর বলেন, গাড়ির গোপন চেম্বার থেকে অস্ত্র বের করার জন্য বিস্ফোরণকারীদের একটা ‘নিরিবিলি জায়গা’ দরকার ছিল। আর সেই জায়গা হিসেবে তারা সঞ্জয়ের বাড়ির কথা বলে। ওই অস্ত্রই ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়। 

রাকেশের দাবি, “ফোনে আগেই সব সঞ্জয়কে জানানো হয়েছিল। হামলাকারীরা সঞ্জয়ের বাড়িতে আসে। সঞ্জয় তাদের বলেছিলেন, তারা যেন বাইরে গাড়ি রেখে তারপর সব সরঞ্জাম বাড়ির ভেতরে রাখেন।”

রাকেশ বলেন, “ওই সব অস্ত্র থেকে ওই লোকদের বেশিরভাগই ফেরত দিয়েছিলেন সঞ্জয়। তবে কিছু অস্ত্র তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন।”

তদন্ত কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে যখন সঞ্জয়ের নাম আসে তখন অভিনেতা মরিশাসে শুটিং করছিলেন। কর্মকতারা তার জন্য অপেক্ষা করেন বলে জানিয়েছেন রাকেশ। 

দেশের মাটিতে পা দেওয়ামাত্র সঞ্জয়কে বিমানবন্দর থেকেই তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে যা হয়েছিল

সঞ্জয়কে রাখা হয়েছিল ক্রাইম ব্রাঞ্চের এমন এক কক্ষে, যার সঙ্গে বাথরুম থাকলেও দরজা খুলে নেওয়া হয়েছিল। 

রাকেশ দুজন কনস্টেবলকে বলেছিলেন সঞ্জয়কে যেন সিগারেট না দেওয়া হয়। কারোর সঙ্গে ফোনে কথা বলারও অনুমতি ছিল না বলিউডের এই নায়কের।

রাকেশ বলেন, “রাত আড়াইটায় সঞ্জয়কে কারাগারে আনা হয়। আমি পরদিন সকাল ৮টার দিকে গিয়েছিলাম। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আমাকে আসল ঘটনা বলবেন? এই বিস্ফোরণে আপনার ভূমিকা কি ছিল?”

সঞ্জয় তিনি নির্দোষ দাবি করেন বলে জানান রাকেশ।

তিনি বলেন, “সেই মুহূর্তে আমার ধৈর্যচ্যুতি হয়। সঞ্জয়ের তখন লম্বা চুল। আমি তাকে চড় মারলে, তিনি পেছনের দিকে হেলে যান। তখন আমি ওর চুল ধরে টেনে তুললাম। বললাম, ভদ্রলোকের মত সব কথা বলবে, নাকি…? এরপর সঞ্জয় আমার সঙ্গে একা কথা বলতে চাইল। 

“তখন পুরো ঘটনা আমাকে তিনি বলেন। সঞ্জয় বলেছিলেন তিনি একটা ভুল করেছেন। তার বাবাকে যেন বিষয়টা না বলা হয়।

“বললাম, আপনার বাবাকে তো জানাতেই হবে। ভুল করেছেন, এখন সেটার মাশুল দিতে হবে, কিছু তো করার নেই।”

রাকেশ বলেন, ওই সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সুনীল দত্ত, রাজেন্দ্র কুমার, মহেশ ভাট, যশ জোহর ও রাজনীতিক বলদেব খোসা দেখা করতে আসেন।

“তারা বলেন, সঞ্জয় এসব করতে পারেন না।”

রাকেশ বলেন, এর পরের দৃশ্যটি ছিল আবেগঘন।

“সঞ্জয়কে আরেকটি কক্ষে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তার তার বাবা ছিলেন। সঞ্জয় শিশুর মত বাবার পায়ের উপর গিয়ে পড়ে বলেন, ‘বাবা আমার ভুল হয়ে গেছে আমার’।

“কোনো বাবার জন্য এমন দৃশ্য কল্পনাও আমি করতে পারি না। সুনীল দত্তর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।”

সঞ্জয় দত্ত তার শাস্তির মেয়াদ শেষ করেন ২০১৬ সালে। এর পর থেকে তাকে নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায়। 

পরিচালক রাজকুমার হিরানি তার জীবনের গল্প নিয়ে বানিয়েছিলেন ‘সঞ্জু’ সিনেমা। যেখানে সঞ্জয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন রাণবীর কাপুর।