Published : 24 May 2026, 12:47 AM
সেমিনার, ‘নজরুল পুরস্কার’ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলা একাডেমি।
শনিবার বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনের এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
‘কবি নজরুলের সাংবাদিকতা’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেন কবি ও প্রাবন্ধিক আবদুল হাই শিকদার এবং কবি ও গবেষক মজিদ মাহমুদ।

মোহাম্মদ আজম বলেন, "নজরুলের সাংবাদিকতার সঙ্গে তার সাহিত্যকর্মের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তার সম্পাদিত সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকীয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেগুলো সমসাময়িক প্রসঙ্গ ধারণ করলেও চিরকালীন আবেদন ধরে রেখেছে।"
তিনি বলেন, “নজরুল বহুলপঠিত হলেও তার সাংবাদিক-সত্তা আমাদের সাহিত্যপরিসরে তেমন আলোচিত নয়। বাংলা একাডেমির এই সেমিনার সে বিষয়ে নতুন ধারণা দেবে বলে আশা করি।”
মূল প্রবন্ধে ইসরাইল খান বলেন, "সংবাদপত্রকে সাহিত্যিক ও শৈল্পিক রূপ দিয়ে মানুষের মনের গভীরে পৌঁছানোর কৌশল নজরুল খুব ভালোভাবেই জানতেন। মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলার ক্ষমতাও তার ছিল বলেই তার সাংবাদিকতা আজও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।"
তিনি বলেন, “নজরুল তার ‘নবযুগ’, ‘ধূমকেতু’ ও ‘গণবাণীতে’ যে কবিতা ও বিভিন্ন রচনা লিখেছিলেন, সেগুলো কেবল সময়ের দলিল নয়, স্থায়ী সাহিত্যমানও অর্জন করেছে। সমকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রচিত তার সাংবাদিকতা নিয়ে লেখাগুলোর বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে অনুসন্ধান করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপাদান পাওয়া যাবে।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় অবদানের জন্য অধ্যাপক রশিদুন নবী এবং নজরুলসংগীত চর্চায় অবদানের জন্য শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরার হাতে বাংলা একাডেমি ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও মহাপরিচালক তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, "নজরুলের সাংবাদিকতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনিই সংবাদপত্রের মাধ্যমে ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেছিলেন।"
তিনি বলেন, “তার সম্পাদিত প্রতিটি পত্রিকার পাতায় পাতায় শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের মুক্তির কথা উঠে এসেছে। তাই সাংবাদিক নজরুল এবং সাহিত্যিক নজরুল— দুই সত্তাই নজরুলচর্চায় সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী সীমা ইসলাম। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন সুজিত মুস্তাফা ও ইয়াসমিন মুশতারী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব।