১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বনলতা এক্সপ্রেসের’ প্রদর্শনী বন্ধ অশনিসংকেত: চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

“এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী প্রত্যেকটা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। ফলে আস্ফালন বেড়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2026, 05:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী স্থগিত করার ঘটনাটিকে দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। 

রোববার চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একটি চিহ্নিত মৌলবাদী গোষ্ঠী কতগুলো ভুয়া-মিথ্যা যুক্তি দেখিয়ে সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের প্রচারণা চালায়। বর্তমান সরকার এই অপশক্তির নিকট নতি স্বীকার করে।”

 “এ শুধু বনলতা এক্সপ্রেস নয়, দেশের সব চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক  কর্মকাণ্ডের জন্য অশনিসংকেত। এটি কোন বিচ্ছিন্ন  নয়, পরিকল্পিত ঘটনা।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল শনিবার। কিন্তু বৃহস্পতি ও শুক্রবার জেলার কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সিনেমাটি প্রদর্শন না করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার চালানো হয়। এ নিয়ে অনলাইনে চলে আলোচনা-সমালোচনা।

এর পর শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার দপ্তরে জেলা কওমী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জেলার শীর্ষ আলেমদের নির্দেশে একটি জরুরি সভা হয়। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামবিদ্বেষী ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। তখন এই প্রদর্শনী প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনী স্থগিতের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “অন্ধকারের শক্তি সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলা করে, বাউল মেলা বন্ধ করে দেয়, ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ায় লাশ কবর থেকে উঠিয়ে পুড়িয়ে দেয়, পীরের মাজারে হামলা করে তাকে হত্যা করে, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর, মেয়েদের খেলা বন্ধ করাসহ মুক্ত চিন্তার মানুষদের হত্যা করে।

“এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গর্ব উপমহাদেশের সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁয়ের সংগ্রহশালা হামলা করে ধ্বংস করে।”

চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অভিযোগ, “এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী প্রত্যেকটা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। ফলে আস্ফালন বেড়েছে।

“১৯৭১ সালে এরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, গণিমতের মাল আখ্যা দিয়ে মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশবাসীকে হত্যা করেছে। বর্তমানে এরা তথাকথিত তৌহিদী জনতার নামে এইসব ঘৃণ্য অপরাধ করে যাচ্ছে।”

দেশের সবাইকে এই শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে সংগঠনটি।

‘নেতিবাচক’ প্রচারের মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী স্থগিত