Published : 10 Aug 2026, 01:09 PM
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টি সম্ভারের বড় অংশজুড়ে বিস্তৃত বর্ষা ঋতু বন্দনা। সেই বর্ষাতেই তার প্রয়াণ। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দধারা আর্টস’ কবি স্মরণে আয়োজন করেছে ‘বর্ষণ মন্দ্রিত’ অনুষ্ঠানের।
পূর্ব লন্ডনের ড্রাইভ মেথডিস্ট চার্চে গেল শনিবার রবি ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আয়োজনে শামিল হন সেখানকার প্রবাসীরা। গান, কবিতা ও নাচে কবি সৃষ্টি হয়ে ওঠে মূর্ত।
আয়োজনের সূচনায় শ্রদ্ধা জানানো হয় কবিকে। সমর সাহা পরিবেশন করেন কাজী নজরুল ইসলামের রচিত হৃদয়স্পর্শী কবিতা ‘রবিহারা’; যা ১৯৪১ সালে রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের পর নজরুল রচনা করেছিলেন।
আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ গ্লিটজকে জানিয়েছেন ‘বর্ষণ মন্দ্রিত’-এর মূল ভাবনা ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘বর্ষামঙ্গল’-এর ঐতিহ্যকে ধারণ করে সংগীত, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে বর্ষা উদযাপন করা। এবং প্রকৃতি ও মানুষের আবেগের গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরা।
বর্ষার গানের সূচনা হয় দেবপ্রিয়া সরকারের সেতারের ঝংকারে। শিশু-কিশোর শিল্পীদেরও পরিবেশনা রাখা হয় আয়োজনে। তারা ছয়টি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে, সবগুলোই বর্ষার গান। সঙ্গে ছিল কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য।
নৃত্য ও সংগীতে যৌথ পরিবেশনায় ছিলেন শিল্পী আনন্দ গুপ্ত এবং দেবলীনা কুমার।
আনন্দধারা আর্টস-এর শিল্পীরা ওই সন্ধ্যায় ১৭টি গান শুনিয়েছেন, অনুষ্ঠান সমৃদ্ধ হয়ে কবিতা আবৃত্তি এবং বিশেষ আলেখ্যতে।
একক পরিবেশনায় অংশ নেন উর্বী মধুরা, পূর্বা অধরা, বৃষ্টি সাহা, আর্থিকা সাহা, ইশিতা সাহা, জিয়াউর রহমান সাকলাইন, সমর সাহা এবং ইমতিয়াজ আহমেদ।
নৃত্যশিল্পী মনিরুল ইসলাম মুকুলের নির্দেশনায় নিহারিকা, মাটি, গঙ্গা, কথা ও শুভ নাচে অংশ নেয়।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লালন ও উদ্যাপন করা এবং সারা বিশ্বে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সামঞ্জস্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সংগীতের মাধ্যমে আমরা সচেতনতা তৈরি করতে পারি এবং মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারি।”
শিল্পীদের সঙ্গে সংগতে ছিলেন বাদ্যযন্ত্র শিল্পী অমিত দে, মিলন বিশ্বাস, অনিরুদ্ধ মুখার্জি, অমি ইসলাম এবং ময়ুখজিৎ।
শব্দ সংযোজনা করেন শব্দ প্রকৌশলী আরাফাত কীর্তি। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এআর টেলিভিশন নেটওয়ার্ক। আর মঞ্চসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন গোলাম আখতার মুক্তা।