Published : 08 Aug 2026, 01:37 PM
কোভিড মহামারীকালে বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা, বাঁচার জন্য নিশ্বাস নেওয়ার তীব্র আকুতি, আর জলবায়ু সংকটে বিপন্ন প্রকৃতির জন্য শঙ্কা-এই তিন বাস্তবতার মিশেলে নির্মিত হয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা যাচ্ছে সিনেমাটি; পরিচালনা করেছেন ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ।
চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পেছনের গল্পটি ব্যক্তিগত বিষাদের। কোভিড মহামারীতে বাবাকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকে সিনেমাটি প্রযোজনার উদ্যোগ নেন মাহফুজ নাজিম।
সে কথায় নাজিম বলেন, "নিশ্বাস কত দামি! আমি সেটা অনুধাবন করেছি হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাবা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন; শেষে আমার চোখের সামনেই চলে গেলেন। সামান্য একটু বাতাসের জন্য একজন মানুষের লড়াকু আকুতি এর চেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি।"
মাহফুজ নাজিম জানিয়েছেন, সিনেমার নাম দেখে কঠিন বা দুর্বোধ্য মনে হলেও এটি মূলত বুকভরে শ্বাস নিতে পারার যে বেঁচে থাকা, সেই লড়াইয়ের গল্প।
"এটি আমার কাছে একটা ঋণ শোধের চেষ্টা। বাবাকে যে নিশ্বাসটা এনে দিতে পারিনি, সেটাই তুলে রাখলাম পর্দায়," যোগ করেন তিনি।
সিনেমায় তূর্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ এবং তন্বী চরিত্রে দেখা গেছে কাজী নওশাবা আহমেদকে।
তবে নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদের কাছে সিনেমাটি কেবল কোনো একজন ব্যক্তির জীবনের গল্প নয়; বরং বায়ুদূষণে জর্জরিত ঢাকা শহর এবং বিপন্ন পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি।
ফুয়াদ বলেন, "আমি এমন এক শহরে থাকি, যেখানে বাতাসের মান প্রতিদিনের খবরের অংশ। ঢাকায় নিশ্বাস নেওয়া এখন আর স্বাভাবিক ঘটনা নয়, হিসাবের বিষয়। তাই চলচ্চিত্রটির প্রেক্ষাপট আমার কাছে কল্পবিজ্ঞান নয়, সামান্য এগিয়ে দেওয়া বর্তমান।"
অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ এই সিনেমাকে তার অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "সিনেমাটি প্রকৃতির দেওয়া এক উপহার। জীবনকে নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে এটি।"
ইমতিয়াজ বর্ষণ বলেন, উন্নয়নের নামে যেভাবে সবুজ ধ্বংস করা হচ্ছে, তাতে কোনো একদিন সত্যিই অক্সিজেনের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
“এটি অদূর ভবিষ্যতের সেই শঙ্কারই কাব্যিক দৃশ্যকাব্য।"