১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লিভিং থিয়েটারের আদলে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

শিল্পকলার এক্সপেরিমেন্টাল হলে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় হবে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী।

লিভিং থিয়েটারের আদলে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’
‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ নাটকের দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2026, 10:48 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

নোবেলজয়ী নাদিয়া মুরাদের জীবনসংগ্রাম এবং সমকালীন বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে নাটক ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ মঞ্চে আনছে নাট্যদল ‘নাট্যধারা’। 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় হবে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী।  

‘নাট্যধারা’ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রচলিত নাট্যরীতির বাইরে গিয়ে ‘লিভিং থিয়েটার’ এর নান্দনিকতা ও পরীক্ষামূলক বিন্যাসে তৈরি হয়েছে এই নাটক। 

এ পদ্ধতিতে দর্শক ও মঞ্চের পারম্পরিক দূরত্ব কমিয়ে নাট্যঘটনাকে প্রত্যক্ষ ও অনুভবনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে শারীরিক ভাষা, প্রতীকী অভিনয়, আলো-আঁধারি ও শব্দের আবহ নাটকটির মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

আনিসুর রহমানের রচনায় নাটকটি নির্মাণ করেছেন আশীষ খন্দকার।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন নাদিয়া মুরাদ, যিনি ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এক তরুণী, উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ইউরোপে পালিয়ে গিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন। 

নাট্যধারা জানিয়েছে, এই প্রযোজনা কেবল নাদিয়ার ব্যক্তিকেন্দ্রিক আত্মজীবনী নয়; বরং এটি সময় ও ইতিহাসের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। নাটকের বিষয়বস্তুতে উঠে এসেছে যুদ্ধ, রাষ্ট্র, মৌলবাদ, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতিসত্তার ওপর আঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের মত সমকালীন একাধিক বিশ্বসংকট।

নাটকের শেষাংশে দর্শককে মুখোমুখি করা হয়েছে কিছু মৌলিক ও অস্বস্তিকর প্রশ্নের, সেটা হচ্ছে নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দোজখের শেষ মেয়ে, নাকি চলমান যুদ্ধই মানবজাতির শেষ যুদ্ধ? এমনকি বিশ্বজুড়ে জন্ম নেওয়া ‘যুদ্ধশিশু’ কি কেবলই পরিস্থিতির শিকার, নাকি পরিকল্পিত এমন সংকেত দিয়ে শেষ হয় নাটকটি।

নাটকটির সহযোগী নির্দেশক হিসেবে কাজ করছেন রিয়াদ মাহমুদ এবং মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা সামলাচ্ছেন পলাশ সেন হেনরী।

বিভিন্ন চরিত্রে মঞ্চে দেখা যাবে মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, মো. রফিকুল ইসলাম, রহিম পারভেজ, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু ও হাফসা মাহমুদ ঋদ্ধিকে।