Published : 11 May 2025, 12:58 AM
সব জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তিনি বলেছেন, "আপনারা গত কয়েক মাস যদি আমাদের কার্যক্রম দেখে থাকেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে, আমরা চেষ্টা করছি, সেটা হচ্ছে- ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী থাকতে পারে একটা দেশে, নানা ধর্মের মানুষ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা প্রত্যেকে মিলেই বাংলাদেশ।
“একজনকে ছাড়া আরেকজনকে নিয়ে বাংলাদেশটা সম্পন্ন হবে না। প্রত্যেকের যে অন্তর্ভুক্তি সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাচ্ছি।"
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক উৎসবে এসব কথা বলেন তিনি।
ফারুকী বলেন, "এবারের নববর্ষের উৎসবে দেখেছেন, বাঙালির পাশাপাশি চাকমা, মারমা, গারো, রাখাইনসহ অনেক জাতিগোষ্ঠী সেখানে সম্পৃক্ত ছিল। আমরা চাঁদরাত উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান করেছি, সেটা ছিল ৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠান। এবারে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হলো। সামনে আমরা অন্যান্য ধর্মের যারা আছেন তাদের সবাইকে নিয়েও আয়োজন করব। তারা যেন সম্পৃক্ততা অনুভব করে। তারা যেন মনে করে, এই জায়গাটা সবার এবং রাষ্ট্র আসলে সবার।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শনিবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে সাংস্কৃতিক উৎসবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
ঢাকাসহ ছয় জেলায় এবার বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে একযোগে অনুষ্ঠান আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমি।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়িতে এ উৎসব হয় বলে আয়োজকেরা জানান।
এ বছর বুদ্ধ পূর্ণিমা রোববার হলেও শিল্পকলা একাডেমি অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে বুদ্ধ পূর্ণিমার আগের দিন সন্ধ্যায়।
ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চের অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার ও বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. সুকোমল বড়ুয়া।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্বজুড়ে যে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, অসহিষ্ণুতা- তার মাঝে মহামতি গৌতম বৌদ্ধের যা শান্তির বাণী, তা আমরা অন্তরে ধারণ করি এবং সকলে মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।"
সাংস্কৃতিক পর্বে পরমেশ বড়ুয়ার পরিচালনায় মানবতাবাদী সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন বাসাবো সবুজবাগের ধর্মরাজিক ললিতকলা একাডেমির শিল্পীরা।
এছাড়া অন্তর দেওয়ানের পরিচালনায় বৌদ্ধ শিল্পীরা সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সায়ান।
পরিবেশনা শেষ হয় ব্যান্ডদল ডিফারেন্ট টাচের পরিবেশনার মধ্যদিয়ে। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে নিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরোর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার প্রচার সচিব ভদন্ত মেডিটেটর এস শাসনবংশ মহাথেরো এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ রাঙ্গুনিয়া শাখা চট্টগ্রামের সভাপতি ভদন্ত জ্ঞানবংশ মহাথেরো।
স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন।