১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিটিভির লাল-সবুজের সেই লোগো কি বদলে যাচ্ছে?

“লোগো নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও ধারণা জানতে চাওয়া হচ্ছে,” বলেন কাজী জেসিন।

নিফাত সুলতানা

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 09:59 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

স্বাধীনতা উত্তরকালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, পটুয়া কামরুল হাসান আর মুস্তাফা মনোয়ারদের মত শিল্পীদের যৌথ ভাবনায় তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ঐতিহাসিক লোগোটি। 

রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমটির সাড়ে পাঁচ দশকের পুরনো লাল-সবুজের সেই পরিচিত প্রতীকটি বদলে ফেলার প্রাথমিক পদক্ষেপে সংস্কৃতি অঙ্গনসহ নানা মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।    

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন অনুষ্ঠানমালার মানোন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার ও দুর্নীতি দূর করার মতো মৌলিক জায়গাগুলোতে নজর না দিয়ে কেন একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতীক বদলের জন্য কর্তৃপক্ষের এই তোড়জোড়?

তবে সমালোচনার মুখে বিটিভি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, লোগো বদলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি; মূলত তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ‘জেন-জি’দের সঙ্গে বিটিভির সংযোগ ঘটাতে এবং দর্শক ভাবনার একটা চিত্র পেতেই এই উদ্যোগ। 

বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর রঙিন যুগে প্রবেশ করে। সেদিন রঙিন টেলিভিশন এবং মুস্তাফা মনোয়ার পরিকল্পিত বিটিভির রঙিন লোগো (১৯৭১ এর মূল লোগোর নতুন রূপ) একইসঙ্গে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ছবি: খ ম হারুনের সৌজন্যে

বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর রঙিন যুগে প্রবেশ করে। সেদিন রঙিন টেলিভিশন এবং মুস্তাফা মনোয়ার পরিকল্পিত বিটিভির রঙিন লোগো (১৯৭১ এর মূল লোগোর নতুন রূপ) একইসঙ্গে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফেইসবুক পেইজে রোববার রাতে এক ভিডিও বিজ্ঞাপনে বলা হয়, “ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হতে পারেন আপনিও। আপনার আইডিয়া অথবা লোগো ডিজাইন পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়— logo@btv.gov.bd।" নতুন লোগোর নকশা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর। 

সেই ভিডিও ঘিরেই দুইদিন ধরে ফেইসবুকে চলছে সমালোচনা। বিটিভির সাবেক কর্মকর্তা, অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী, লেখক, সাহিত্যিক থেকে সাধারণ দর্শকরাও এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন এর যৌক্তিকতা নিয়ে। 

বিটিভির এই উদ্যোগের সমালোচনা করে গণমাধ্যমটির সাবেক উপ-মহাপরিচালক খ ম হারূন গ্লিটজকে বলেন, “বিটিভি কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পত্তি। লোগো পরিবর্তন করে তো আর প্রতিষ্ঠানের চেহারা পরিবর্তন করা যায় না। চেহারা পরিবর্তন করতে গেলে কনটেন্ট বদল করতে হয়। লোগো তো হচ্ছে একটা সিগনেচার বা স্বাক্ষর।”    

লোগো তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন তো এআই দিয়ে অনেক কিছু করা যায়। যে কেউ এআই দিয়ে একটি কাজ করে সেটা দিয়ে দিতে পারে। এটা তো আর জয়নুল আবেদীনের ছবি বা মুস্তাফা মনোয়ারের ছবির মতো এক তো হবে না।” 

খ ম হারূন বলেন, “আধুনিকীকরণ আর লোগো পরিবর্তন এক কথা নয়।” 

বিটিভির সার্বিক অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কনটেন্ট পরিবর্তন করা, দুর্নীতি দূর করা এবং নতুন নতুন বৈচিত্র্য আনা এইসব জিনিস যদি না করা যায়, শুধু বাহ্যিক রূপ পরিবর্তন করলেই পরিবর্তন করা যায় না।”  

‘এই উদ্যোগ কেন?’

লোগো পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘অপ্রয়োজনীয় ও অহেতুক’ বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত।

লোগো পরিবর্তনের এই উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটার কোনো প্রয়োজন আমি দেখি না। লোগো পরিবর্তন করা নেহাত পাগলামি কিংবা কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয় হতে পারে।”  

অনুষ্ঠানের মানোন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে আবুল হায়াত বলেন, “আমি নতুন নতুন পোশাক পরতে পারি, কিন্তু তাতে আমার ভেতরের জ্ঞান তো বৃদ্ধি পাবে না। পোশাক বদলালেই যেমন মানুষ বদলে যায় না, তেমনি শুধু লোগো বদলে বিটিভির কোনো উন্নতি হবে না। বিটিভি কর্তৃপক্ষের উচিত লোগো না বদলে তাদের সম্প্রচারিত প্রোগ্রামের মানোন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া।” 

অভিনেত্রী ডলি জহুর বিটিভির এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আমার একটাই প্রশ্ন—কেন? এটা কি সমস্যা? পরিবর্তন করতে হবে কেন? এছাড়া আমার আর কোনো কথা বলার নাই।”    

ডলি জহুর বলেন, “যারা আগে এইটার লোগো করেছেন, তারা নিশ্চয়ই, সাধারণ মানুষ করেনি। সেরকম বিজ্ঞ লোকই করেছেন। এখন যদি বিজ্ঞ লোক পাওয়া যায়, তাহলে করতে পারে। কিন্তু পরিবর্তনের ব্যাখ্যাটাও দেওয়া দরকার, তাহলে হয়তো বুঝব, তাদের এই লোগো নিয়ে এই জায়গায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তাই পরিবর্তন দরকার।”

সংগীতশিল্পী খুরশীদ আলমও একই প্রশ্ন তোলেন।    

তিনি বলেন, “না, কেন পরিবর্তন করবে, এটা তো আমি জানি না। এতগুলি লোক—জয়নুল আবেদীন থেকে আরম্ভ করে, জামিল চৌধুরী থেকে আরম্ভ করে, মুস্তাফা মনোয়ার সাহেব থেকে আরম্ভ করে, তারপর কামরুল হাসান সাহেব থেকে আরম্ভ করে প্রত্যেকেই জড়িত ছিল। কেন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।”

বিটিভির লোগো পরিবর্তনের বিজ্ঞাপন নিয়ে আগাম মন্তব্য করতে নারাজ অভিনেতা আফজাল হোসেন। 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটা প্রচলিত বিষয় তৈরি হয়ে গেছে, এটা ভাঙা দরকার। সেটা হল, কাগজ কোনো কথা বলে না বা মিডিয়া কোনো কথা বলে না, কাউকে দিয়ে বলায়। লোগো পরিবর্তনের যে কথা, সেটা মিডিয়ার আসলে দৃষ্টিভঙ্গি। আগে ইস্যুটা নিজেরা তোলেন, নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন, ভালো হচ্ছে না মন্দ হচ্ছে সেই কথাটা বলেন। তারপর আমাদের মন্তব্য শুনুন।”

বিটিভির লোগো যেভাবে তৈরি হল   

সবুজ ফ্রেমের মধ্যে টেলিভিশনের পর্দা। সেই পর্দায় উদীয়মান লাল সূর্য। লাল-সবুজের এই বিন্যাস বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি।

বিটিভির লোগো তৈরির এই ইতিহাস তুলে ধরেন খ ম হারূন। তিনি বলেন, ১৯৬৪ সালে ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) ঢাকা স্টেশন হিসেবে কাজ করত।  

বিটিভির সাবেক এই উপপরিচালক বলেন, “১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমাদের টেলিভিশনের জন্য একটি লোগো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মুস্তাফা মনোয়ারের মতো একজন শিল্পী ও কিছু বরেণ্য মানুষের উদ্যোগে এই লোগো তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। 

“এই লোগো চূড়ান্ত করতে শিল্পী জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান এবং তৎকালীন শিল্প নির্দেশনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা ইমদাদ হোসেনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তারা সবাই মিলে এই লোগোটি চূড়ান্ত করেন।”

লোগোর ক্যালিগ্রাফিক নকশা নিয়ে তিনি বলেন, “পর্দায় ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন'’ যে ক্যালিগ্রাফিক ও আর্টিস্টিক লেখাটা দেখা যায়, সেটা কিন্তু সাধারণ কোনো হরফে পাওয়া যাবে না। ওটা মুস্তাফা মনোয়ারের নিজের হাতের লেখা। পরবর্তীতে এটিকে টেলিভিশনে ব্যবহারের উপযোগী ও সংশোধন করার কাজে ইমদাদ হোসেনসহ অনেকে ভূমিকা রাখেন।”

লোগোর রূপান্তরের ইতিহাস বর্ণনা করে খ ম হারূন বলেন, “সাদাকালো আমলে লোগো সারাক্ষণ স্ক্রিনে থাকত না, অনুষ্ঠান শেষ বা শুরুর সময় দেখানো হতো। ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় যখন রঙিন টেলিভিশন চালু হয়, তখন মুস্তাফা মনোয়ারের নেতৃত্বেই এই লোগোটিকে প্রথম আধুনিক ও রঙিন রূপ দেওয়া হয়।”

এনালগ থেকে ডিজিটাল যুগে উত্তরণের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “পরবর্তীতে ২০০৯-২০১০ সালে আমি যখন বিটিভির উপ-মহাপরিচালক ছিলাম, তখন আমার উদ্যোগে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ট্রাষ্ট এর সহযোগিতায় বিটিভির গ্রাফিক্স বিভাগকে ডিজিটাল ও আধুনিক রূপ দেওয়া হয়। সে সময়ও মূল লোগোটিকে একদম ঠিক রেখেই ডিজিটাল সংস্করণের উপযোগী করা হয়েছিল।”

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের উদাহরণ টেনে খ ম হারূন বলেন, “বিবিসি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে যুগে যুগে চার-পাঁচবার তাদের লোগোর আধুনিকায়ন হয়েছে, কিন্তু বিবিসি তাদের লোগোর মূল আইডিয়া বা মূল কাঠামো কখনো পরিবর্তন করেনি।”

জাপানের এনএইচকে ও দক্ষিণ কোরিয়ার কেবিএস এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান লোগোর মূল রূপ ঠিক রেখেই সময়ে সময়ে রং বা নকশায় সামান্য পরিবর্তন আনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিটিভির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি হল-নতুন লোগোতে পুরোনো লোগোর লাল সূর্য ও সবুজ বেষ্টনী এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রবীণ শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতার ছাপ কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে?

এছাড়াও নানা ধরনের ছবি দিয়ে লোগো তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে দিতে দেখা গেছে কাউকে কাউকে, এগুলোর মধ্যে রসিকতা ও মিম থেকে শুরু থেকে নানান ধরনের ছবি রয়েছে।

ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে অহিদা সুলতানা রুনা নামের এক দর্শক লিখেছেন, “বিটিভির নতুন রূপের ভাবনাটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। তবে আমার বিনীত অনুরোধ, পরিবর্তনের এই যাত্রায় আমাদের প্রিয় বিটিভির ঐতিহাসিক লোগোটিকে যেন হারিয়ে না ফেলি। 

“এই লোগোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের শৈশব, কৈশোর, অসংখ্য শিল্পীর স্বপ্ন, দর্শকের ভালোবাসা এবং বাংলাদেশের টেলিভিশনের স্বর্ণালী দিনের অসংখ্য স্মৃতি।”

লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগকে কীভাবে দেখছেন প্রশ্নে মুস্তাফা মনোয়ারের ছেলে সাদাত মনোয়ার? 

তিনি বলেন, “এই বিষয়ে এখনো আমরা শুনিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন যদি উদ্যোগ নিয়ে থাকে তাহলে পরিবর্তন করলে করতে পারে। যেহেতু কোনো কপিরাইটের বিষয় নেই।” 

‘বিটিভির লোগো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়নি’

লোগো পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন।  

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লোগো নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও ধারণা জানতে চাওয়া হচ্ছে।”

দর্শকদের কাছে বিটিভির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন বিটিভির মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, “সাধারণ দর্শকের কাছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য আমরা কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন করছি। নতুন কনটেন্ট দেওয়া থেকে শুরু করে পুরোনো আর্কাইভ পরিবর্তন এবং বিলিং পলিসি ও নীতিমালাতেও পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করছি।”

নতুন প্রজন্মকে এ কাজে যুক্ত করতে ভিডিও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে তুলে ধরে কাজী জেসিন বলেন, “বিটিভির পর্দায় নতুন ধরনের অনুষ্ঠান যুক্ত করার পাশাপাশি পুরো স্ক্রিনকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি দর্শকদের সঙ্গে বিটিভির সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজটি করা হয়েছে।”  

লোগো পরিবর্তন নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা আসলে এমন কোনো কিছু না যে আমরা করে ফেলেছি, সেরকম না। আমরা ধারণা চাই, কে কী ভাবছেন সেটা জানতে। আমরা ইম্প্রুভ করতে চাই।” 

বিটিভির লোগোর রঙ এর আগেও পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে নতুন লোগোটির সঙ্গে দর্শকদের আবেগ ও অনুভূতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, বলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির মহাপরিচালক বলেন, “এই লোগোর সাথে আমাদের একটা ফিলিং কানেক্টেড আছে। যেসব কীর্তিমান শিল্পী এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন, কারও কাজকেই আমরা খাটো করব না।”  

লোগো পরিবর্তন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট খ্যাতিমান শিল্পীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তা করা হবে, বলেন কাজী জেসিন।

তিনি বলেন, “কোনো কিছুই ফাইনাল না। জাস্ট আমরা বুঝতে চাই যে আমরা আসলে কীভাবে পরিবর্তন করতে পারি, সেটারই একটা অংশ।”

ফেইসবুকে সমালোচনার বিষয়ে কাজী জেসিন বলেন, “কেন আপনারা ধরে নিচ্ছেন যে আমরা লাল সবুজের প্রতীক সেই লোগো পরিবর্তন করছি, সে জায়গাগুলোতে পরিবর্তন করছি? আমরা তো কোনো কিছু এখনো করিনি। করলে তারপর না আপনারা সমালোচনা করবেন।”