১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অনীকের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক স্ত্রী সন্ধি

বিচ্ছেদ বা আত্মহত্যার স্থান হিসেবে কেন সন্ধির বাসা বেছে নেওয়া হল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

অনীকের মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক স্ত্রী সন্ধি
অনীক দত্ত ও সন্ধি দত্ত।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 May 2026, 09:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

কলকাতার চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুর চার দিন পর নীরবতা ভেঙেছেন তার সাবেক স্ত্রী সন্ধি দত্ত। বলেছেন, “আমাকে দায়ী করবে বলে অনীক এই পদক্ষেপ করেনি। এটাই সত্যি।”  

সোশাল মিডিয়ায় হওয়া নানা আলোচনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। শনিবার আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটাই দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারে সন্ধি একই সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, পরিচালকের মানসিক অবস্থা, ঘটনার দিন নিয়ে প্রচার হওয়া বিভিন্ন ভুল তথ্য ধরেন।

গত বুধবার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকায় সন্ধি দত্তের বাসার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান অনীক দত্ত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন গুঞ্জন।

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অনীক দত্ত ‘প্রথমে সন্ধির ফ্ল্যাটের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন এবং সাড়া না পেয়ে ছাদে চলে যান’।

তবে এ তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবাশিস দত্ত। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে অনীক দত্ত সরাসরি ছাদে উঠে গিয়েছিলেন।

সন্ধি দত্তও একই কথা তুলে ধরে বলেন, “অনেক মাস হয়ে গিয়েছে, আমাদের মধ্যে কথা নেই। যোগাযোগতো দূরের কথা। শেষ যে দিন এসেছিল, সে দিন বেশ কিছু সময় কাটিয়ে গিয়েছিল। আমার কাছে বসে কেক, চা খেল। নানা কথা বলল। তারপর চলে গেল।”

তিনি বলেন, তাদের কন্যাসন্তান ঐশীর জন্য যেটুকু কথার প্রয়োজন, সেটুকুই যোগাযোগ ছিল তাদের। এর বেশি তিনি যোগাযোগ রাখতে চান না, সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত পরিচালককে।

সাবেক স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে সন্ধির দাবি, “আমাদের ‘কমন বন্ধু’দের কাছে অনীক অনেকবার আমার কাছে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমি ফিরব না বলেই তার হাত ছেড়েছি।”    

অনীক দত্তর মৃত্যুর পর সোশাল মিডিয়ার একাংশ সন্ধি এবং তার কন্যা ঐশীকে দায়ী করে নানা মন্তব্য করছেন। এ বিষয়ে সন্ধি বলেন, “সেই জন্যই আপাতত ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক থেকে দূরে। কিচ্ছু দেখছি না। এসব দেখতে দেখতে ক্লান্ত লাগছে।”

বিচ্ছেদ বা আত্মহত্যার স্থান হিসেবে কেন সন্ধির বাসা বেছে নেওয়া হল এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বলেন, “আমাদের বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে একটি কথাও বলব না। এমনকি কেন আমার বাড়ির ছাদ থেকেই অনীক এমন ভয়ঙ্কর মৃত্যু বেছে নিলেন, সম্ভবত সেটিও আমি আঁচ করতে পারছি। এ বিষয়ে কিছু বলব না।

“তবে অনীক আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে বলে, এ রকম কিছু করেনি। এটাই সত্যি।”   

পরিচালক অনীকের গভীর মানসিক অবসাদে ভোগার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত সাড়ে তিন বছর ধরে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা চলছিল ওর। নিয়মিত ওষুধ খেত। গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিল। এই পরিস্থিতি যাদের, তাদের যখন মনখারাপ বেড়ে যায়, তখন নিজেদের সামলাতে পারেন না। কী করতে চলেছেন, সেটাও ঠিক মত গুছিয়ে ভাবতে পারেন না।”

মেয়েকে নিয়ে এই শোক কীভাবে সামলাচ্ছেন তা নিয়ে সন্ধি বলেন,  “কোনও নারীর জীবনে এ রকম কিছু ঘটলে তাকে শক্ত থাকতেই হয়। ঐশী পূর্ণবয়স্ক। ওকে সামলাতে হয় না। সে বরং আমাকে সামলে দিচ্ছে।” 

বুধবার অনীক দত্ত চারতলা ভবনের ‘ছাদ থেকে পড়ে গেলে’ দ্রুত ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনীক দত্তের দেহে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বাঁ দিকের মাথার খুলির হাড় ভাঙা। বাঁ দিকের পাঁজর ভেঙেছে, কোমরের গাড় এবং বাঁ দিকের পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি। বাঁ দিকের মুখ, পিঠ ও কোমরে তীব্র ঘর্ষণের চিহ্ন মিলেছে। এমনকি, ফুসফুসেও রক্ত জমাট বেঁধেছিল।

পরিচালক চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় ওই ভবন সংলগ্ন গাছের ডালসহ ভেঙে মাটিতে পড়েন।

ওই ভবনের ছাদ থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে নোটটি অনীক লিখেছেন তার সুইডেন প্রবাসী মেয়ের উদ্দেশে। সেই নোটে কাউকে দোষারোপ করেননি তিনি। ছাদে একটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি খাম থেকে মিলেছে সেই ‘সুইসাইড নোট’।

বিজ্ঞাপন জগত থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসা অনীক দত্ত ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তার অন্য কাজের মধ্যে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদ বধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং সত্যজিৎ রায়ের জীবন অবলম্বনে নির্মিত ‘অপরাজিত’ আলোচিত হয়েছে।

অনীকের সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’।